আইপিএলে এসে লালসার শিকার বিদেশি চিয়ার লেডিরা!

আইপিএলে চার-ছক্কার বৃষ্টির মাঝে গ্যালারিতে চলে চিয়ার লেডিদের কোমর দোলানো। কোহলি, ডিভিলিয়ার্স, গেইল, গম্ভীর, স্টার্ক, সাকিবরা যখন ব্যাট-বল হাতে সবুজ মাঠ শাসন













করেন, তখন অবিশ্রান্তভাবে সাজানো উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে নিজেদের কাজ করে যান তারা। আইপিএল নামক মোহময়ী ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর এই চিয়ার লিডাররাই। তাদেরকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিনিময়ে টাকা যায় আয়োজকদের পকেটে।

কিন্তু ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইপিএলে মৌসুমী চাকরি করতে আসা চিয়ার-কন্যাদের ভারতের বিষয়ে অভিজ্ঞতা কেমন তা শুনলে চমকে উঠতে হয়। ভারতের শীর্ষ এক গণমাধ্যমে তারা খোলাখুলি জানালেন তাদের সেই অভিজ্ঞতা। তাদের পোশাক, অভিজ্ঞতা, অনুভবসহ সবকিছুর বিষয়েই কথা বলেছেন নাম না প্রকাশ করার শর্তে। নাম প্রকাশ করলে চাকরি তো যাবেই, আরও খারাপ কিছুও হতে পারে!













সাক্ষাতকার দেওয়া সেই চিয়ার লিডারের বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘পাশ্চাত্যে যখন কোনো নারী নৃত্যশিল্পী নাচেন, তখন তার পোশাক, শরীর নিয়ে কেউ ভাবেই না। কিন্তু এদেশে চিয়ারলিডারদের সেক্স অবজেক্ট হিসাবেই দেখা হয়।’

অন্য এক চিয়ারলিডার বলেছেন, ‘আমি একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে টুর্নামেন্টে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, এখানে যৌন পণ্য হিসেবেই আমাকে দেখা হয়।’













চিয়ার গার্লদের প্রায়ই দর্শকদের যৌন-ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ সইতে হয়। দর্শকদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক চিয়ারলিডার বলেন, ‘মাঠে অনেকেই এমন অঙ্গভঙ্গি করে, মন্তব্য করে যা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। এড়িয়ে যেতে বাধ্য হই আমরা। ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখি।’

আইপিএলে এসে মোহভঙ্গ হওয়ার পর উঠতি মডেলদেরও এই পেশা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সেই চিয়ারলিডার। বলেছেন, ‘যদি কেউ চিয়ারলিডার হতেই চায়, তাহলে অবশ্যই নাচের তালিম নিয়ে চিয়ারলিডার হওয়া উচিত। কারণ সেক্ষেত্রে এই পেশা হতাশ করলে, নৃত্যশিল্পী হিসেবে জীবনযাপন করা যেতে পারে।’

আইপিএলের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছিল বর্ণবিদ্বেষের। শ্বেতাঙ্গ মেয়েদের ছোট পোশাক পরানোর বিরুদ্ধে অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন।













অনেকেই নারীর দেহকে এভাবে পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করছেন। কিন্তু ক্রিকেট বাণিজ্যের যুগে এটা কি বন্ধ করবে আইপিএল কমিটি?