সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের একাদশে মাশরাফি

১৯৭৩ সালে ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করে একদিনের ক্রিকেট। এরপর কেটে গেছে প্রায় ৪৫ বছর। এর মাঝে হয়ে গেছে অনেককিছু। এই সময়ে অনেক কিংবদন্তিকেই দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এছাড়াও দেখেছে অনেক গুণসম্পন্ন অধিনায়ক। এবার সেই কিংবদন্তি নেতাদের নিয়ে একাদশটি গড়েছে খেলাধুলার জনপ্রিয় একটি সাইট







দেখে নিন সেই একাদশটি-

১। সনাৎ জয়সুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)- ২২ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৪৪৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৩২.৩৬ গড় ও ৯১.২০ স্ট্রাইক-রেটে ১৩৪৩০ রান করেছেন এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান। এছাড়াও বল হাতে ৩২৩টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। অধিনায়ক হিসেনে দলকে ১১৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন ৬৬টি ম্যাচে।







২। সৌরভ গাঙ্গুলি (ভারত)- ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক তিনি। দলকে ১৪৬টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৭৬ বার সফল হয়েছেন ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ খ্যাত এই তারকা। এছাড়াও ৩১১ টি ওয়ানডে ম্যাচে ৪১.০২ গড়ে ১১৩৬৩ রান করেছেন তিনি।\

৩। রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া)- সর্বকালের সেরা অধিনায়কদের মধ্যে তিনি অন্যতম সেরা একজন। দলকে ২৩০টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১৬৫টি ম্যাচে সফল হয়েছেন তিনি। এছাড়াও ৩৭৫টি ওয়ানডে ম্যাচে ৪২ গড়ে ১৩৭০৪ রান করেছেন তিনি। এছাড়াও দলকে দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন তিনি।







৪। অর্জুনা রানাতুঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)- তিনিই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। দেশকে ১৯৩টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে সফল হয়েছেন ৮৯টি ম্যাচে। এছাড়াও দেশের হয়ে ২৬৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৩৫.৮৪ গড়ে ৭৪৫৬ রান করেন তিনি। এছাড়াও বল হাতে ৭৯টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।







৫। ক্লাইভ লয়েড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)- রিকি পন্টিংকে বিশ্বকাপের জয়ের দিক দিয়ে তিনিই টক্কর দিতে পারেন। কারণ এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি অধিনায়ক প্রথম দু’টি বিশ্বকাপ জিতেছিলেন (১৯৭৫ আর ১৯৭৯)। ক্যারিয়ারে ৮৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা এই তারকা ৮৪টি ম্যাচেই নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন ৬৪টি ম্যাচে। ৭৭.৭১ উইনিং পার্সেন্টেজ অন্য কোনো অধিনায়কের নেই। এছাড়া দলের হয়ে ৪০ গড় ও ৮১.২২ স্ট্রাইকরেটে ১৯৭৭ রান করেছেন তিনি।







৬. হ্যান্সি ক্রোনিয়ে (দক্ষিণ আফ্রিকা)- দক্ষিণ আফ্রিকার বড় শক্ত হওয়ার পিছনে দারুণ অবদান রয়েছে তার। ১৩৮টি ওয়ানডে ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জয় পেয়েছেন ৯৯টিতে। দলের হয়ে ১৮৮টি ম্যাচে ৫৫৬৫ রানের পাশপাশি বল হাতে ১১৮টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।







৭। মহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত)- সর্বকালের সেরা অধিনায়কের মধ্যে অন্যতম ভারতের এই উইকেটকিপার। তিনিই আন্তর্জাতিক আসরের একমাত্র নেতা যিনি কিনা ওয়ানডে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। এমনকি ২০০৯ সালে টেস্ট আসরে তারই নেতৃত্বে প্রথমবার শীর্ষে উঠে ভারত। দলকে ১৯৯টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১১০টি ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। উইকেটকিপার হিসেবেও সর্বকালের সর্বসেরা ধোনি। ৩২১টি ওয়ানডে ম্যাচে ৫১.২৫ গড়ে ও ৮৮.১৩ স্ট্রাইক রেটে ১০০৪৬ রান করেন তিনি। এছাড়াও কিপার হিসেবে ৪০৭টি সাফল্য পেয়েছেন ধোনি।







৮। ইমরান খান (পাকিস্তান)- পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল নেতা। তিনিই একমাত্র অধিনায়ক যিনি পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ১৩৯টি ওয়ানডে ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৭৫ বার সফল হয়েছেন তিনি। এছাড়া ১৭৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৩৭০৯ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৮২টি উইকেট শিকার করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।

৯। কপিল দেব (ভারত)- ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার তিনি। ৭৪টি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৯টি ম্যাচেই জয় পেয়েছেন তিনি। এছাড়া ২২৫টি ওয়ানডে ম্যাচে ৯৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৭৮৩ রান করেন তিনি। অন্যদিকে বল হাতে ২৫৩টি উইকেট শিকার করেন তিনি।







১০। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (নিউজিল্যান্ড)- দলকে ৮২টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪১টি ম্যাচেই সফল হয়েছেন তিনি। তার উইনিং পার্সেন্টেজ ৫৫.৩৩। এছাড়াও ২৯৫টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩০৫টি উইকেট শিকার করেছেন এই দক্ষ স্পিন বোলার।







১১। মাশরাফি বিন মর্তুজা (বাংলাদেশ)- দেশকে মাত্র ৫৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে উন্নতি হয়েছে সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ন। তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। ৫৮ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩২টি ম্যাচে সফল হয়েছেন মাশরাফি। এছাড়াও ১৯০টি ম্যাচে ২৪৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি।







উল্লেখ্য, সর্বকালের সেরা একাদশে আরো অনেকে জায়গা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু সীমিত স্থানের কারণে অনেকের জায়গা হয়নি। এই তালিকায় যাদের রাখা যেত তারা হলেন- গ্রায়েম স্মিথ (দক্ষিণ আফ্রিকা), স্টিফেন ফ্লেমিং (নিউজিল্যান্ড), অ্যালান বোর্ডার (অস্ট্রেলিয়া), স্টিভ ওয়াহ (অস্ট্রেলিয়া)।