প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির পাঁচ নেতার মনোনয়নপত্র গ্রহণে হাইকোর্টের নির্দেশ

0
139

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে বিএনপির পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিএনপির এই প্রার্থীরা হলেন, নীলফামারী-৪ আসনের আমজাদ হোসেন সরকার, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, নীলফামারী-৩ আসনের ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, নওগাঁ-৫ আসনে নাজমুল হক এবং পঞ্চগড়-১ আসনে তৌহিদুল ইসলাম। তারা সকলেই নিজ নিজ এলাকার পৌর মেয়র পদে বহাল রয়েছেন।

পৃথক কয়েকটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রবিবার (৯ ডিসেম্বর) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনকারী প্রার্থীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আদালত রিটের শুনানি শেষে এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাতিলের যে আদেশ দিয়েছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন আপিল আদেশের মাধ্যমে সেই বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিলেন- তা স্থগিত করেছেন আদালত। পাশাপাশি রিটকারীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাদের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘বিএনপির পাঁচ প্রার্থীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলাম। তারা সকলেই পৌরসভার মেয়র পদে বহাল আছেন। কিন্তু লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে চাওয়ার কারণে রিটার্নিং অফিসার তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। আমরা সেই আদেশের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলাম। কিন্তু সে আপিলও নামঞ্জুর হয়। এরপর সেই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করি।’

তিনি বলেন, ‘শুনানি শেষে আদালত বলেছেন পৌরসভার মেয়র পদটি লাভজনক পদ নাকি লাভজনক পদ নয়- তা রুলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়া নিষ্পত্তি করা সম্ভব না।’

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, ‘আমি আদালতকে বেশ কিছু রায় দেখিয়ে বলেছি, এছাড়া এর আগেও আদালতের অন্য রায়ে বলা হয়েছে- পৌরসভা মেয়র বা চেয়ারম্যানের পদটি লাভজনক নয়। আমি আদালতকে আগের আরও রায় দেখিয়েছি যেখানে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি রায়ে- সংসদ সদস্য যারা তাদের পদটিও লাভজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং আদালতে আমাদের যুক্তি ছিল, সংসদ সদস্যরা লাভজনক পদে থেকে যদি নির্বাচন করতে পারেন তবে পৌরসভার মেয়ররা স্বপদে থেকে কেন নির্বাচন করতে পারবেন না।’