কী ভয়ংকর, কৃমি মানুষের মাথায়

0
144

কৃমি মানুষের মাথায়- মানুষের মস্তিষ্ক কখনো কৃমি হতে শুনেছেন? হয়তো শোনেননি। তবে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে চীনে। অবাক করা ঘটনা হলেও এক চীনা ব্যক্তির মস্তিষ্ক থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা ফিতাকৃমি বের করে এনেছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের দাবি, যখন ওই ব্যক্তির মস্তিষ্ক থেকে এটা বের করা হচ্ছিল তখনও কৃমিটি সাঁতার কাটছিল।

চীনরে ওই নাগরিকে নাম লিও। তার বয়স ২৬ বছর। লিও কয়েকমাস যাবত মৃগীরোগে ভুগছিলেন।

অসুস্থ লিওকে চিকিৎসার জন্য চীনের জিয়াংজির রাজধানী নানচ্যাংয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষার করা হলে লিওর মস্তিষ্কে কৃমির অস্তিত্ব পায় চিকিৎসকরা।

পরে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে চায়না মর্নিং পোস্ট। চায়না মর্নির পোস্টের ওই প্রতিবেদনে লিওর চিকিৎসক ডা. ওয়াং চুনলিয়াং বলেছেন, যখন ফিতাকৃমিটি লিওর মস্তিষ্ক থেকে বের করা হচ্ছেল তখনও এটি জীবিত ছিল। ফিতাকৃমিটির সাদা রঙের এবং এটি সাঁতার কাটতেও পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে লিওর মস্তিষ্কে কীভাবে ফিতাকৃমি ঢুকলো?সেই প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন চিকিৎসরা। তারা বলেছেন, বিষাক্ত, গ্রিল করা কিংবা কাঁচা খাদ্য গ্রহণের কারণে লিওর মস্তিষ্কে ফিতাকৃমিকে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য, লিও গ্রিল করা খাবার খুব পছন্দ করেন।

প্রতিদিন লেবু পানি পান করলে যা উপকারিতা পাবেন

শুধু এক গ্লাস পানি আর অর্ধেক লেবু। নিয়মিত পান করলেই দেখবেন ডাক্তারের চেম্বারের ঠিকানা ভুল গেছেন। লেবু পানি পান করা শুরু করলে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে মেলে আরও অনেক উপকার।

লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে : লেবু পানি পান করলে লিভারের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে লিভারের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে।

পুষ্টির ঘাটতি দূর হয় : লেবু পানিতে যে কেবল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মজুত থাকে, তা নয়, সেই সঙ্গে থাকে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং আরও কত কী, যা দেহে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে শরীরকে শক্তপোক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

দেহের পি এইচ লেভেল ঠিক থাকে : ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে লেবু পানি পান করলে দেহের পি এইচ লেভেলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। ফলে ভেতর এবং বাইরে থেকে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : প্রতিদিন লেবু পানি পান করা শুরু করলে দেহে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত মাত্রায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে : হাজারো বিউটি প্রডাক্ট যা করে উঠতে পারেনি, তা লেবুর পানি নিমেষে করে ফলতে পারে। এই পানীয়তে বেশ কিছু উপাদান ত্বকের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনে। সেই সঙ্গে ত্বকের বয়স কমানোর পাশাপাশি ব্ল্যাক হেডস এবং বলিরেখা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। গরমকালে ত্বককে ঠাণ্ডা এবং ঘামমুক্ত রাখতে লেবুর জল দিয়ে বারে বারে মুখটা ধুতে পারেন, দেখবেন উপকার পাবেন।

ওজন হ্রাস পায় : নিয়মিত লেবু পানি পান করলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্তি মেদ ঝরে যেতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ লেবুতে পেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে।

ফলে বারে বারে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। কম মাত্রায় খাবার খেলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কম মাত্রায় ক্য়ালরির প্রবেশ ঘটে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগই পায় না।

এনার্জির ঘাটতি দূর হয় : ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি না খেয়ে প্রতিদিন এক গ্লাস করে লেবুর পানি পান করার চেষ্টা করুন। দেখবেন শরীর চনমনে হয়ে উটতে সময়ই লাগবে না। লেবুতে থাকা একাধিক উপকারী উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে সকাল সকাল শরীর এবং মস্তিষ্ক চাঙ্গা হয়ে উঠতে একেবারেই সময় লাগে না।

শ্বাস কষ্টের মতো সমস্যা কমে : যারা অ্যাস্থেমা বা কোনও ধরনের রেসপিরেটরি প্রবলেমে ভুগছেন তারা যত শীঘ্র সম্ভব রোজের ডায়েটে লেবুর পানিকে অন্তর্ভুক্ত করুন। দেখবেন কেমন ফল পান! এই পানীয়টি শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত একাধির জটিলতাকে কমিয়ে ফেলতে দারুন কাজে আসে।

স্ট্রেস এবং অবসাদের থেকে মুক্তি মেলে : নিয়মিত লেবুর পানি পান করলে স্ট্রেস একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে অবসাদের প্রকোপও কমে। লেবু পানিতে বেশ কিছু উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র বিশেষ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে এমন সব সমস্যা নিমেষে কমে যেতে শুরু করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে : লেবু পানিতে থাকে প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম, যা রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল লেবু পানি পান করা শুরু করুন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন। তবে এমনটা করার আগে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না যেন।

পেটের স্বাস্থ্যের প্রকোপ কমে : যারা বদ হজম, কনস্টিপেশন, বারংবার পেট খারাপ সহ নানাবিধ পেটের রোগে ভুগে তাকেন তারা প্রতিদিন সকালে গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন।

স্টমাক অ্যাসিডের ক্ষরণ ঠিক মতো হতে শুরু করবে। ফলে রোগের প্রকোপ তো কমবেই, সেই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিনও বেরিয়ে যাবে।

মুখ গহ্বরের নানা রোগ নিমেষে সেরে যায় : মুখ থেকে খুব দুর্গন্ধ বের হয়? আজ থেকেই লেবু পানি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন বদ গন্ধ একেবারে কমে যাবে। শুধু তাই নয়, মাড়ি থেকে রক্ত পাত এবং দাঁতে যন্ত্রণা হওয়ার মতো সমস্যা হলেও এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাতে পারেন। দেখবেন দারুন উপকার পাবেন।

সংক্রমণের প্রকোপ কমে : লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ। তাই তো লেবু পানি যে কোনও ধরনের সংক্রমণ, বিশেষত গলার সংক্রমণ কমাতে দারুনভাবে সাহায্য করে থাকে। এক্ষেত্রে লেবু পানি দিয়ে গার্গেল করলেই উপকার পাওয়া যায়।

হজমের সমস্যা হলে যা করনীয়!

হজমের সমস্যায় অনেকেরই হয়ে থাকে। একটু বেশি খেয়ে ফেললে কিংবা স্বাভাবিকের চাইতে একটু বেশি ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে কিছুদিন পরপরই হজমের সমস্যায় পড়তে হতে পারে অনেককেই।

এই সকল হজম সমস্যা সমাধানের রয়েছে কিছু প্রাকৃতিক সহজ উপায়। কিছু ছোট্ট কাজে হজমশক্তি বাড়িয়ে নিয়ে খুব সহজেই মুক্ত থাকা যায় হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে।

১) খাবার ভাল করে চিবিয়ে খান-

অনেকেই খাবার দুয়েকবার চিবিয়ে গিলে ফেলেন। এতে করে হজমের সমস্যা অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই কাজটি হজমের সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। তাই খাবার খাওয়ার সময় যতোটা বেশি চিবিয়ে খাওয়া যায় ততোই আপনার হজমের জন্য ভাল।

২) ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খান-

ক্যালসিয়াম আমাদের হজমশক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে কার্যকর। ক্যালসিয়াম আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতেও বেশ সহায়তা করে।

৩) প্রসেসড খাবার খাওয়া বন্ধ করুন-

টিনজাত প্রসেসড খাবার খেলে হজমে সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। কারণ খাবারগুলো যখন প্রসেস করা হয় তখন অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই সকল প্রসেস করা খাবারের কারণে হজমে সমস্যা পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্র তার কর্মক্ষমতা হারাতে পারে।

৪) শাক-সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন-

শাক-সবজি খেলে হজমের সমস্যা অনেকটা কমে আসে। কারণ শাক-সবজি দ্রুত হজম হয় এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। সব চেয়ে ভাল হয় যে সব সবজি কাঁচা খাওয়া যায়, সেগুলি যদি খাওয়া যায়। এতে হজমশক্তি আরও উন্নত হয়।

৫) ঝাল খাবার খান-

গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের ক্যাপসাইসিন হজমশক্তি ভাল করতে অনেক বেশি কার্যকরী। খাবারে বুঝে শুনে একটু ঝাল দিয়ে খেতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।