দিল্লিতে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা, অসহনীয় পরিস্থিতি

অনেক চেষ্টা করেও দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না ভারত রাজ্য সরকার। দুই দিন আগেই এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, দিল্লি এখন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যধিক হওয়ায় শহরটিতে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে চার দিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখারও ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। গত সপ্তাহে দীপাবলি উৎসবের পর থেকেই দিল্লিতে বায়ুদূষণের মাত্রা আবার লাগামছাড়া হয়েছে। ভারতের পরিবেশদূষণ পরিমাপক কর্তৃপক্ষ (ইপিসিএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দিল্লির বায়ুদূষণ ‘সিভিয়ার প্লাস’ বা চরম জরুরি পর্যায়ে উন্নীত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারির পর দিল্লির আকাশ এতটা বিষাক্ত এই প্রথম হলো। দূষণের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইপিসি এর চেয়ারপার্সন ভুড়ে লাল জানিয়েছেন, দূষণের মাত্রা কিছুটা সহনীয় মাত্রায় না আসা পর্যন্ত লোকদের খোলা জায়গায় শরীরচর্চা করতেও বারণ করা হয়েছে। শিশু, বয়স্ক ও নাজুক লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে দিল্লির বায়ুমণ্ডলের এমন ভয়াবহ অবস্থার জন্য প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের দায়ও দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, বছরের এই সময়টায় ওই দুই রাজ্যের কৃষকেরা ফসল কাটার পর উচ্ছিষ্ট অংশ আগুনে পুড়িয়ে দেন, যার ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় দিল্লির আকাশ। কেজরিওয়ালের এমন অভিযোগের পর পাল্টা তোপ দেখিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাবাদেকার। কেজরিওয়াল ‘ব্লেম গেম’ খেলছেন অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, ‘হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের ওপর দোষ চাপিয়ে এ পরিস্থিতির সমাধান পাওয়া যাবে না। দোষ চাপানো বন্ধ করে তিনি (কেজরিওয়াল) বরং মোদিজির পরামর্শ (দিল্লির আশপাশের পরিবেশ দূষণকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া) অনুসরণ করতে পারেন।’