কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু ভবিষ্যতবাণী!

পর্দা নেমে গেছে ২১ তম ফুটবল বিশ্বকাপের। এক মাসের গ্রেটেস্ট শো অন্য আর্থ শেষ হয়েছে ফরাসি বিক্রমের মঞ্চায়নের মাধ্যমে। সম্প্রতি ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, ২০২২ এ অনুষ্ঠিতব্য কাতার বিশ্বকাপ হবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। তার মানে ফুটবল প্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে এখনো সাড়ে চার বছর! ভাবছেন, এতদিন পর কি ঘটবে তা এখন বলি কি করে? হ্যাঁ, সব তো আর বলা সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু ভবিষ্যতবাণী তো করাই যায় !
১। আয়োজক দল হিসেবে তরী ডুবাবে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতারের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই কারো। একটা উদাহরণ দেয়াই যায়। বিশ্বকাপ সাধারণত জুন-জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কাতারে তখন গ্রীষ্মকাল। আর মধ্যপ্রাচ্যের গ্রীষ্ম মানে নরকাগ্নিসম গরম! এর মাঝে আর যাই হোক, ফুটবল খেলা চলে না। তাই কাতারের শেখরা প্রস্তাব দিয়ে বসলেন, দরকার হলে সবগুলো স্টেডিয়ামের মাঠসহ পুরো অংশ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করে দেবেন তাঁরা !







এতেই বোঝা যায়, বিশ্বকাপ আয়োজনে কতটা মুখিয়ে আছে কাতার। কিন্তু সমস্যাটা হবে স্বাগতিক কাতার ফুটবল দল নিয়ে। স্বাগতিক হিসেবে কোনো বাছাইপর্ব ছাড়াই সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কাতার। কিন্তু কাতারের ফিফা র‍্যাংকিং যে এখন ৯৭! আরও ভয়াবহ হলো, এখন পর্যন্ত কখনোই বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলার সুযোগ পায় নি কাতার। ইতিহাস বলে, বিশ্বকাপের স্বাগতিকদের প্রথম রাউণ্ডে বিদায় নিতে হয়েছে মাত্র একবার- সেটি ছিলো ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু তাও, বাফানা’রা ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিলো, মেক্সিকোর সাথে প্রথম ম্যাচে পেয়েছিলো ড্র-এর দেখা।







নিতান্ত ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হওয়ায় বিদায় নিতে হয় সাউথ আফ্রিকানদের। তাই ইতিহাসে প্রথম বার স্বাগতিক দল হিসেবে ভরাডুবি হতে যাচ্ছে কাতারের- এ নিয়ে বাজি ধরাই যায়! যদিও ব্রাজিলে বসতে যাওয়া পরবর্তী কোপা আমেরিকার আসরে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে কাতার। সেখানে প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ থাকছে তাদের।







২। দ্য কিংস উইল রিটার্ন ! ব্রাজিলের পর এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দলটির নাম ইতালি। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ‘আজ্জুরি’ রা। তারাই কিনা ছিলো না এবারের বিশ্বকাপে! সিনিয়র প্লেয়ারদের অবসরের কারণে ঘর গোছাতে ভালোই বেগ পেতে হয়েছে তাদের। কিন্তু কাতারের টিকেট পেতে অবশ্যই ভুল করবে না রবারতো মানচিনির দল! বিশ্বকাপ দেখবে ইতালিয়ান প্রত্যাবর্তন। একই কথা প্রযোজ্য হল্যান্ডের ক্ষেত্রেও। জোহান ক্রুইফের উত্তরসূরিরাও চাইবে না কিছুতেই আরও একটি বিশ্বকাপের মঞ্চকে কমলা রঙে রাঙ্গানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে। শেষ টানা দুইবার কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন চিলিও হয়তো ফিরবে কাতারে।







৩। নিজেকে ছাড়িয়ে যাবেন এমবাপ্পে ! ১৯ বছর বয়সেই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিজে পেয়েছেন সেরা উদীয়মানের স্বীকৃতি। কাতারে যখন যাবেন, কিশোর এমবাপ্পে তখন থাকবেন ২৩ বছরের টগবগে তরুণ। ফুটবল ইতিহাসে নিজেকে অমর করে রাখার জন্য ওটাই তো হবে এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় সুযোগ। পারবেন তো এমবাপ্পে ?নিজেকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিয়ে যেতে?







৪। জ্বলে উঠবে আফ্রিকান দলগুলো আফ্রিকানদের জন্য রাশিয়া বিশ্বকাপ ছিলো হতাশায় মোড়ানো। ৫ টি দলের কোনটিই পেরোতে পারে নি গ্রুপ পর্বের বাঁধা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ম্ফাম্মদ সালহকে নিয়ে আলোচনার শীর্ষে ছিলো মিশর। অতি উৎসাহী অনেকে তো বলেই ফেলেছিলেন সালাহর হাত ধরে এবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরবে মিসর। কিন্তু এই মিসরের অবস্থাই ছিলো সবচেয়ে করুণ। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই হারে তারা। সৌদি আরবও তাদের হারায় হেসে খেলেই।







মরক্কো, সেনেগাল, নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া কেউই পারে নি প্রত্যাশা পূরণ করতে। কাতারেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিশ্চয় চাইবে না আফ্রিকানরা ! ঘানা ও ক্যামেরুনের মতো শক্তিশালী আফ্রিকান দলগুলোর অন্তর্ভুক্তিও হয়তো ঘটবে, কে জানে!