উইন্ডিজকে পাত্তা না দিয়ে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ

0
67

মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১৯৬ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় সফরকারী উইন্ডিজরা। সফরকারীদের ছুঁড়ে দেয়া লক্ষ্যে বর্তমানে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। লিটনের ৪১ , সাকিবের ৩০ এবং মুশফিকের ৫৫ রানের সুবাধে ১৫ ওভার হাতে রেখে সহজেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এর ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল টাইগার বাহিনী।

উইন্ডিজঃ ৯/১৯৫ (৫০ ওভার) (হোপ- ৪৩, পল- ৩৬) (মাশরাফি- ৩/৩০, মুস্তাফিজ- ৩/৩৫)

বাংলাদেশঃ ১৯৬/৫ (৩৫ ওভার) (তামিম ১২, লিটন ৪১, ইমরুল ৪, সাকিব ৩০, সৌম্য ১৯, মাহমুদুল্লাহ ১৪*, মুশফিক ৫৫*,)

ফিফটি করে জয়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন মুশফিকঃ

সবাই যেখানে একের পর এক যাওয়া আসা করছেন শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ইনিংসের প্রথম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক, ৫৯ বলে ৫ চারের মাধ্যমে ফিফটি তুলে নেন মুশফিক।

স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট সৌম্যঃ

ঝোড়ো গতিতে খেলতে থাকা সৌম্যর ইনিংস থেমে গেল রোশটোন চেসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। অফ স্ট্যাম্পের বাহিরের বল হালকা ছোঁয়া দিতে চাইলে অফ স্পিনে পরাস্ত হয়ে ১৩ বলে ১৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ক্রিজে মুশফিকের সাথে যোগ দেন মাহমুদুল্লাহ।

সাকিবের বিদায়ে ভাঙল জুটি

জুটি ভাঙতে নিজেই বোলিংয়ে আসেন অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। সাফল্য ধরা দেয় প্রথম বলেই। স্টাম্পের বাইরে অ্যাঙ্গেলে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেট বিলিয়ে এলেন সাকিব আল হাসান।

শেষ হলো তার সম্ভাবনাময় ইনিংস। ভাঙল চতুর্থ উইকেট জুটি। ২৬ বলে ৩০ রান করে আউট হলেন সাকিব। জুটি ছিল ৪৭ বলে ৫৭ রানের। বাংলাদেশের রান ২৯ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান।

পাল্টা আক্রমণে ফিফটি জুটি

উইকেটে যাওয়ার পর থেকেই সাকিব আল হাসান বেছে নিয়েছেন প্রতি আক্রমণের পথ। খেলেছেন দারুণ সব শট। আরেক পাশে মুশফিকও খেলছেন নির্ভরতায়। দুজনের জুটিতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে জয়ের পথে। জুটির ফিফটি এসেছে ৪০ বলেই।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সফলতম জুটি সাকিব ও মুশফিক, দুই হাজারের বেশি রান আছে কেবল এই জুটিরই। দুজনের এটি ছিল ১৫তম অর্ধশত রানের জুটি, সেঞ্চুরি জুটি আছে আরও চারটি।

লিটনের আক্ষেপঃ দুই উইকেট হারনোর পর মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়েই ফিফটি পথে এগোচ্ছিলেন লিটন। মুশফিকের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটিও গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪১ রানে কিমো পলের বলে বোল্ড আউট হয়ে বিদায় নেন লিটন।

সুযোগ নষ্ট করলেন ইমরুলঃ তিন নম্বরে খেলতে নেমে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ ছিল ইমরুল কায়েসের সামনে। প্রথম বলে বাউন্ডারিও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তামিম আউট হওয়ার পরের ওভারেই অশেন থমাসের ইনসুইং ডিলেভারিতে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

উইকেট ছুঁড়ে দিলেন তামিমঃ

লিটন জীবন পাওয়ার পর চেজের এক ওভারে জোড়া বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ওভারে ১১ রানও এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। সেই ওভারের শেষ বলে পয়েন্ট অঞ্চলে সহজ ক্যাচ দিয়ে বসেন তামিম ইকবাল। ১২ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে।

জীবন পেলেন লিটনঃ

শুরুটা দেখে শুনে করলেও ইনিংসের সপ্তম ওভারে কিমার রোচকে কবজির মোচড়ে ঘুড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগ অঞ্চলে শিমরন হেটমায়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন লিটন। কিন্তু টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় বোলিং লাইনের বাইরে পা ফেলেছেন রোচ। ফলে থার্ড আম্পায়ারের সাহায্যে বলটি নো-বল ঘোষনা দেন আম্পায়ার। জীবন পেয়ে অবশ্য সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন লিটন।

দেখে শুনে শুরু বাংলাদেশেরঃ

ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই দেখে শুনে খেলছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। প্রথম ছয় ওভারে কোন ঝুঁকি নেন নি দুজন। দেখে শুনে খেলেই স্কোর বাড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ একাদশঃ

মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

উইন্ডিজ একাদশঃ

রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), শাই হোপ (উইকেটরক্ষক), ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, শিমরন হেটমায়ার, রস্টন চেজ, কাইরন পাওয়েল, দেবেন্দ্র বিশু, কিমো পল, ওশানে থমাস, কিমার রোচ।