ছেলেদের চুল পাকা ও টাক পড়া সমস্যার সঠিক সমাধান

দৈনন্দিনের কর্মব্যস্ততায় এমনকি দূষণের প্রভাবে ছেলেদের চুল নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। যার ফলে চুল পাকা, টাক পড়াসহ খুশকি এমনকি নানা সমস্যার হয় চুল।
মূলত চুল পাকার কারণ হলো চুলের গোড়ায় থাকা মেলানোসাইট। বিভিন্ন কারণে মেলানোসাইট ক্ষতিগ্রস্ত হলেই চুল সাদা হয়ে যায়। অনেক সময় চুলের গোড়াায় খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে অল্প বয়সে ছেলেদের মাথার চুল পেকে যায় বা সাদা হয়ে যায়।

টাক পড়া
মাথায় অকালে টাক পড়া ও চুল পাকা প্রায় একই কারণে হয়ে থাকে। টাক পড়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বলা যায়, যা শুরু হয় কপালের দুই পাশে রগের কাছ থেকে। তারপর ক্রমেই বাড়তে থাকে মাথার সামনের দিকে এবং এটা আস্তে আস্তে পেছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প বয়সে চুল পড়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী থাইরয়েড গ্রন্থির অ’সুখ। র’ক্তস্বল্পতা, ওজন কমানোর জন্য খাওয়া-দাওয়া একদম কমিয়ে দেয়াও চুল পড়াার কারণ হতে পারে।

ছেলেদের চুলের যত্নের কিছু দরকারি টিপস

তবে পাকা চুলের ব্যাপারে বংশগত ধারা একটি প্রধান কারণ। পাকা চুল ঢাকতে চুলে কালার করা যেতে পারে। একবার চুল পাকলে তার প্রতিকার করা যায় না। তবে হেয়ার ট্রিটমেন্ট চুল পাকা থেকে কিছুটা রোধ করে। চুল পাকা কমাতে হরতকী’, মেহেদি পাতা ভালো’ভাবে ফুটিয়ে টনিক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে চুল পাকা কমে যেতে পারে। এছাড়া জবা ফুল, গন্ধ’রাজ, আমলা বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগালে চুল কালো ও উজ্জ্বল হয়।

খুশকি

খুশকি যদিও কোনো রোগ বা রোগের লক্ষণ নয়। নিজের চিরুনি, ব্রাশ, তোয়ালে, বালিশের কভার যথাসাধ্য পরিষ্কার এবং আলাদা রাখলে। তাতেই খুশকি অনেক কমে যাবে।

* মেথিবাটা, পেঁয়াজ, নিমপাতা, লেবুর রস, ট’কদই একসঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখু’ন। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন। আপনার ব্যবহৃত চিরুনি ডেটল পানিতে ধুয়ে নিন।

খুশকি দূর করুন এই উপায়ে
খুশকি দূর করুন এই উপায়ে

* ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগালেও খুশকি কমে যেতে পারে।

* অ’তিরিক্ত খুশকি তাড়াতে মাথায় তেল দেয়া বন্ধ রাখতে হবে। খুশকিরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখতে হবে। একদিন পরপর শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে খুশকি কমে যেতে পারে।

* ট’কদই ও মেহেদি বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো মাথার চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। পানি দিয়ে ভালোমতো ধুয়ে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। দু-তিনবার ব্যবহারে খুশকি চলে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে অনেক সুন্দর। দুই থেকে তিন দিন বা সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করলেই হবে।

* তিলের তেল, মেথি গুঁড়া করে মিশিয়ে ১৫ দিন রেখে দিতে হয়। তারপর ওই তেল দুই মাস ব্যবহার করতে হবে। তাতে খুশকির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি চুল পড়াও অনেক কমে যাবে।

* কাঁচা পেঁয়াজের রস খুশকি দূর করে।

* পুরনো তেঁতুল গু’লিয়ে মাথায় কিছুক্ষণ লাগিয়ে, পর ধুয়ে ফেললে খুশকি দূর হবে।