রাতে ছাদে হাঁটতে হাঁটতে বিসিএসের প্রস্তুতি নিতেন সোনিয়া

0
229

সোনিয়া মুন্নী একজন বিসিএস ক্যাডার। বাবা মো. শাহজাহান মিয়া, মা বিলকিস বেগম। তার জন্ম ৮ ফেব্রুয়ারি। পড়াশোনা করেছেন বুকাবুনিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংস্থাপন শাখায় সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তার পড়াশোনা ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন।

আপনার ছেলেবেলা কেমন কেটেছে?
সোনিয়া মুন্নী: ছেলেবেলার কথা বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মেঠোপথ, নদী, পুকুর, খাল, ফসলের মাঠ আর গাছগাছালি ঘেরা ছোট্ট সুন্দর গ্রামের বাড়ি। গ্রামীণ প্রকৃতির সান্নিধ্য ও গ্রামীণ জীবনের সরলতায় বেড়ে উঠেছি। আমার ছেলেবেলা কেটেছে নির্মল আনন্দে। স্কুল থেকে ফিরে সারা বিকেল খেলাধুলা করতাম। সন্ধ্যা হলে পড়তে বসতাম। কিছুক্ষণ পড়াশোনা করে বিটিভির নাটক দেখতাম। বাবা-মা আমাদের পড়াশোনার ব্যাপারে সবসময়ই সচেতন ছিলেন। বর্তমানে বাচ্চাদের পড়াশোনা আর রেজাল্ট নিয়ে বাবা-মায়েরা যেভাবে উদ্বিগ্ন থাকেন; আমার বাবা-মা কখনোই তেমন ছিলেন না। সারাক্ষণ পড়তে হবে বা খুব ভালো রেজাল্ট করতেই হবে, এমন কোন প্রেসার কোনদিনই তারা দেননি। ফলে আমি পেয়েছি চমৎকার একটি শৈশব।

পড়াশোনায় কোন প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
সোনিয়া মুন্নী: নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এ কারণে যে, পড়াশোনায় ছোটবেলা থেকে অর্থনৈতিক কিংবা পারিবারিক কোনরকম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়নি। বাবা-মা দু’জনই চাকরি করতেন। তাদের ছেলেসন্তান নেই। তারা চেয়েছিলেন, মেয়েদের এমনভাবে মানুষ করতে যেন যোগ্যতায় কোন অংশেই ছেলেদের থেকে কম না হয়। বাবা-মায়ের একমাত্র লক্ষ্য ছিল মেয়েদের উচ্চশিক্ষা আর মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আবার বিয়ের পর যখন বিসিএসের জন্য পড়াশোনা করেছি, সেখানেও বিন্দুমাত্র প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়নি। আমার শ্বশুর এবং স্বামী দু’জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। পড়াশোনার জন্য চমৎকার একটি পরিবেশ এবং সাপোর্ট সবসময় তাদের কাছ থেকে পেয়েছি। আর শাশুড়ি পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ঠিক আমার মায়ের মতোই।

বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
সোনিয়া মুন্নী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামছুন্নাহার হলে থাকতাম। হলে বড় আপুদের ক্যাডার হতে দেখে বিসিএসের প্রতি এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। হলের রিডিংরুমে, লাইব্রেরিতে দেখতাম সিনিয়র আপুরা বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরপর বিসিএস রেজাল্টের সময় হলে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হতো। কতজন ক্যাডার হলো, কোন আপু কী ক্যাডার পেল- এসব নিয়ে ক্যান্টিন, ডাইনিং, টিভিরুম সব জায়গায় আলোচনা চলতো। আমি তখন বোধহয় সেকেন্ড ইয়ারে। হলের রিডিংরুমে আমার পাশের চেয়ারে বসে যে আপুটা পড়তেন, তিনি অ্যাডমিন ক্যাডার পান। ব্যাপারটা আমাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিল। এরপর আমার হলের স্বর্ণালী দিদি ৩০তম বিসিএসে ফরেন সার্ভিসে যোগদান করেন। তখন দেখলাম, তিনি পররাষ্ট্র ক্যাডার পাওয়াতে তার সাফল্যকে অনেক বড় করে দেখছে সবাই। আর সত্যি বলতে, তখনো পররাষ্ট্র ক্যাডার সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারণাই ছিলো না। স্বর্ণালীদি আর আমি হলে একই ফ্লোরে থাকতাম। মনে আছে, একদিন দিদির রুমে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, পররাষ্ট্র ক্যাডার আর অ্যাডমিন ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য কি! দিদি আমার এমন প্রশ্ন শুনে হেসে বলেছিলেন, ‘তোমাকে কিভাবে বোঝাই। এই ধরো সহজভাবে বললে, অ্যাডমিনে যারা জয়েন করেছে তাদের দেশের মধ্যে জেলায় জেলায় পোস্টিং হবে। আর পররাষ্ট্রতে যারা, তাদের দেশে দেশে পোস্টিং হবে।’ স্বর্ণালীদিকে দেখেই সম্ভবত সেদিন পররাষ্ট্র ক্যাডারের স্বপ্ন দেখেছিলাম! ভাবতে ভালো লাগে যে, দিদি আর আমি এখন একই সার্ভিসে সহকর্মী। এছাড়া পরিচিত এবং পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন ৩১ ও ৩৩তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করেছিলেন। যেটা আমাকে উৎসাহিত করেছিল। অন্যদিকে, আমার বোন বিসিএস ক্যাডার হওয়াতে বাবা-মা ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। তারা চাইতেন, আমিও বিসিএস ক্যাডার হই। এভাবেই বিসিএসের স্বপ্ন দেখা।

বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই—
সোনিয়া মুন্নী: বিসিএস যাত্রাটা আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট বা সেকেন্ড ইয়ারে শুরু করেছিলাম এমন না কিন্তু। ডিপার্টমেন্টের পড়াশোনাটা বরাবরই সিরিয়াসলি করতাম। বিভিন্ন রেফারেন্স বই ঘেটে সবসময় নিজে নোট করে পড়তাম। অনার্স ফাইনালের পরে বন্ধু-বান্ধবের দেখাদেখি বিসিএসের বই কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু মাস্টার্সের ক্লাস শুরু হলে আবার একাডেমিক পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। মাস্টার্স চলাকালীন তেমন কোন প্রস্তুতি ছাড়াই ৩৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেই। এইচএসসি পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে ছিলাম। সব বিষয়েই বেসিক তাই মোটামুটি ভালো ছিল। এছাড়া ইউসিসি কোচিংয়ে ক্লাস নিতাম। তাই সাধারণ বিষয়গুলো চর্চার মধ্যেই ছিল। সেজন্য প্রিলিমিনারি পাস করাটা সহজই ছিল আমার জন্য। কিন্তু ৩৩তম বিসিএস রিটেনের সময় একদিকে মাস্টার্স পরীক্ষা অন্যদিকে বিয়ে—এ দু’য়ের ব্যস্ততার মধ্যে রিটেন দিয়েছিলাম। তাই প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি ততটা। তাছাড়া একটা মজার ঘটনাও আছে। সেবার ৩৩তম বিসিএসে রিটেন পরীক্ষা অনিবার্য কারণে পিছিয়ে দিতে হয়েছিল পিএসএসসিকে। পরীক্ষার নতুন সিডিউলে বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা যখন হলো, সে দিনটায় আমার বিয়ের তারিখ পারিবারিকভাবে বেশ আগেই নির্ধারণ করা ছিল। তাই আমি ওই পরীক্ষাটা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং পরীক্ষা না দিয়ে বিয়ে করেছিলাম সেদিন! এরপর ভাইভাটা বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়ে দিলেও ৩৩তম বিসিএসের ফলাফল ছিল নন-ক্যাডার। আসলে এত প্রতিযোগিতামূলক একটা পরীক্ষায় খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি না নিয়ে অংশগ্রহণ করলে পাস করা হয়তো যায় কিন্তু ক্যাডার হওয়া যায় না। ৩৩তম বিসিএস থেকে এ শিক্ষা আমি নিয়েছিলাম। এজন্য ৩৪তম বিসিএসের প্রস্তুতিটা বেশ ভালোভাবেই নিয়েছিলাম। এমনকি লিখিত পরীক্ষার আগে ফেসবুকসহ সব সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলাম। দিন-রাত বাসায় অনেকটা রুটিনমাফিক পড়াশোনা করতাম। তখন শুধু বিসিএস গাইড না, অনেক প্রাসঙ্গিক বই, ম্যাগাজিন, নিউজ পেপার পড়তাম। লিখিত পরীক্ষার জন্য আমি টপিক ধরে প্রস্তুতি নিতাম। আর যে টপিকটা শিখতাম, চেষ্টা করতাম এমনভাবে শিখতে যাতে ওই টপিক থেকে যে প্রশ্নই আসুক আমি যেন শতভাগ শুদ্ধ উত্তর দিতে পারি।

আর আমি যেহেতু বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী হয়ে ফরেন অ্যাফেয়ার্স ফার্স্ট চয়েজ দিয়েছিলাম, জানতাম আমি খুব কঠিন ভাইভার মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম। আর ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা বেশ ভালোই দিয়েছিলাম। লিখিত পরীক্ষার পরপরই ভাইভার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম। ভাইভার জন্য বিভিন্ন বই, নিউজ পেপার, টিভি নিউজ ছাড়াও ফেসবুকের বিভিন্ন বিসিএস গ্রুপ থেকে নিয়মিত প্রস্তুতি নিতাম। এমনকি রাতের খাবারের পরে আমি আর আমার স্বামী যখন ছাদে হাঁটতে যেতাম; তখন সে আমাকে বিসিএস ভাইভার স্টাইলে বিভিন্ন প্রশ্ন করতো এবং আমি উত্তর দিতাম। এভাবে প্রস্তুতির দিনগুলোতে প্রত্যেকটি মুহূর্তকে আমি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিলাম।

যা হোক, গল্পের এখানেই শেষ নয়। ৩৪তম বিসিএসের ফাইনাল রেজাল্ট পাবলিশ না হওয়াতে ৩৫তম বিসিএসের প্রিলি পাস করে ততদিনে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম। ৩৫ এর লিখিত পরীক্ষার ঠিক এক-দুই দিন আগে ৩৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত রেজাল্ট দেয়। সেই দিনটাই সম্ভবত আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিল। নিজের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভালো লেগেছিল পরিবারের সবার আনন্দ দেখে। সন্তান হিসেবে বাবা-মাকে গর্বিত করতে পারার মতো আনন্দের আর সৌভাগ্যের বোধহয় পৃথিবীতে আর কিছু নেই।

যারা পররাষ্ট্র ক্যাডার হতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ—
সোনিয়া মুন্নী: যেহেতু পররাষ্ট্র ক্যাডার পেতে হলে সবসময়ই বিসিএস পরীক্ষার মেধাতালিকায় প্রথম দিকে থাকতে হয়। তাই চেষ্টা থাকতে হবে সর্বোচ্চ নম্বর কিভাবে পাওয়া যায়। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে হবে। সেক্ষেত্রে বর্ণনামূলক উত্তর লেখার থেকে পয়েন্ট বা সাবপয়েন্ট দিয়ে, বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ফিগার, চার্ট, গ্রাফ, উৎসসহ স্ট্যাটিসটিকস ব্যবহার করলে তুলনামূলকভাবে ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব। আর ইংরেজিতে ভালো দখল থাকতে হবে। অনেকে হয়তো বলবে যে, পররাষ্ট্র ক্যাডার পেতে হলে খুব ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড থাকতে হয়। মানে খুব ডিমান্ডিং কোনো সাবজেক্টে, খুব ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকতে হয়, সুদর্শন হতে হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলোর কোনটাই আসলে ঠিক না। তবে হ্যাঁ, তুমি যেখানেই পড়াশোনা করো আর দেখতে যেমনই হও, তোমাকে যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়। পিএসসি তোমার সাবজেক্ট বা বিশ্ববিদ্যালয় কতটা ভালো তা বিচার করবে না, বিচার করবে ব্যক্তি তুমি মেধায় আর যোগ্যতায় কূটনৈতিক হওয়ার যোগ্য কি-না। তাই যাদের স্বপ্ন পররাষ্ট্র ক্যাডার, তাদেরকে বলবো সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই নিজস্ব স্টাইলে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করো, এলোমেলো ভাবে না। শুধু ভালো পরীক্ষার মাধ্যমেই তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যি করতে পারো। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, নিজের উপর বিশ্বাস রেখে আর লক্ষ্যে অটুট থেকে কঠোর পরিশ্রম করো, সফল তুমি হবেই।

কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কি?
সোনিয়া মুন্নী: আমি পরিবারের কাছ থেকে সবসময়ই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আমার বাবা এবং আমার স্বামী আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করেছেন। আর আমার মা সরকারি চাকরি করতেন। ছোটবেলা থেকে নিজের অজান্তেই মাকে দেখে দেখে নিজেকে সুশিক্ষিত, স্বাধীন, সাবলম্বী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চেয়েছিলাম। তবে আমি বলবো, আমার আত্মবিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। মানুষ তার মেধা, পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে যে কোন কিছু অর্জন করতে পারে। আসলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের যে প্রত্যন্ত গ্রামে আমার জন্ম; সেখানে ৯০% মেয়েদের শিক্ষাজীবন স্কুলেই শেষ হয়ে যায়। আমি আমার গ্রামের প্রথম মেয়ে, যে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আমিই বাংলা বিভাগের প্রথম ছাত্রী, যে বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করেছি। আমি বিশ্বাস করি, আমার আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম আর সবার ভালোবাসাই আমাকে জয়ী করে।

আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
সোনিয়া মুন্নী: একজন কূটনীতিক হিসেবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের সততা আর নিষ্ঠার সাথে সর্বোচ্চ সেবা করতে চাই। আর একজন মানুষ হিসেবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। এখনই নিজের সাধ্যমতো তা করার চেষ্টা করি। তবে ইচ্ছে আছে, ভবিষ্যতে এতিমখানা আর বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার। আমার বাবা-মা গ্রামে স্কুল করেছেন, মসজিদ করেছেন। তাদের কাজগুলোর মতো আরও কিছু ভালো কাজ করতে চাই নিজের গ্রামে। চাই গ্রামের মেয়েরা যাতে আমার মতো পড়াশোনা করার সুযোগ পায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। আমার গ্রামটা আসলেই খুব অনুন্নত। বর্ষাকালে এখনও হাঁটু পর্যন্ত কাদা পানির মধ্য দিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয়। এ গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করা আমি নিজের দায়িত্ব মনে করি। আর এর বাইরে একান্ত নিজের সম্পর্কে বলতে হলে বলবো, নিজে একসময় টুকটাক লেখালেখি করতাম। সার্ভিসে জয়েন করার পরে খুব একটা সময় পাই না। ইচ্ছে আছে, নিকট ভবিষ্যতে লেখালেখিটা আবার শুরু করার।