Sunday , 20 May 2018

সাজানো-গোছানো সংসার ভেঙেছি, প্রাণপ্রিয় স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছি

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল অপহরণের সেই ঘটনা এখনও ভুলতে পারিনি শীতলক্ষ্যা তীরের মানুষ। সাত খুনের ঘটনার পরই আলোচনায় আসে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনের এক সময়কার আলোচিত ও ‘প্রভাবশালী’ বান্ধবী সাবেক মহিলা কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলার নাম। একই সাথে মুখে মুখে উচ্চারিত হতে থাকে তার একাধিক স্ত্রীর নামও।







তবে, ২০১৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি নূর হোসেনের ফাঁসির দণ্ডাদেশ ঘোষণার পর সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে নীলা ও এই সন্ত্রাসীকে ঘিরে নানা কাহিনী। কারণ নূরের কারণে একসময় বিপুল দাপট ছিল নীলার। তবে নীলা বরাবরই দাবি করে আসছেন, তার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও নূর হোসেন তাকে বিয়ে করেছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন এই সাবেক মহিলা কাউন্সিলর।







তিনি খেদোক্তি করে বলেন, এই ভুল পথে পা বাড়ানোর কারণে আমার জীবন এখন অভিশপ্ত। সাজানো-গোছানো সংসার ভেঙেছি, প্রাণপ্রিয় স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছি। এখন আমি অসহায়। এলাকার সবাই আমাকে নূরের স্ত্রী হিসেবে জানলেও আমার সঙ্গে তার দাম্পত্য অধিকারের সম্পর্ক নেই।







স্বামী-সন্তানের জীবন রক্ষার জন্য নিজের সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে তার স্ত্রীর অভিনয় করে গেছি দিনের পর দিন। কারণ আমি ছাড়াও নূরের আরও পাঁচজন স্ত্রী ছিল। এত স্ত্রীর ভিড়ে আমার কোনো গুরুত্ব ছিল না। আমাকে কোনো সম্পত্তি কিংবা অধিকার দেয়নি।







সাত খুন মামলার রায় ঘোষণার পর নীলার অভিব্যক্তি জানতে দেশের গণমাধ্যম তত্পর হয়। নীলা তার অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আজ যারা গলাবাজি করছে তারা কি নূর হোসেনের কাছ থেকে অর্থবিত্ত ও সুযোগ সুবিধা নেয়নি? তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলছে না কেন?







নীলা বলেছেন, আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, সাত খুনে যারা জড়িত, তাদের সবার সাজা হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে নূর হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।







প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহৃত হন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার সহ সাতজন। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্মা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩৫ জনকে আসামী করে চার্জ গঠন করা হয়।







২০১৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি মামলার রায়ে প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। আসামীপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করলে নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের মৃত্যদণ্ডাদেশ, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত।







আসামীদের মধ্যে এখনো ৮জন পলাতক রয়েছে। ঘোষিত ওই রায়ের পর এখন নিহতের স্বজনদের প্রত্যাশা দ্রুত সে রায় কার্যকর হোক। তাদের প্রত্যাশা আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই রায় কার্যকর করবে সরকার।