Sunday , 20 May 2018

বাংলাদেশের প্রথম ফিফা রেফারি মনির হোসেন আর নেই

দীর্ঘদিন ধরে প্রোস্টাটিজম রোগে (প্রস্রাবে জটিলতা) ভুগছিলেন। প্রোস্টেট গ্রন্থি বেড়ে যাওয়ায় একবার অস্ত্রোপচারও করেছিলেন মনির হোসেন। কিন্তু রোগটি পুরোপুরি না সারায় আবারও রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১২ দিন আগে।







কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারলেন না বাংলাদেশের প্রথম ফিফা রেফারি মনির হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে না–ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম ফিফা রেফারি মনির হোসেন আর নেই।







৮৪ বছর বয়সী এই রেফারির আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৮৮ সালে প্রথম কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর তিন দফায় ২৬ বছর ছিলেন কাবাডির সাধারণ সম্পাদক।







ফুটবলের রেফারি মনির হোসেন আশির দশকে পেশাটা ছেড়ে দেন। ফুটবলার হিসেবেই তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। খেলতে গিয়ে চোট পাওয়ায় খেলা ছেড়ে দেন একসময়। তবে খেলার জগৎ তিনি ছাড়তে পারেননি। ১৯৬০ সালে রেফারি হিসেবে শুরু। ১৯৬৮ সালে রেফারিদের পরীক্ষায় প্রথম হন। ১৯৭৪ সালে হন আন্তর্জাতিক ফিফা রেফারি। কুয়েতে এশীয় যুব ফুটবল, থাইল্যান্ডে প্রথম কিংস কাপ ফুটবল, ইরানে ১৯তম যুব ফুটবলসহ অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ কৃতিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করেছেন।







তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কাবাডি ম্যাচেও রেফারির দায়িত্ব পালন করেন একাধিকবার। এ ছাড়া এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের সহসভাপতি ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন মেয়াদে। বাংলাদেশ কাবাডি রেফারি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও ছিলেন মনির হোসেন।







দুই কন্যাসন্তানের জনক মনির হোসেনের জানাজা আজ বাদ আসর মানিকনগর জামে মসজিদে হবে। এরপর গোপীবাগ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাঁকে।







মনির হোসেনের মৃত্যুতে রেফারি ও কাবাডি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কাবাডি কোচ আবদুল জলিল বলেছেন, ‘বাংলাদেশে জাঁকজমকভাবে কাবাডির চর্চাটা না হলেও খেলাটা মাঠে ধরে রেখেছিলেন তিনি। দেশ একজন ভালো মানের ক্রীড়া সংগঠক হারাল।’