ক্ষুধায় কাঁদতেও পারছে না শিশুরা!

0
359

গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও খাদ্যযুদ্ধে করুণ অবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনে। খাবার সংকটে দিশেহারা মানুষ। খাবার না পেয়ে শিশুদের হাড়-কংকাল বেরিয়ে এসেছে শিশুদের। ক্ষুদায় কাঁদতেও পারছেনা বলে জানিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে বিবিসি।

আন্তর্জাতিক শিশু সংগঠন সেভ দ্য চিল্ড্রেন জানিয়েছে, প্রায় ৫২ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে আছে। এ বছর অপুষ্টিতে ৪০ হাজার শিশুর মারা যেতে পারে।

যুদ্ধের পর ইয়েমেনে মুদ্রার দরপতনে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য প্রায় ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, যুদ্ধের সময়ে ইয়েমেনি রিয়াল প্রায় ১৮০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। এমনকি চলতি মাসের প্রথম দিকে দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন দরপতনের ইয়েমেনি রিয়াল। যা দেশটির জনগণকে আরো বেশি বিপদে ফেলবে। দেশটির শিক্ষক-কর্মচারীসহ পেশাজীবীরা কমপক্ষে দুই বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। ফলে খাবারের যোগান দিতে পারছে না বহু পরিবার।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী হেলে থোরিং শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধ ইয়েমেনের পুরো একটা প্রজন্মকে মেরে ফেলতে পারে। কারণ দেশটির শিশুরা বোমা থেকে শুরু করে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নানা রোগসহ বহুমুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশটির লাখ লাখ শিশু জানে না পরের বেলার খাবার জুটবে কিনা। সম্প্রতি উত্তর ইয়েমেনের একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি জানান, এখানকার শিশুরা এতই দুর্বল যে, তারা কাঁদতে পর্যন্ত পারছে না। ক্ষুধা তাদের পুরো শরীরকে নিস্তেজ করে দিয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের মূল বন্দর হোদাইদায় এখনো যুদ্ধ চলছে। ফলে বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে সাহায্য ও পণ্য পাঠানো বন্ধ রয়েছে। মূল বন্দরটি অবরুদ্ধ থাকায় ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন জনগণ। বন্দর দিয়ে খাদ্য সরবরাহ না করলে দুর্ভিক্ষ এবং কলেরার মতো মহামারী রোগ বন্ধ করা যাবে না বলে শঙ্কিত শিশু সংস্থাটি। তথ্য মতে, গত বছর দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিলো।