Sunday , 20 May 2018

ছেলেকে দেখতে খুব মন চাই কিন্তু সাহস পাই না, যদি বউয়ের সাথে ঝামেলা হয়’!

আজ ১৩ মে বিশ্ব মা দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিনটি। মাকে ভালোবাসার কোন দিনক্ষণ না থাকলেও সন্তানকে এক পলক দেখতে না পাওয়ার কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অনেক মা।কোন কোন মা বৃদ্ধাশ্রমে শুয়ে বসে একাকিত্ব যন্ত্রণায় চোখের পানি ফেলছেন প্রিয় সন্তানের মুখটি একটিবার দেখার জন্য।







বিশ্ব মা দিবসে সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে এক এক জন মায়ের গল্প এক এক রকম। এক মা আকুতি ভরে কণ্ঠে জানান, ‘ছেলে বিয়ে করে বউ পেয়ে আমি মা, আমাকে ভূলে গেছে। অবহেলা অনাদর সহ্য করতে না পেরে এখানে (বৃদ্ধাশ্রমে) এসেছি।

এটাই শেষ ঠিকানা এখন। আমার ছেলে আমাকে কখনো দেখতে আসেনি। কখনো জানতে চাইনি মা তুমি কেমন আছো ! ছেলেকে দেখতে খুব মন চাই। কিন্তু সাহস পাইনা দেখতে যাওয়ার। আমার কারনে যদি তার সংসারে ঝামেলা হয়।সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে কারও স্বামী সংসার নেই। আবার কেউ সন্তানের অবহেলায় জীবনের শেষ দিনগুলো বৃদ্ধাশ্রমের আবদ্ধ দেওয়ালের মধ্যেই পার করছেন।







বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মায়ের গল্প এমনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে সেটা কখনো ভাবেতেও পারেনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষগুলো। বৃদ্ধাশ্রম যেন কোন মায়ের শেষ ঠিকানা না হয় সেটাই দাবী বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মায়েদের।

এমনি এক মা ১১০ বছর বয়সের রোকেয়া। প্রায় বিশ বছরের বেশি সময় মা অচল হয়ে আছেন। কখনো তার কোন কিছুই ত্রুটি হতে দেননি তার এক মাত্র ছেলে অবেদ আলী মোড়ল। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার আটারই গ্রামে বাড়ী অবেদ আলীর। অবেদ আলী পেশায় কাঠমিস্ত্রি।

নিজের সামান্য উপার্জন থেকে রোজ মায়ের জন্য ঔষধ ও ভাল খাবার নিয়ে আসেন। তার মা এতটা বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছেন। তবু একটুও ভালবাসা কমেনি মায়ের প্রতি। মায়ের কাপড় ধোয়া, রোজ সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খাবার দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ নিজে হাতে করেন অবেদ আলী।







আলেয়া বেগম নামে এক মা জানান, ‘ছেলেরা সবাই ভাল চাকরি করে। আমার দিকে তারা খেয়াল করেনা। ভাল আছি না খারাপ আছি সেটা কখনো জানতেও চাইনা। আমার মৃত্যুর জন্য তাদের অপেক্ষা।’তবে সন্তানরা যেমন হোক মায়ের একমাত্র চাওয়া সুখে থাক সন্তানরা।