শখের বশে ভিডিও বানিয়েছিল মেয়েটি, তারপর যা হল (ভিডিও)

0
257

মেয়েটি শখের বশে নিজের ৩ মিনিটের নগ্ন ভিডিও বানিয়েছিল। ফোন ঘাঁটতে গিয়ে তা দেখে ফেলেছিল রুমমেট বান্ধবী। মজার এই ঘটনা নিজের বয়ফ্রেন্ডকে জানাতে দেরি করেনি বান্ধবী। গার্লফ্রেন্ডের সেই লাজুক রুমমেটকে নগ্ন দেখার লোভ কি করে সামলায় সে।

নানা ছল-চাতুরি করে ওই ৩ মিনিটের ভিডিও ছেলেটি হস্তগত করে। নিজে দেখে শেয়ার করে বন্ধুদের মাঝেও। যে মেয়েটির ভিডিও সে এসবের কিছুই জানে না। অবশ্য জানতে সময়ও লাগেনি। নানা হাত ঘুরে ভিডিওটি এসে পড়ে মেয়েটির এক ক্লাসমেটের হাতে। সে মেয়েটিকে ব্লাকমেইল করা শুরু করে। এতো চাপ আর লজ্জা সহ্য করতে না পেরে এরপর একদিন আত্মহত্যা করে মেয়েটি।

ঘটনা ২ :
মেয়েটির সঙ্গে এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় হয় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একটি ছেলের। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম। ঘোরাঘুরি, ফোনে রাতভর কথা বার্তা, বিনিময় হয় সবই। কিন্তু মাস ছয়েকের মধ্যেই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

‘মতের মিল নেই’- অভিযোগে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় ছেলেটি। রঙিণ চশমার ফোকর গোলে হঠাৎ অন্ধকার ঢুকে পড়ে জীবনে। সেই অন্ধকার আরো প্রকট হয় যখন স্কাইপের নগ্ন চ্যাটের ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ছেলেটি তার বন্ধুদের সঙ্গেও মেয়েটিকে সম্পর্ক স্থাপনে চাপ দিতে থাকে!

ঘটনা ৩:
স্কলারশীপ নিয়ে বিশ্বভারতীতে পড়তে যায় মেয়েটি। দু-মাসের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ তাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়! গ্রামে থাকতে মেয়েটির সঙ্গে প্রেম ছিল নিজ বিদ্যালয়েরই এক ছাত্রের। সম্পর্কটা টেকেনি। ক্ষিপ্ত ছেলেটি তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচ্যাটের দৃশ্য ই-মেইলে পাঠিয়ে দেয় শিক্ষকদের কাছে। ব্যাস, স্কলারশীপ বাতিল করে মেয়েটিকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা ৪:
কয়েক মাস আগে মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর আট মিনিটের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। স্ব-ইচ্ছায় নিজেদের একান্ত মূহুর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছিল তারা। কোন ভাবে যেন সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। হতে পারে তাদের ফোনটি হারিয়েছে, হতে পারে ছেলেটির কোন বন্ধু এই কাজটি করেছে আবার এমনও হতে পারে ছেলেটি নিজেই এতে জড়িত!

যাই ঘটুক, এই ঘটনায় ছেলে-মেয়ে দুটির মানসিক অবস্থা কতটা দুর্বিষহ হয়েছিল তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। জানি না, আদৌ কোনদিন এই ট্রমা থেকে ওরা বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছে কিনা! আমি শুধু জানি, নিজের যৌণদৃশ্য পৃথিবীর অন্য কোন মানুষ দেখুক তা কোন সুস্থ্য মানুষ চায় না।

কিন্তু ক্ষণিকের একটুখানি অসতর্কতা, একটুখানি কৌতুহল কিংবা নোংরা শখই শেষ করে দিতে পারে তিলে তিলে গড়ে তোলা ব্যক্তির ইমেজ, আত্মসম্মান, এমনকি বেঁচে থাকার সমুদয় ইচ্ছাশক্তিও।

এমন ভয়াবহ কোন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবার আগে সতর্ক হবার এখনই সময়। এক সময় প্রাণাধিক ভালোবাসা ছিল, না করতে পারেনি, আদান-প্রদান হয়েছে মন ছাড়াও বহু কিছু। একদিন হুট করে সম্পর্কটা ভেঙ্গে গেলো! ব্যাস, মুহুর্তেই পাল্টে যাবে সব। প্রিয় মানুষটাই পরিণত হবে ভয়ঙ্কর এক জানোয়ারে। মনে রাখবেন, এমন কোন ছবি বা ভিডিও তুলবেন না যা প্রিয় বন্ধুকেও দেখাতে পারবেন না।

ভালোবাসার দোহাই দিয়ে যদি নগ্ন হতে বলে, যদি এমন কোন ভিডিও করতে বলে যা আপনি মরে গেলেও অন্যকে দেখাতে চাইবেন না। তবে বুঝবেন আপনাকে নয়, মানুষটা ভালোবাসে আপনার অন্যকিছু! মানুষকে অবিশ্বাস করা পাপ; তবে অন্ধ বিশ্বাস করা মহাপাপ!