অফিসে টিফিন চুরি! চোরের গল্প অবাক করবে আপনাকেও

চিংড়ি-ফ্রায়েড রাইস। টিফিন বলতে এটুকুই। রাখা ছিল অফিসের ফ্রিজে। দিনে দুপুরে সেই টিফিনই চুরি হয়ে গেল। তারপর চোরকে নিয়ে যা কাণ্ড হল, তা অবাক করবে আপনাকেও।
figure>






আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের কমেডিয়ান জ্যাক তোস্কানি পুরো ঘটনার লাইভ বিবরণ দিয়েছেন টুইটারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হৈ হৈ কাণ্ড বেঁধে গিয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ঠিক কী হয়েছিল?

জ্যাকের এক সহকর্মী চিংড়ি-ফ্রায়েড রাইস অর্ডার দিয়েছিলেন। ডেলিভারি হওয়ার পর সেই খাবার প্লাস্টিকের টিফিন বক্সে ঢুকিয়ে রেখেছিলেন অফিসের ফ্রিজে। কিন্তু দুপুরে খাবার সময়, ফ্রিজ খুলে তিনি দেখেন তাঁর লাঞ্চবক্স উধাও। হন্যে হয়ে খুঁজেও তিনি তা পাননি।
figure>






অফিসে সবাইকে জিজ্ঞাসা করলেও, কেউই তাঁর টিফিন চুরির কথা স্বীকার করেননি। কেউ টিফিন দেখেননি বলেই দাবি করেন। অথচ ঘণ্টা খানেক আগেই তিনি সেই বাক্সটি রেখেছিলেন। অফিসের মাইক্রোওয়েভে বা প্যান্ট্রি অঞ্চলে ওই খাবারের গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল না।
figure>






এর পর অফিসের নিরাপত্তারক্ষীরা জ্যাকের সহকর্মীকে সিসি ক্যামের ফুটেজ দেখাতে রাজি হন। সেখানে দেখা যায় অন্য একজন মহিলা সহকর্মী আসল কালপ্রিট। কিন্তু সেখানেই গল্পে আসে টুইস্ট।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ঘটনাক্রমে সেই মহিলা সহকর্মী বসেন জ্যাকের পাশেই। ক্যামেরায় ওঠা ছবিতে দেখা যায়, সেই মহিলা সহকর্মী ফ্রিজ থেকে ফ্রাইয়েড রাইসের বাক্সটা বের করছেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেই মহিলা সহকর্মী ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে নিজে তা খাননি। তিনি ডাস্টবিনে ফেলে দেন খাবারটি। যাঁর টিফিন চুরি হয়েছিল, তিনি হতবাক হয়ে যান।
figure>






যখন এটা জানাজানি হয়, ততক্ষণে সেই মহিলা সে দিনের মতো বাড়ি চলে গিয়েছেন। যাঁর টিফিন চুরি হয়েছিল, তিনিও আর কোনও অভিযোগ দায়ের করতে চাননি। তবে অফিসের কর্তাদের বিষয়টি জানিয়ে রাখেন। সেখানেই ঘটনাটি শেষ হয়নি। গল্পে আসে আরও টুইস্ট।
figure>






সঙ্গে সঙ্গে এইচআর থেকে প্রত্যেক কর্মীকে ইমেলে জানানো হয়, এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু ভবিষ্যতে যেন টিফিন চুরির মতো ঘটনা না ঘটে। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু জ্যাক ও তাঁর সহকর্মীরা সেই মহিলার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরের দিন যখন সেই মহিলা অফিসে আসেন, তখন গোটা অফিসেই চাপা উত্তেজনা।
figure>






সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই মহিলা সহকর্মী ইমেল খুলে এইচআর-এর বার্তা দেখে নিজেই অবাক হয়ে যান। নির্বিকার চিত্তে তিনি বলে ওঠেন, ‘‘ও বাবা! কেউ আবার টিফিন চুরি করেছে নাকি! এরকম কাজ কে করতে পারে?’’
figure>






জ্যাক লিখছেন, তখন তাঁর ঘর ছেড়ে ছুটে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করছিল। যাঁর টিফিন চুরি গিয়েছিল, তিনি তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার কাজে মন দেন।
figure>






এরপর জ্যাক মজা করার জন্য তিন জনের জন্য সেই চিংড়ি-ফ্রায়েড রাইস অর্ডার দেন। এক প্লেট খেতে দেন সেই মহিলা সহকর্মীকে। ‘‘আমি চিংড়ি ফ্রায়েড রাইস খেতে বড় ভালবাসি,’’ বলে তিনি দিব্যি সাবার করে দেন সেই খাবার।
figure>






দুর্ভাগ্যের বিষয় জ্যাক বা তাঁর ‘আক্রান্ত’ সহকর্মী কেউই আর জানতে পারেননি, কেন ওই মহিলা টিফিন চুরি করলেন এবং খেলেন না।
figure>






এদিকে টিফিন-চুরি কাণ্ড নিয়ে জ্যাকের এই রুদ্ধশ্বাস লাইভ টুইট তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন তাঁর ফলোয়াররা। তবে রহস্যের পুরো কিনারা না হওয়ায়, সবাই হতাশ। জ্যাক শুধু বলছেন, ‘‘ভাবতে পারেন, একজন ঠাণ্ডা মাথার টিফিন-চোরের পাশে বসে আমাকে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়!’’
figure>