প্রিয় খেলোয়ারকে বিরক্ত করলাম না তো?

সাকিব আমার প্রিয় খেলোয়ার, তবে আজ ব্যক্তি সাকিব বিষয়ে কিছু বলবো। হোটেল লং বিচ, গুলশানে একদিন বস এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম সাকিব ও আরও কিছু লোক লবি তে বসে গল্প করছে। অনেক খুশি হলাম প্রিয় খেলোয়ারকে সামনা সামনি দেখে। সম্ভবত সাকিব তার বনানীর রেষ্টুরেন্ট নিয়ে কোন প্ল্যান করছিলেন। তার টেবিল ও আমার সিট এর দুরত্ব ৩-৪ হাত হবে। দুই-তিন বার চোখে চোখ পড়লো, আমি একবার তাকে ইশারায় সম্বোধনও জানালাম। তিনি তেমন গুরুত্ব দেন নি, নিজেদের কথায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমি অপেক্ষায় থাকলাম কখন তার কথা শেষ হবে, আর তার সাথে একটা ছবি তুলবো। এক সময় তিনি উঠে দাঁড়ালেন, কথা হয়তো শেষের পথে, আমি তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। অনুরোধ করলাম, যাতে একটি ছবি তুলতে দেয়। সাকিব একটু রুঢ়ভাবে আমাকে বললেন, ‘দেখছেন তো কথা বলছি। কথা বলা শেষ হয় নি।’ নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগলো। প্রিয় খেলোয়ারকে বিরক্ত করলাম না তো? একটু পর সাকিব তার সাথের লোকজন নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন।







এখানেই শেষ হতে পারতো। আমিও কোন আক্ষেপ ছাড়াই চলে আসতাম, হোক ছবি তুলিনি, কাছে থেকে দেখেছি তো, কথা তো বলেছি! হোটেল লং বিচ এর স্ন্যাক্স কর্নার থেকে একেবারে মেইন গেট পর্যন্ত ১৫০ গজ দুরত্ব হবে। সব গেষ্টদের মেইন গেট পর্যন্ত বিদায় দিয়ে সাকিব ও চলে যেতে পারতেন। তিনি আমার জন্য ১৫০ গজ হেটে ফিরে এসে আমাকে বললেন, ‘জি ছবি নাকি তুলবেন?’ আমার ভেতরে একটা অস্বাভাবিক ভাল লাগা কাজ করলো।অবশেষে ছবিটা তুললাম।







এখন আসল কথায় আসি। ফিল্ম স্টাররা ফ্যানদের উপর নির্ভর। ফ্যানরা তার ছবি দেখা বন্ধ করলে সে অচল কিন্তু সাকিবরা ফ্যানদের উপর নির্ভর নয়, তারা তাদের পার্ফরম্যান্স এর উপর নির্ভর। সো, অটোগ্রাফ, ফটোগ্রাফ যাই হয়, শুধু ফ্যানদের স্বার্থেই হয়। আমাদের সাথে ছবি তোলা তাদের কোন ঠ্যাকা না। আমাদেরই ঠ্যাকা। আমরাই সেই সব ছবি ফেসবুকে দিয়ে নিজেরা ভাব নেই। সাকিবদের এতে কোন ভাব বাড়ে না। মাঝে মাঝে আমরা এমন ভাব নেই যেন আমরাই তাকে সাকিব বানিয়েছি। তার নিজের খেলা দিয়ে সে সাকিব হয় নি। নিজেদের স্বার্থে আমরা যেন কোন খেলোয়ার বা স্টারকে বিড়ম্বনায় না ফেলে দেই সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।







লেখাটা সাকিব ফ্যান রেজওয়ান মাহমুদের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।

খোলা কলামে প্রকাশিত সব লেখা একান্তই লেখকের নিজস্ব মতামত। এর সাথে পত্রিকার কোন সম্পর্ক নেই।