Sunday , 20 May 2018

তাসপিয়ার মৃত্যুর রহস্য: পুলিশের হাতে ৪ ক্লু

চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিনের মৃত্যু রহস্যের কূল-কিনারা এখনো করতে পারেনি পুলিশ। তাসফিয়া খুন হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে ফিরোজ নামে এক যুবলীগ নেতাকে খুঁজছে পুলিশ। সে সঙ্গে একটি আংটি, অটোরিকশা চালকের সন্ধান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ মৃত্যু রহস্য উন্মোচিত হবে বলে পুলিশের ধারণা।













পুলিশের তথ্যমতে, ১লা মে বিকালে তাসফিয়া নিখোঁজের পর তার মায়ের ফোন পেয়ে আদনান তাদের বাসায় যায়। এ সময় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন প্রথমে আদনানকে নিয়ে চায়না রেস্টুরেন্টে যান। সেখান থেকে আবারও বাসায় আসেন। সেখানে আদনানকে আটকে রাখেন তিনি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন…
খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা ফিরোজ ও যুবলীগ কর্মী আকরাম তাসফিয়াদের বাসায় আসেন। এ সময় আদনানকে ছেড়ে দিতে সময় বেঁধে দেন তারা। পরে দুই ঘণ্টার মধ্যে তাসফিয়াকে বাসায় ফেরত দেয়ার কথা বলে আদনানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর লাপাত্তা হয়ে যান তারা।

ওই রাত শেষে বুধবার সকালে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় থেকে তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করলেও দুপুর ২টার সময় পরিচয় মিলে।

পুলিশ জানায়, যুবলীগ ক্যাডার ফিরোজ অস্ত্রসহ এক সময় র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিল। ভারতে বন্দি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাজ্জাদের সহযোগী সে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ২০১৩ সালের জুলাই মাসে অস্ত্রসহ দুবার আটক হয় পুলিশের হাতে।

জেল থেকে বেরিয়ে ২০১৫ সাল থেকে ফিরোজ যুবলীগের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়। সে সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের ছবি ব্যবহার করে বিলবোর্ড টাঙিয়ে সমালোচনায় আসে ফিরোজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের চাঁদাবাজি ও খুনের অপারেশনে সক্রিয় ছিল ফিরোজ। এক সময় যৌথ বাহিনীর অভিযানের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিলেও সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো সাজ্জাদ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ফিরোজের মাধ্যমে।

এছাড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাসফিয়া যে অটোরিকশায় উঠেছিলেন, সেই অটোরিকশায় করেই তিনি পতেঙ্গায় পৌঁছান। সেই অটোরিকশায় তাসফিয়া এক থেকে দেড় ঘণ্টার মতো ছিলেন। এই সময়ে কোনো ফাউল প্লে হয়েছিল কি না পুলিশ সেটা খতিয়ে দেখছে।

এছাড়া রেস্টুরেন্টের ভিডিও ফুটেজে তাসফিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, তাসফিয়া ওই আংটি অটোরিকশা চালককে দিয়ে ভাড়া মিটিয়েছে।













৪ঠা মে নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২ মে স্থানীয়রা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা লাশটি তাসপিয়ার বলে সনাক্ত করেন।

সুরতহাল রিপের্টে মরদেহের এক চোখ উপড়ে ফেলা, অপর চোখ নষ্ট করে দেয়া ছাড়াও নাক-মুখ থেঁতলানো, পিঠ, বুক এবং নিতম্বে নির্যাতনের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। তার বুকের মাঝেও নখের দাগ রয়েছে।

এর আগে গত ১ মে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্রী তাসপিয়া আমিন।

এ ঘটনায় ৩ মে তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় তাসপিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আদনান মির্জা মামলার আসামি ফিরোজের পরিচালিত ‘রিচ কিডস’ নামের গ্যাংস্টারের (এডমিন) প্রধান। আর বাকি চার আসামি সেই গ্যাংস্টারের সদস্য- শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও সোহায়েল প্রকাশ সোহেল।







তাসপিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনেছেন।