প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের সময় তরুণীর মৃত্যু

0
177

স্কুলে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচয় রয়েছে তার। নম্র এবং ভদ্র স্বভাবের। তবে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে মাদকের নেশায় বুঁদ থাকতেন তিনি। উদ্দাম, অস্বাভাবিক যৌনজীবনেও অভ্যস্ত। আর এসবই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা হয়তো কখনো কল্পনাও করতে পারেননি। কিন্তু জীবনের উল্টো স্রোতে চলতে গিয়ে জীবনটাই হারাতে হলো ব্রিটেনে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৭ বছরের তরুণীকে।

ভারতীয় বংশোদ্ভুত ওই তরুণীর নাম পূরবী গিরি। দেশটির একটি গণমাধ্যম বলছে, নিজের ঘরে প্রেমিকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে আচমকা অবচেতন হয়ে পড়েন পূরবী। শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে ভর্তি করা হয় ব্রিটেনের এক নার্সিংহোমে। সেখানে তিন সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন এই তরুণী।

দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন পূরবী। ‘এ’ গ্রেড-সহ স্টার মার্ক পাওয়া এই কিশোরী ব্রিটেনের কিং এডওয়ার্ড স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। তার বন্ধুরা বলছে, প্রতিনিয়ত কোকেন, মদ-সহ অন্যান্য মাদকে ডুবে থাকতো পূরবী। অনেক সময় স্কুলেও মদ্যপান করে আসতো। এমনকি বোর্ড পরীক্ষার সময়ও নেশা করতো।

অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ পূরবীর এই অভ্যাসের জন্য কিছু বলতো না বলে দাবি তার সহপাঠীদের। মাদক নেয়ার কারণে বোর্ড পরীক্ষার আগে পূরবীর অবস্থা গুরুতর খারাপ হয়েছিল। এর ফলে প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিত থাকত।

তবে বন্ধুদের এই মন্তব্য সমর্থন করেননি পূরবীর মা, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিভা গিরি। মেয়ের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত মা বলেন, আমার সুন্দর, মেধাবী মেয়ের মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছি। কেউ কেউ না জেনে ওর নামে খারাপ অভ্যাসের অভিযোগ করছে। তবে এমন কিছুই করতো না পূরবী।

ব্রিটিশ পুলিশ বলছে, বার্মিংহামের বাসিন্দা চিকিৎসক দম্পতির মেয়ে পূরবী। তাদের বিলাসবহুল বাড়ির মূল্য প্রায় ১০ লাখ ইউরো। পদার্থ বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার শখ ছিল পূরবীর। স্কুল ছুটির দিন পূরবী ১৯ বছরের প্রেমিককে বাড়িতে ডাকে। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়। আচমকা অবচেতন হয়ে পড়লে দ্রুত পূরবীর বাবা-মাকে ফোন করে ডাকে প্রেমিক।

পূরবীর বাবা হিপ ও নি-রিপ্লেসমেন্ট সার্জন ডা. সীতারাম গিরি নিজের হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি করেন। প্রেমিকের আঘাতে পূরবীর শরীর দিয়ে এত রক্তক্ষরণ হয়েছে কি-না তা জানতে প্রেমিককে আটক করে পুলিশ। মেডিক্যাল পরীক্ষায় পূরবীর রক্তে ও মূত্রে অতিরিক্ত কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। কোকেনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেই হার্ট অকেজো হয়ে পূরবীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বার্মিংহাম পুলিশ।

তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রেমিককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এডওয়ার্ড স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, পূরবী ইনস্টাগ্রামে তার ডাকনামের জায়গায় লিখে রাখত, ‘পোকেন’।

কোকেন ও মারিজুয়ানাকে একসঙ্গে অশ্লীল ভাষায় পোকেন বলে। নিজের মাদক ব্যবহারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অন্যদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করতো পূরবী। জিহ্বায় মাদক নিয়ে সেই ছবিও পোস্ট করতো।

তার এক বন্ধু বলছে, মেধাবী ছাত্রী হলেও পূরবী খুব অ্যাডভেঞ্চারার্স ছিল। টেনিস খেলতে ভালবাসতো পূরবীর স্মৃতির উদ্দেশে টেনিস কোর্টে একটি বেঞ্চ তার নামে উৎসর্গ করেছে বার্মিংহামের এডওয়ার্ড স্কুল।