কুয়েত প্রবাসীর কন্যার বিয়ের ৩য় দিনে লাশ শ্বশুরবাড়ির পুকুরে

0
22

ঢাকার দোহারে মেহেদীর রং শুকাতে না শুকাতেই ৩ দিনের মধ্যে শিখা আক্তার (১৮) নামে নববধুর লাশ উদ্ধার করেছে দোহার থানা পুলিশ। ৩দিন আগে গত শনিবার আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয় শিখার। নিহত শিখা দোহার ঘাটা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী সিরাজ মিয়ার কন্যা।







সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দোহার উপজেলার ব্যাঙ্গারচর চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন নববধুর শ্বশুর বাড়ি মিয়া বাড়ির পুকুরে কচুরীপানার মধ্যে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত নব গৃহবধূ শিখার শ্বাশুড়ী, ভাসুর, দুই জা’কে আটক করেন। নিহত শিখার স্বামী রুহুল আমিন পলাতক রয়েছেন। নববধু হত্যাকারী স্বামী রুহুল আমীনের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।







স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মিয়া বাড়ীর পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে শিখাকে ভাসমান দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।







পুলিশ জানায়, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে এবং মৃত দেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় ওড়না দিয়ে কলস বাধা ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে লাশ লুকিয়ে রাখার জন্য গলায় কলস বেঁধে দেওয়া হয়েছিলো।







নিহতের মা রুনু আক্তার জানান, তার মেয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত শনিবার তার মেয়ে শিখাকে ব্যাঙ্গারচর বিলের পাড় চৌধূরী পাড়া গ্রামে স্থানীয় রুহুল আমিনের কাছে আনুষ্ঠানিক বিয়ে দেন। মেয়ের তুলে দেয়ার সময় অতিরিক্ত সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গহনার পাশাপাশি ইমিনেশনের অলংকার পড়িয়ে সাজিয়ে দেয়া হয়। বর রুহুল আমিনের পরিবার ইমিনেশনের বিষয়টি ভালভাবে মেনে নেয়নি।







পরিবর্তিতে রাতেই স্বর্ণালংকার ও ইমিনেশনের অলংকার খুলে নিয়ে শিখার মা-বাবাকে স্বর্ণালংকার দেয়ার চাপ প্রয়োগ করেন। ক্ষোভে বর রুহুল আমিন বাসর রাতে মারধর করে বাসর ঘর থেকে বেড়িয়ে গিয়ে বিচ্ছিন্ন থাকে ।দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।







টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার পাটখাগুরী গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী অনুল বেগমকে (৪৮) টাকার লোভে খুন করা হয়। একই গ্রামের মৃত আব্বাস আলী খানের ছেলে জুনু খান (৩১) এক লাখ টাকা পাওয়ার লোভে তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার লাশ অন্যত্র লুকিয়ে রাখে।







হত্যাকারী জুনু খানকে গত শনিবার ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার (৫ আগস্ট) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় তার কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।







পুলিশ সুপার বলেন, গত ৫ জুলাই ভোর রাতে এই হত্যাকা- ঘটে। ঘটনার চারদিন পর গত ৯ জুলাই বাসাইলের জীবনেশ্বন গ্রামের এক পতিত জমি থেকে অনুল বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১০ জুলাই নিহতের মেয়ে ঝুমা আক্তার বাদি হয়ে আজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে বাসাইল থানায় মামলা করেন। বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার একমাসের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ আাসমীদের সনাক্ত করা হয়। অনুল বেগম তার বাড়িতে একাই থাকতেন। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান।







পুলিশ সুপার বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আসামী জুনু খান জানিয়েছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং হত্যার পরিকল্পনাকারীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা পাওয়ার লোভে তিনি অনুল বেগমকে খুন করে। এক লাখ টাকার মধ্যে তিনি দুই হাজার টাকা নগদ পান। বাকি টাকা হত্যার পর পাওয়ার কথা ছিল। জুনু খান গত ৫ জুলাই রাতে কৌশলে অনুল বেগমের ঘরে ঢুকে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়। পরদিন ৬ জুলাই রাতে পুনরায় তিনি অনুল বেগমের ঘরে ঢুকে বিছানার চাদর দিয়ে লাশ মুড়িয়ে কাঁধে নিয়ে প্রতিবেশী বিদ্যুৎ-এর নৌকাযোগে একই উপজেলার জীবনেশ্বর গ্রামের এক পতিত জমিতে কচুরিপানার ভিতর লাশ লুকিয়ে রাখে।