Sunday , 20 May 2018

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে গোপন তথ্য ফাসঁ করলো ফখরুল!

লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে মহাকাশে সদ্য উৎক্ষেপিত বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’ এর মালিকানা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএনপি।







এর মালিকানা ‘দুই ব্যক্তির কাছে চলে গেছে’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; তবে তাদের পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি।

শনিবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ ঘটে বাণিজ্যিক কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এর। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে পা রাখল বাংলাদেশ।

মহাকাশে বাংলাদেশের এই সাফল্যে বিএনপির নীরবতা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্ন উত্থাপনের মধ্যে শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এনিয়ে কথা বলেন ফখরুল।







বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ওটার (বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট) মালিকানা চলে গেছে, জানেন তো। এই স্যাটেলাইটের মালিকানা চলে গেছে দু‘জন লোকের হাতে এবং সেখান থেকে আপনাদেরকে কিনে নিতে হবে।”

বিটিআরসির অধীনে নেওয়া প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত এই উপগ্রহের মাধ্যমে বিপুল রাজস্ব আয়ের আশা করছে সরকার।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলছেন, এই যোগাযোগ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মূলত তিন ধরনের সেবা পাওয়া সম্ভব। এগুলো হল- সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ ও ডেটা কমিউনিকেশন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ জোগান দেওয়া হয় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এক হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয় এইচএসবিসি থেকে।

স্যাটেলাইট মহাকাশে কাজ শুরু করার তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এটি পরিচালনায় গঠিত কোম্পানি বিসিএসসিএল। পুঁজিবাজারে এই কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনার কথাও ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ছবি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ফাইল ছবি)
স্যাটেলাইটের মালিকানার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের কথা জানালেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে ফখরুল বলেন, “এটা আগে ঘুরক, আবর্তন করুক পৃথিবী, পরিক্রমা করুক, তখন দেখা যাবে।”













আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তি করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফখরুল।

ভারতের সঙ্গে পাঁচটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের খবর গণমাধ্যমে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই চুক্তি করার অধিকারটা তাকে (প্রধানমন্ত্রী) কে দিয়েছে? কারণ এই পার্লামেন্ট তো নির্বাচিত নয়। জনগণের পক্ষে যত চুক্তি করেন আপনি, সেই চুক্তি তো জনগণের চুক্তি নয়।”

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে বিএনপি; যারা ওই ভোট বর্জন করেছিল।

ফখরুল বলেন, “সব চুক্তিগুলো আমরা দেখব। যেমন মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করেছে, একটা লোকও (রোহিঙ্গা) যেতে পারেনি। যেটা আমার সবচেয়ে বেশি দরকার, সেই তিস্তার পানি চুক্তি এখন পর্যন্ত হয়নি।”

খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ডা. সামীউল আলম সুধীনের উপর হামলায় প্রতিবাদে বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন ফখরুল।







বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন ড্যাবের মহাসচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, শেরে বাংলানগর কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়ের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম ভুঁইয়া, এ্যাবের প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু।