আমরা কেউই কিন্তু বীর-পালোয়ান ছিলাম না : সাকিব

0
67

সাকিব, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা – এই পাঁচ সিনিয়র ছাড়া পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় নিজেদের পরের ধাপে নিতে পারছেন না বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটারা। বোলিংয়ে তবু মুস্তাফিজ-মিরাজরা আছেন, ব্যাটিংয়ে অবস্থা করুণ। অনেকেই এসেছেন-বাদ পড়েছেন, স্থায়ী হতে পারেননি কেউ।

এশিয়া কাপের টানা দুই ম্যাচে বাজে ব্যাটিংয়ে বড় হারের পর সেসব নিয়ে কথা হচ্ছে আরও। বিশেষ করে যখন হুট করে ডেকে পাঠানো হয়েছে সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে। দলে বাইরে থাকার সময়টায় খুব বেশি কিছু করতে পারেননি দুজন। তার পরও দলে ফিরলেন, কারণ ব্যর্থ অন্যরা। সিনিয়রদের ছাড়া অন্য ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই চক্র চলছে অনেকদিন থেকেই। যে কম খারাপ, যে কম ব্যর্থ, ঘুরে ফিরে যেতে হচ্ছে তার কাছেই।

দীর্ঘশ্বাস যখন কেবল দীর্ঘই হচ্ছে, তখন একটু আশার হাওয়া বইয়ে দিতে চাইলেন সাকিব। দুবাইয়ে শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই অলরাউন্ডার ভরসা রাখতে বললেন নিজেদের উদাহরণ দিয়েই।

“আমরা যদি ওদের ওপর অল্প সময়ে এত বেশি চাপ দিয়ে ফেলি, ওদের জন্য ভালো করার সম্ভাবনাটা আরও কমে যায়। আমাদের যে ৪-৫ জনের কথা আপনারা বলছেন, আমরা কেউই কিন্তু বীর-পালোয়ান ছিলাম না। শেষ ৩-৪ বছরের ক্যারিয়ার দেখছেন আপনারা। তার এর আগের ৬-৭ বছর ক্রিকেট খেলছি, আমরাই বা কতখানি ভালো ক্রিকেট খেলেছি!”

“পরিস্থিতিতে পড়তে পড়তে মানুষ যখন কেউ শিখবে, তখন তার ভালো করা সম্ভব। আমরা ওদেরকে ওই সুযোগ হয়তো দিতে পারছি না সেভাবে। ওদের জন্য কঠিন, এমন পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্স করা।”

ধুঁকতে থাকাদের পাশে দাঁড়ালেন বটে সাকিব, তবে দুই সময়ের বাস্তবতা বিবেচনা করলে বরং তাদের কাজটা ছিল আরও কঠিন। তামিম-সাকিবরা দলে আসার কিছুদিন পর থেকেই হয়ে উঠেছেন মূল ক্রিকেটার। তাদের ওপর চাপ ছিল দলকে টেনে নেওয়া, দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া। তাদের হাত ধরেই অন্য পর্যায়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

তুলনামূলকভাবে পরের প্রজন্মের বা এখনকার ক্রিকেটারদের কাজটা সহজ। চাপও কম। তাদের কাছে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স চায় না দল। স্রেফ সিনিয়দের পাশে একটু অবদান রাখা, নিজের ভূমিকা ঠিকঠাক পালন করা। সেটিই করতে পারছে না কেউ।

এই যুক্তির সঙ্গে একমত হলেন সাকিব। অন্যরা পারফর্ম করলে যে তাদের কাজ সহজ হয়, দলের ভালো, সেটি তুলে ধরলেন নিজেই।

“হয়তো ওরা আরও একটু বেশি করতে পারলে ভালো হতো। যখন ওরা ভালো করেছে, তখন আমাদের দলটা ভালো করেছে। খেয়াল করে যদি দেখেন, ভারত, পাকিস্তান কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যখন সিরিজ জিতেছি, তখন ওদের অবদান ভালো ছিল। এ কারণে আমাদের পারফরম্যান্সের লেভেলটা উপরে ছিল।”

“ওটার ধারাবাহিকতা যদি আমরা ধরে রাখতে পারতাম, তাহলে আরও বেশি ভালো হতো। সেটা হয়নি। সেটা থেকে এখন ওভারকাম করতে হবে। সে জায়গাগুলো খুজে বের করতে হবে।”

খুঁজে বের করতে হবে ভবিষ্যতের জন্য তো বটেই, এখনকার প্রয়োজনেও। রোববারই আফগানিস্তানের সঙ্গে এশিয়া কাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াই। সিনিয়রদের পাশে অন্যরা না দাঁড়াতে পারলে আবারও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে দল।