টস জিতলে ব্যাটিং নিতে হবে’

0
113

টনটনের আবহাওয়া একদিক দিয়ে সুখবর দিচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের আজকের ম্যাচটা বৃষ্টিমুক্ত থাকবে। কিন্তু রোদ ঝকঝকে দিনের কথা ওখানে নেই। মেঘলা থাকবে। এই আবহাওয়া আমাদের জন্য আবার একটু বিপদের। আমি নিজেই এখন ইংল্যান্ডে। এখানকার লিগে খেলছি।

এটা ইংলিশ সামার হলেও এবারের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন চলছে। আকাশ মেঘলা থাকলে ঠাণ্ডা একটু বেশি লাগে। এমনটায় আমরা একদম অভ্যস্ত না। ভোগায়। অনেক কিছু করা কঠিন হয়ে যায়। তারপরও বৃষ্টি না থাকা সৌভাগ্যের। একটা কমপ্লিট ম্যাচ দেখা যাবে আশা করি।

ইংল্যান্ডের আকাশ কিন্তু টুর্নামেন্টে সবাইকে বেশ ধোঁকায় রেখেছে। তাই শুরুতেই বলি, দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস জিতলে বাংলাদেশ যেন ভুলেও আগে ফিল্ডিং না নেয়। চলমান বিশ্বকাপের যত ম্যাচ দেখলাম সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার কাছে এটা মনে হচ্ছে। ধোঁকা খাওয়ার।

কথা প্রসঙ্গে বলছি, দেখেন গতকালের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটা। দুই অধিনায়কই টস জিতলে মেঘলা ওয়েদারে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন। পাকিস্তান তাই করেছে। কিন্তু ভারত ৩০০ প্লাস রান করলে সেটা তাড়া করে পাকিস্তানের ম্যাচ জেতা খুব কঠিন হওয়ার কথা।

তাই বলছি, আবহাওয়া মেঘলা থাকলেও বাংলাদেশ সাহস করে আগে ব্যাটিং নিক। তখন ৩০০ প্লাস রান করে ফেললে ডিফেন্ড করার উপায় থাকবে। আর মেঘলা আকাশের কথা ভেবে বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে নামলে এবং ওরা ৩০০-এর বেশি রান করলে সেটা তাড়া করে জেতা কঠিন হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার প্রবণতা আছে। তখন প্রতিপক্ষ ৩০০-এর বেশি করে ফেলে। সেটা তাড়া করে আর জেতা হয়ে উঠছে না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ খেলায় ইংল্যান্ডের সঙ্গে যেভাবে হেরেছে তা বাংলাদেশ দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগানোর কথা। তাদের বিপক্ষে সম্প্রতি এমনিতে বাংলাদেশের পক্ষে ফল বেশি এসেছে। ওদের হোমে, বাংলাদেশে, গেল ট্রাইনেশনে সব জায়গায় জিতেছে। বেশি জয় দলটার জন্য ইতিবাচক তাই। কিন্তু এসব ভুলে বাংলাদেশকে অবশ্যই সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। ভালো করতে হবে তিন বিভাগেই। এটাই আসল কথা। তাহলেই কেবল এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে হারানো সম্ভব।

বাংলাদেশের ব্যাটিং তো অনেক অভিজ্ঞ। এমন চারজন দারুণ ব্যাটসম্যান আছে যাদের অনেক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। আবার তরুণদের মধ্যে সৌম্য সরকারের এটা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। বোলারদের তাই ভালো করতে হবে। তাহলে ব্যাটসম্যানদের পক্ষে ম্যাচটা বের করে আনা সম্ভব। আমার মনে হয় আমাদের এক-দুজন ব্যাটসম্যানই ব্যবধান তৈরি করে দিতে পারে। তা সে ক্যারিবিয়ানরা যত ভালো হোক না কেন।

সিনিয়রদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। উইন্ডিজ অবশ্যই আমাদের বাউন্সার দিয়ে আক্রমণ করবে। ওদের পেস বোলিং অ্যাটাক তেমন। তো বাউন্সারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যদি বল ছাড়তে পারে এবং আক্রমণ করতে পারে তখন প্রতিপক্ষকে পরিকল্পনা বদলাতে হবে। প্ল্যান ‘বি’তে যেতে হবে। আর মনে রাখতে হবে, প্রথম ১৫ ওভারের মধ্যে তেমন উইকেট হারানো যাবে না। বল একটু পুরনো হয়ে গেলে ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলারদের খেলা সহজ হয়ে যাবে। নতুন বলের মতো তখন হয়তো অতটা বাড়তি বাউন্স মিলবে না।

এখন অনেক কথা হচ্ছে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, ওপেনার তামিম ইকবালকে নিয়ে। এ নিয়ে অত ভাবার কিছু নেই। খেলার অংশ। আবার যখন পারফর্ম করবে, দল জিতবে তখন এসব নেতিবাচক আলাপ আর হবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তামিমের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভালো। ওদের হোমে গত বছর দুটি সেঞ্চুরি করেছে। দেশে দুটি ফিফটি। আয়ারল্যান্ডের তিনজাতি সিরিজেও ভালো খেলেছে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এখন তামিমের একটা প্রিয় প্রতিপক্ষ বলা যেতে পারে। ওর কাছ থেকে যেটার জন্য অপেক্ষা সেই বড় ইনিংসটা আজই হয়তো দেখা যাবে।

এই ম্যাচ জিততে মাশরাফীর স্পেলটাও খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ১০টি ওভার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শুরুতে ব্রেক থ্রু পেলে তো দারুণ ব্যাপার। তা না হলেও মাঝে কিংবা শেষে ঘটলেও বিষয়টা ভালো হবে।

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সঠিক বোলিং ইউনিট নিয়ে নামা খুব জরুরি। আমি ঠিক জানি না এ নিয়ে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের কী পরিকল্পনা। টনটনের এই মাঠের বাউন্ডারি ছোট। এখানে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান তাদের জেনুইন লেগ স্পিনারকে ড্রপ করে দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টিতে পণ্ড শেষ ম্যাচে লিটন দাসের খেলার কথা শুনেছিলাম। রুবেল হোসেনের কথাও বলা হচ্ছিল।

তবে আমার মনে হয় এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে একটি মাত্র পরিবর্তন আনাই ভালো। রুবেলকে নিতে হবে। মেহেদী হাসান মিরাজকে দরকার আছে। মাঝে বল করার জন্য দুজন স্পিনার লাগবে। তাছাড়া ওদের ক্রিস গেইল, নিকোলাস পুরান, শিমরন হেটমায়ার, ইভিন লুইসদের প্রত্যেকে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অফ স্পিনার এই ম্যাচে তাই খুব দরকার।

সেমিফাইনালে খেলার আশা ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হবে। বোলিং ইউনিট শুধু না, তিন বিভাগেই একেবারে সেরা খেলা খেলতে হবে। কিন্তু খেলোয়াড়দের আসলে খুব চিন্তাভাবনার মধ্যে না পড়ে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলাই ঠিক ব্যাপার হবে। উপভোগ করবে। বল দেখবে। খেলবে। ব্যাটসম্যান দেখবে। বল করবে। এখন বাংলাদেশ দলের অনেক অভিজ্ঞতা। গোটা বিশ্বকে এখনই দেখানোর আদর্শ সময় যে, ‘হ্যাঁ, আমরা এখানে বিজনেস করতে এসেছি।’ বাংলাদেশ দলকে জানিয়ে রাখছি ‘বেস্ট অব লাক’।