হঠাৎ ইমরুল-সৌম্য ডাক পাওয়ায় অবাক হয়েছেন সাকিবও

0
54

দেশ থেকে ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে দুবাই। তাদেরকে দলে নেওয়ার খবর জেনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে অবাক হয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এভাবে দুজনকে উড়িয়ে আনার ঘটনাকে সাকিব আল হাসানও বলছেন অস্বাভাবিক।

অধিনায়ক ও সহঅধিনায়কই যখন বিস্মিত, দলের বাকিদের মনোভাবও আন্দাজ করে নেওয়া যায় অনায়াসেই। প্রায় সবাই অবাক। তার চেয়ে বেশি, প্রায় সবাই দ্বিধান্বিত। বার্তাটা খুব একটা পরিষ্কার নয় কারও কাছেই।

তামিম ইকবাল চোটে ছিটকে যাওয়ার পর থেকেই তার জায়গায় একজনকে আনার আলোচনা হয়েছিল। তবে দলসূত্রে জানা গেছে, লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর ভরসা রেখে, তাদের চাপ না দিতে বাড়তি আর কোনো ওপেনার তখন আনা হয়নি।

কিন্তু লিটন ভালো করতে পারেননি তিন ম্যাচে। দুটি ম্যাচ খেলে নবীন শান্ত পারেননি নিজেকে মেলে ধরতে। আরেকটু ধৈর্য ধরা উচিত কিনা, সেটি নিয়ে কথা চলছিল। আবার বাড়তি একজন ওপেনার আনা নিয়েও আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে দুই ওপেনারের ব্যর্থতার পর আর আলোচনার অপেক্ষা করেননি এখানে থাকা বোর্ডের বড় কর্তারা। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একজন নয়, দুজনকে ডেকে পাঠানো হয়। ম্যাচ চলার সময়ই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন বোর্ড প্রধানসহ অন্যরা, মাশরাফি-সাকিবরা তাই জানতেও পারেননি তখন।

দলের ভেতরই প্রশ্ন উঠছে দুজনকে ডেকে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে। শান্ত ও লিটন তো বটেই, দলের অন্যদের প্রতি ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে শান্তকে যেখানে অনেক দিন থেকেই মনে করা হচ্ছে দেশের ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যৎ এবং সেভাবেই গড়ে তোলা হচ্ছে; স্রেফ দুটি ম্যাচ দেখেই আস্থা হারিয়ে ফেললে নিজেকে নিয়েই তার মনে ঢুকে যেতে পারে সংশয়।

তাছাড়া লিটন ও শান্তকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট, অধিনায়কেরও নিশ্চয়ই ভাবনা ছিল। পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়া বা নির্ভার হয়ে খেলার একটি বার্তা ছিল। হুট করেই একসঙ্গে দুজনকে চাপিয়ে দেওয়ায় কোচ-অধিনায়কের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা তো থাকেই, ওই দুই ক্রিকেটারের প্রতি দলের লিডারশিপ গ্রুপের বার্তাটাও থমকে যায়।

সব মিলিয়ে দুটি ম্যাচ হেরে দেয়ালে প্রায় পিঠ থেকে যাওয়া দলে নতুন অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে দুজনকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। সাকিবের কণ্ঠেও কিছুটা ধরা পড়ল সেই সুর। শনিবার দুবাইয়ে টিম হোটেলে বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক মুখোমুখ হলেন সংবাদমাধ্যমের। ইমরুল-সৌম্যকে ফেরানোর প্রশ্নে শুরুতে থমকে গেলেন। পরে এড়াতে চাইলেন। এরপর কিছুটা মুখ খুললেও আবার সামলে নিলেন। তবে মূল সুরটা স্পষ্ট হলো ঠিকই।

“(বেশ কিছুক্ষণ ভেবে) একটু… একটু অস্বাভাবিক। কারণ এমনটি সাধারণত হয় না। তবে দলের প্রয়োজনে যে কোনো পরিস্থিতিতে কোনো সিদ্ধান্ত তো হতেই পারে।”

শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় ইমরুল ও সৌম্যর দুবাইয়ে পা রাখার কথা। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে হোটেলে ফিরে পরদিন আবু ধাবিতে গিয়ে ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় তারা কতটা থাকবেন, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আবার যদি না খেলানো হয়, তাহলে হুট করে উড়িয়ে আনার সিদ্ধান্তও প্রশ্নবিদ্ধ হবে আবার।

এই সব প্রশ্ন ও অস্বস্তিতে সঙ্গী করেই রোববার নামতে হবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে, যে ম্যাচ হারলে বিদায় এক রকম নিশ্চিত। এমনিতেই কঠিন কাজটা আরও কঠিন হয়ে উঠল নানা পারিপার্শ্বিকতায়।