বাঘ নিজেই হেঁটে হেঁটে উপস্থিত হলেন হাসপাতালে!

0
7

বাঘ নিজেই হেঁটে হেঁটে- বেশ কয়েকদিন ধরেই লোকালয়ের ধারেকাছে ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। অনেকেরই নজরে এসেছিল ব্যাপারটা। নজর এড়ায়নি বনকর্মীদেরও। এমনকি বনদফতরের সামনে এসেও ঘোরাফেরা করেছেন, বসে থেকেছেন!







ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যে, দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছিলেন তিনি। প্রথমটায় বিশেষ আমল দেননি বনকর্মীরা। কিন্তু সমস্যা যে অনেকটাই গভীরে, তা বুঝতে দেরি হয়নি দুঁদে বনকর্তাদের।







বনদফতরের বাইরে এসে তাঁদের অপেক্ষায় বসে থাকা বাঘিনীর চোখে আসলে ছানি পড়েছে। চোখে কম দেখতে পারছেন তিনি। ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গী তো নেই, তাই ‘ডাক্তার’রের খোঁজে নিজেই হেঁটে এসে উপস্থিত হলেন হাসপাতালে।







ভারতের সুন্দরবন টারগার রিজার্ভের ঝিলা রেঞ্জ অফিসের বনকর্তারা বোধহয় এরআগে এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে হয়নি। বাঘিনীটির আসলে বয়স হয়েছে।

তার বা চোখে ছানি পড়েছে। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ। শিকার করতে পারছে না দীর্ঘদিন। ঠিকমতো খাবার না খাওয়ায় দুর্বলও হয়ে পড়েছে সে, সঙ্গে রয়েছে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা।







বাঘিনী নিজেই বুঝতে পারছিল, শরীরটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না তার। তাই বোধহয় নিজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চলে এসেছিল বনদফতরের সামনেই। সাধারণত বাঘের বয়স হয়ে গেলে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে সে।







সেখান থেকে শিকার ধরাটা সহজ হয় তার পক্ষে। এক্ষেত্রেই এই বাঘিনীটিও বোধহয় সেই মত লোকালয়ের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে শুরু করেছিল। তাই কোনও প্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বনকর্মীরা উচ্চ পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বাঘিনীকে খাঁচাবন্দি করে।







বর্তমানে ওই বাঘিনীকে চিকিত্সার জন্য ঝাড়খালি টাইগার রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই তার চিকিত্সা চলছে। বাঘিনীটিকে আবার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলেননি বনকর্মীরা। মূলত পশুচিকিত্সকদের পরামর্শ মতোই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।







এক মমি নিয়ে বিজ্ঞানীদেরে এত হৈচৈ!

এক মমি নিয়ে বিজ্ঞানীদেরে এত হৈচৈ!







ছোট্ট একটা শব্দ মমি। কিন্তু তারই মধ্যে অমোঘ রহস্যের হাতছানি। হাজার হাজার বছর আগেকার পৃথিবীর দিনকাল ভেসে ওঠে চোখের সামনে। সেই সঙ্গে অবধারিত অতিলৌকিক সব আখ্যান।

লেখকের কল্পনা হোক বা হলিউডের রুপোলি পর্দা— মমির আবেদন সর্বজনবিদিত। তুতেনখামেনের অভিশপ্ত মমি হোক বা অন্য ফারাওদের মমি— সাধারণ মানুষদের পাশাপাশি গবেষকদেরও কৌতূহলের শেষ নেই।







এ নিয়ে নতুন নতুন আবিষ্কারও তাই হয়ে চলেছে। সম্প্রতি এক বহু পুরনো মমিকে ঘিরে নতুন আবিষ্কারের কথা সামনে এল। জানা গেল, ফারাওদের আগেও মমি প্রথা চালু ছিল প্রাচীন মিশরে! চাঞ্চল্যকর এই খবরে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজিত কৌতূহলী মানুষরা।







আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভসায়েন্স.কম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ওই মমিটি পাওয়া গিয়েছিল গত শতাব্দীর একেবারে গোড়ায়। ১৯০১ সাল থেকে ইতালির তুরিন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে মমিটি।







মোটামুটি ভাবে ৩৭০০ থেকে ৩৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের সময়কালের ওই মমিটি সম্পর্কে এতদিন সকলের ধারণা ছিল, ওই মমিটি কৃত্রিম ভাবে সংরক্ষিত হয়নি। কোনও দুর্যোগের পরে মরুভূমিতে প্রাকৃতিক ভাবেই ওই দেহটি সংরক্ষিত হয়ে গিয়েছিল।







কিন্তু গবেষকরা এখন জানতে পেরেছেন, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের দেহটিকে কৃত্রিম ভাবেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই এহেন আবিষ্কারে মমির ইতিহাস নিয়েই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে গবেষকদের। কেননা, গবেষকদের এই দাবির অর্থ, এতদিনের জানা সময়েরও ১ হাজার বছর আগেই এই বিদ্যা আয়ত্ত করেছিল মিশরের মানুষ।







গত ১৫ অগস্টে ‘জার্নাল অফ আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি। ওই গবেষক দলের অন্যতম গবেষক অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাসিন্দা জানা জোন্স জানিয়েছেন, মমিটির ডান কবজি, ধড় খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পরে বোঝা গিয়েছে সেটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।







পাশাপাশি পরীক্ষা করা হয়েছে দেহের সঙ্গে থাকা ব্যাগটিও। দেখা গিয়েছে, জৈব তেল, প্রাণীজ চর্বি ও আরও বহু পদার্থের প্রলেপ দিয়ে কাপড়ে মোড়ানো হয়েছিল দেহটি। উদ্দেশ্য অবশ্যই সংরক্ষণ।







ওই মমিটি এত প্রাচীন, যখন লেখার ভাষাও আবিষ্কৃত হয়নি। সম্ভবত মুখে মুখেই ওই সংরক্ষণের প্রক্রিয়া প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাহিত হয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ওই সময়ের মানুষের মধ্যে মরণোত্তর জীবন সম্পর্কে অটুট বিশ্বাস ছিল। তারা চাইত দেহটি সংরক্ষণ করতে। আর সংরক্ষণের পদ্ধতিও তারা আবিষ্কার করে ফেলেছিল।







কবেকার এক যুবকের শরীর এইভাবেই প্রাচীন পৃথিবীর দরজা আচমকাই যেন খুলে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের সামনে। তাঁরা বিস্মিত হয়ে লক্ষ করছেন, সেই সুদূর অতীতেও মানুষ চারপাশের প্রাকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়েই কীভাবে দেহ সংরক্ষণের আশ্চর্য পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেছিল।