সৌম্য-তামিম ঝড়ে ৪১ ওভারেই খেলা শেষ!

0
26

আলোকস্বল্পতার কারণে পুরো ম্যাচ হয়নি। তাতে জয় পেতে সমস্যা হয়নি বিসিবি একাদশের। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫১ রানে হারিয়েছে বিসিবি একাদশ।

ওয়ানডেতে উইন্ডিজকে কোনো দলের বিপক্ষে এতটা ধোলাই কখনো খেতে হয়েছে কিনা প্রশ্ন রয়েছে। যতোটা না ধবল ধোলাই আজ সৌম্য-তামিম তাদেরকে করল।

তামিম ইকবাল মাত্র ৭৩ বলে ১০৭ রান করে আউট হওয়ার পরে সৌম্য সরকার সেঞ্চুরি করেন মাত্র ৭৫ বলে। তিনি অপরাজিত থাকেন ১০৩ রান করে।

লক্ষ্যটা ছিল বিশাল।৩৩২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ঝড় শুরু করে তামিম-ইমরুল জুটি। ২৭ রান করে ইমরুল ফিরে গেলেও ব্যাট হাতে তান্ডব চালাচ্ছেন তামিম ইকবাল। ৩৩ বলে তুলে নিয়েছে নিজের ফিফটি। এরপর ৭০ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরির পর তামিম ইকবাল একটি ছক্কা মারেন। ছক্কাটি এতটাই বড় ছিল যে তা বিকেএসপির মাঠের দেয়াল পাড় হয়ে চলে যায়। আর সেখানেই বল খুজে পাওয়া যায় নি।

৭০ বলে শতক হাঁকিয়ে ব্যাট হাতে আরও চড়াও হতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু রস্টন চেজের বলে সামনে এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। ৭৩ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।

দলকে জয়ের খুব কাছেই এনে দিয়েছেন বহুদিন পর মাঠে ফেরা দেশসেরা এই ওপেনার। দলীয় ১৯১ রানে ফিরেছেন তিনি। এখনও উইকেটে রয়েছেন সৌম্য সরকার। তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিথুন। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকা হয়নি তাঁর। চেজের বলে ফিরেছেন তিনিও। এরপর আরিফুলও ফিরে যান ২১ রান করে।

৪র্থ উইকেটের পতনের পারো পরপর আরো ২ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। অনুর্ধ্ব ১৯ এর দুই তরুণ ব্যাটসম্যান হৃদয় ও শামিম তেমন সুবিধা করতে পারেনি।

৬ষ্ঠ উইকেটের পতনের পরই ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন মাশরাফি। ব্যাটিংয়ে নেমেই বিধ্বংসী রুপ ধারন করেন মাশরাফি। ২ চার ও এক ছক্কায় ১৪ বল থেকে ২০ রান করে অপরাজিত থেকে গেছেন তিনি। অন্যদিকে বিশাল এক ছক্কায় নিজের সেঞ্চুরি পূর্ন করেন সৌম্য।

আলো স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে মাত্র ৪১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান করে ফেলে বিসিবি একাদশ।

এর আগে বিকেএসপিতে একমাত্র ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেটে ৩৩১ রান সংগ্রহ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেছেন শাই হোপ। ৫১ বলে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রস্টন চেজ।

অন্যদের মধ্যে ৩২ বলে ৪৮ রান করেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। দশ রান করে অপরাজিত থাকেন সুনিল আমব্রিস। বিসিবি একাদশের পক্ষে রুবেল হোসেন ২টি, মেহেদী হাসান রানা ২টি, শামীম পাটোয়ারী ১টি, মাশরাফি বিন মর্তুজা ১টি ও নাজমুল ইসলাম অপু ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

বাংলাদেশ স্কোয়াডঃ মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, তৌহিদ হৃদয়, আরিফুল হক, আকবর আলি, রুবেল হোসেন, মিথুন রায়, শাহীন আলম, মেহেদি হাসান রানা ও নাজমুল ইসলাম অপু।

উইন্ডিজ স্কোয়াডঃ রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), মারলন স্যামুয়েলস, দেবেন্দ্র বিশু, রোস্টন চেজ, চন্দ্রপল হেমরাজ, শিমরণ হ্যাটমিয়ার, ড্যারেন ব্রাভো, শাই হোপ, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, কিমো পল, কিরণ পাওয়েল, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, কেমার রোচ, সুনিল আমব্রিস ও ওশান থমাস।