কিশোরকে বিয়ে, যৌন নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার তরুণী

0
79

কিশোরকে বিয়ের অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যৌন নির্যাতন, শিশু সুরক্ষা (পকসো) এবং বাল্যবিবাহ আইনে মামলাও দায়ের হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আনা হয়েছে অপহরণ এবং অপরাধমূলক প্ররোচনা দেওয়ারও। বর্তমানে ওই তরুণী জেলহাজতে।

৩০ নভেম্বর, শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর ১৭ বছরের এক কিশোরের সঙ্গে ২২ বছরের ওই তরুণীর বিয়ে হয়। তার পরের মাসে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরের মা। অবশ্য ওই তরুণীর নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

কিশোরের মা জানান, ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় থেকে বিয়ে হয় তার ছেলের। বিয়ের কিছুদিন পর, ২৩ নভেম্বর রাত ১০টা নাগাদ আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে আচমকাই তাদের বাড়িতে হাজির হন ওই তরুণী। একসঙ্গে সেখানে থাকতে চান বলে জানান। কিন্তু তারা রাজি না হলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান ওই তরুণী। পরে তার পিছু পিছু বেরিয়ে যায় ওই কিশোরও। তাদের কাকুতি-মিনতিতেও লাভ হয়নি। বাড়ি ফিরতে অস্বীকার করে কিশোর।

কিশোরের মা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার কিশোর ছেলেকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেছেন ওই তরুণী। এর পর থেকেই তরুণীটি তার ছেলেকে লাগাতার মানসিক নির্যাতন করে চলেছেন, যার জেরে ছেলের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন তিনি। বাড়িতে আসা-যাওয়া ছিল তার ছেলের। সেই সময় কোনো কারণে দেখা না করলে তাকে আত্মহত্যার হুমকি দিতেন ওই তরুণী। এমনকি গায়ে কেরোসিন ঢেলে এবং বিষ খেয়ে আত্মহত্যাও করতে গিয়েছিলেন। এত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে পারছিল না তার ছেলে; যে কারণে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ফেল করে। তাদেরকে সে মানসিক অস্থিরতার কথাও জানিয়েছিল। কিন্তু ওই তরুণীর ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। মা হিসেবে ছেলের হয়ে তাই আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, বিয়ের চার মাসের মধ্যেই ওই তরুণী সন্তানসম্ভবা হন। পরে একটি মেয়ের জন্ম দেন। মেয়েটি বয়স এখন পাঁচ মাস। আদালতের অনুমতিক্রমে এ মুহূর্তে বাইকুলা জেলে মায়ের সঙ্গেই রয়েছে শিশুটি।

এদিকে শিশুটিকে নাতনি বলে মানতে নারাজ ওই কিশোরের মা। তার দাবি, বিয়ের চার মাসের মধ্যেই সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন ওই তরুণী। আগেও দুবার বিয়ে হয়েছিল ওই তরুণীর। পরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ওই সন্তান অন্য কারো। খামোখা তার ছেলের ঘাড়ে দায় চাপানো হচ্ছে।

অন্যদিকে কিশোরের মায়ের অভযোগ অস্বীকার করেছেন তরুণী। তার দাবি, নিজের ইচ্ছাতেই তার সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল ছেলেটি। সেই মতো বিয়েও করেছিল তারা। সুখেই জীবন কাটছিল তাদের। কিন্তু ছেলেটির মা তা মেনে নিতে পারেননি, তাই খামোখা হেনস্তা করছেন।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী ২১ পেরোনোর পরই ছেলেদের প্রাপ্তবয়স্ক ধরা হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়সের সীমা ১৮ বছর। ছেলেটিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মানলেও, বিয়ের সময় তার বয়স মোটেও ১৭ বছর আট মাস ছিল না বলে আইনজীবী খালেদ আজমি মারফত জামিনের আর্জি জানিয়েছেন ওই তরুণী।