পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আম, কত দাম আর কিভাবে চাষ করা হয় দেখলে অবাক হবেন

0
40

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আম- ফল আমাদের প্রায় সবারই কম বেশি খাওয়া হয়। গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হওয়ায় প্রায় সব ধরনের ফলই পাওয়া যায় আর দামটাও থাকে আমাদের সাধ্যের মধ্যে। তবে সব জায়গায় কিন্তু এক নয়। সাধারণত আমরা কেজি দরে ফল কিনি। খুব বেশি হলে ফলের কেজির জন্য আমাদের হাজার টাকা গুণতে হয়।







কিন্তু কেমন লাগবে একটা ফল কিনতেই আমাদের হাজার দশেকের বেশি টাকা গুণতে হলে? যেখানে এই টাকায় একটা ছোট নিম্নবিত্ত পরিবারের কষ্টে-সৃষ্টে এক মাস চলে যায়। চলুন দেখা যাক পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আম







ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আরোও পড়ুন-







১০। সেকাই-ইচি আপেল (Sekai-ichi Apple)- আমেরিকায় এক কেজি আপেলের দাম ৫ ডলার কিংবা ৬ ডলার। কিন্তু যদি এরকম হয় যে একটা আপেলের জন্যই গুনতে হয় ২১ ডলার? হ্যাঁ, একটি সেকাই-ইচি আপেল কিনতে হলে আপনাকে গুণতে হবে ২১ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ১৮০০ টাকা। এর একেকটি আপেলের ওজন প্রায় এক কিলোর মতো আর উৎপাদন হয় জাপানে। সাইজে খুবই বড়। এই আপেল গুলো মধু দিয়ে ধোয়া হয় আর নিশ্চিত করা হয় যাতে এতে কোনো ধরনের খুঁত না থাকে।







৯। ডেকোপন (Dekopon)- সফটবলের সমান সাইজের ডেকোপন কমলা ও মাল্টার একটি সংমিশ্রন। ১৯৭২ সালে জাপানে প্রথমবারের মতো উৎপাদন করা হয়। জাপান ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়াতেও এটি পাওয়া যায়। ক্যালিফোর্নিয়ায় এর নাম সুমো(sumo)। কথিত আছে এটি নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে মজার কমলালেবু। ৬টি ডেকোপন কিনতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ৭৯ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৫০০ টাকা। এটি দেখতে মাল্টার মতো হলেও একটু আলাদা।







৮। চারকোণা তরমুজ (Square watermelon)- আমরা সব সময় গোল তরমুজ দেখে এসেছি। কিন্তু চারকোণা তরমুজও হয়। জাপানে বিশেষভাবে তৈরী হয় চারকোণা তরমুজ। এর একেকটির ওজন প্রায় ১৩ পাউন্ড। এটি উৎপাদন করা হয়েছিল যাতে খুব সহজে একে ফ্রিজে রাখা যায় আর কাটতেও যাতে সুবিধা হয়।







তরমুজ গুলো বড় হওয়ার সময় এর চারপাশে বক্স করে দেওয়া হয় যাতে এটি চারকোণা হয়ে বড় হয়ে ওঠে। রাশিয়ায় এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। একটি তরমুজের দাম ৮০০ ডলার। প্রায় ৬৬০০০ টাকা। তবে চাইলে কেউ ২০০ ডলার দিয়ে এর চেয়ে ছোট তরমুজ কিনতে পারবে কিংবা ৫০০ দলার খরচ করে কিনতে পারবে পিরামিড এর মতো তরমুজ।







৭। স্ট্রবেরি- একসময় আমাদের স্ট্রবেরি নিয়ে খুব ফ্যান্টাসি ছিল। এখন সেই স্ট্রবেরির ভর্তাও খেতে পারি আমরা। কত আর দাম একটা ভর্তার? ১০ টাকা কি ২০ টাকা তাও আবার বেশ কয়েকটা থাকে।







কিন্তু কেমন লাগবে যদি একটা স্ট্রবেরির জন্য আমাদের কে ৩,৬৪,৩৫০ টাকা বা ৪,৩৯৫ ডলার গুণতে হয়? হ্যাঁ, একটা স্ট্রবেরির দামই এটা। জাপানের নিচিয়োস ফার্মে (Nichios farm) এর উৎপাদন হয়। একেকটি স্ট্রবেরির সাইজ একটা গলফ বলের সমান। একটি স্ট্রবেরি পরিপূর্ন ভাবে বড় হতে ৪৫ দিন সময় লাগে। সারা বছরে মাত্র ৫০০টি স্ট্রবেরি উৎপাদন করা হয়।







৬। রুবি রোমান আঙ্গুর (Ruby Roman Grapes)- ২০১১ সালে জাপানের কানাযাওয়াতে(Kanazawa) এক নিলামে এই আঙুর বিক্রি করা হয়েছিল। এর একটি আঙুরের দাম হয়েছিল ৩০০ ডলার বা তার চেয়ে বেশি। যা বাংলাদেশি টাকায় ২৬,৫০০ টাকা। একে রুবি রোমান আঙুর বলা হয়। এর একেকটির সাইজ পিং পং বলের সমান। সুপারমার্কেট থেকে ৯৭০০ ডলার বা ৮,০৪,১৫৯ টাকা খরচ করে একগুচ্ছ রুবি রোমান আঙুর কিনলে ৩০টি আঙুর পাওয়া যায়।







৫। ডেনসুকে তরমুজ (Densuke Watermelon)- টোকিও ও সারা জাপানজুড়ে সেমবিকিয়া ফ্ল্যাগশিপ(Sembikiya flagship store) বিক্রি হওয়া এই তরমুজটিও দামি ফল গুলোর মাঝে একটি। কাল চামড়া ও দাগহীন এই তরমুজ গুলোর গড় ওজন ১১ কিলো। বলা হয়ে থাকে এগুলোর আলাদা একধরনের মিষ্টি স্বাদ রয়েছে।







জাপানের উত্তর-পশ্চিম দ্বীপ হক্কাইডোতে একচেটিয়াভাবে উৎপাদিত হয়, প্রতি বছর কেবল ১০০ ডেনসুক চাষ হয়। ২০০৮ সালের এক নিলামে ১৭ পাউন্ডের একটি ডেনসুক তরমুজ বিক্রি হয়েছিল ৬১০০ ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় ৫,০৫,৭০৮ টাকা।







৪। আনারস- রাস্তায় আমরা অনেক সময় ছোট ছোট আনারস খাই। আবার বাসাতেও আনারস আনি। খুব বেশি হলে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম পড়ে। কিন্তু একটা আনারসের জন্য কি কেউ ১৬০০ ডলার খরচ করবে যা বাংলাদেশি টাকায় ১,৩২,৬৪৫ টাকা? কিন্তু এটা সাধারন কোন আনারস নয়।







ইংল্যান্ডে দ্য লস্ট গার্ডেন অব হেলিগানে (The Lost Gardens of Heligan) শুধু চাষ হয় এই আনারস। আনারস গুলো পুরোপুরি ভাবে তৈরি হতে ২ বছর সময় লাগে। তাও আবার প্রাচীন ভিক্টোরিয়ান নিয়মানুসারে চাষ করা হয়। এই বিশেষ আনারস চাষে ব্যবহার করা হয় খড়, সার ও ঘোড়ার মূত্র।







একেকটি আনারসের সাইজ ৬ ইঞ্চির চেয়ে বেশি নয়। এই আনারস চাষে অনেক শ্রমের প্রয়োজন হয়। তাই এগুলো কখনো বিক্রি করা হয় না। বরং বাগানের কর্মীদের উপহার দেওয়া হয় তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য। তবে হেলিগান ফার্ম থেকে বলা হয়েছে চ্যারিটি জন্য কেউ যদি ১০,০০০ ডলার দিয়ে নিলামে আনারস কিনতে রাজি হয় তবেই তারা আনারস বিক্রি করবে।







৩। নর্দান টেরিটরি আম (Northern Territory Mangos )- আমের সিজন চলে এসেছে বলাই যায়। আর বেশি দিন বাকি নেই। ২০১২ সালের সিডনীতে এক নিলামে ১২ টি নর্দান টেরিটরি(Northern Territory) আম বিক্রি হয়েছিল ৫০০০০ ডলারে যা বাংলাদেশি টাকায় ৪১,৪৫,১৫০ টাকা।







না, এই আমগুলোর তেমন বিশেষত্ব নেই বরং পুরো নিলামের উদ্দেশ্যই ছিল চ্যারিটি। এই পুরো টাকাটাই দুই অস্ট্রেলিয়ান ক্যান্সার দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই আমগুলো অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চল থেকে এসেছে। এলাকাটি আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত একটি এলাকা।







২। স্ট্রবেরি আরনড (Strawberries Arnaud)- এটা একক কোন ফল নয়। বরং এক প্রকার ডেজার্ট বা মিষ্টান্ন। নিউ অরলিন্সের লুইসিয়ানাতে পাওয়া এই ডেজার্টির মূল্য ১.৪ মিলিয়ন বা বাংলাদেশি টাকায় ১১,৬০,৬৪,২০০ টাকা। কিন্তু কেন এতো দাম? কারণ শুধু স্ট্রবেরি নয় এর সাথে ৪.৭ ক্যারেটের একটি গোলাপি ডায়মন্ডের রিংও পরিবেশন করা হয়।







ডায়মন্ডের আংটিটি একসময় ইংলিশ জেন্টেলম্যান স্যার আর্নেস্ট ক্যাসেলের (Ernest Cassel) মালিকানায় ছিল। এই স্ট্রবেরি গুলো রুবি পোর্ট(ruby Port), বারগান্ডি ওয়াইন(Burgundy wine), লবঙ্গ(cloves), দারুচিনি এবং চিনি দিয়ে একটি বন্ধ থালা বা প্যানের মধ্যে ধীরে ধীরে রান্না করা হয়। তারপর ভ্যানিলা আইসক্রীম এবং হালকা হুইপড(whipped ) ক্রিম এর সাথে আংটি সহ পরিবেশন করা হয়।







১। ইয়ুবারি কিং মেলনস (Yubari King Melons)- জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপে চাষ হওয়া হালকা কমলা রঙ এর দোআশ এই মেলনগুলো বিখ্যাত তাদের মিষ্টি স্বাদের জন্য। ২০১৬ সালে এক জোড়া মেলন বিক্রি হয়েছিল ২৭০০০ ডলারে যা বাংলাদেশি টাকায় ২২,৩৮,৩৮০ টাকা।







এই ফল গুলো বিশেষভাবে গ্রীনহাউজে চাষ করা করা হয় ও এবং রোদ থেকে বাঁচার জন্য এদের আলাদা টুপিও দেওয়া হয়। এই মেলনগুলো পুরোপুরিভাবে গোল। এই মেলনটির বিক্রির টাকা কোনো চ্যারিটিতে দেওয়া হয়নি। বরং ব্যক্তিমালিকানায় এটি বিক্রি হয়েছে।