Sunday , 20 May 2018

নওগাঁয় দুলাভাই কর্তৃক ৪র্থ শ্রেণী পড়ুয়া শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ

নওগাঁয় দুলাভাই কর্তৃক জিনিস খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ১০ বছর বয়সী ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।







ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ধর্ষক এর স্বজনরা ধর্ষিতা শিশু ও তার মাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে নজর বন্দী অবস্থায় রেখেছেন।







বুধবার বিকালে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ধর্ষিতা শিশু ও তার মাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর থানায় নেয়। শিশু ধর্ষণের এ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিনগত রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার খোর্দ্দনারায়নপুর (নামাপাড়া) গ্রামে।







পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর উপজেলার খোর্দ্দনারায়নপুর (নামাপাড়া) গ্রামের মুনির হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যাক্তি ঘটনার দিন সোমবার দিনগত রাত ৮ টার দিকে সম্পর্কে চাচা শ্বশুর রফিকুল ইসলামের মেয়ে ও খোর্দ্দনারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বাড়িতে একা পেয়ে জিনিস খাওয়ানোর জন্য টাকা দেয়ার লোভ দেখায়। তারপর শিশুটিকে বাড়ির পার্শ্বের একটি পরিত্যাক্ত মাটির ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।







পরে মুনির তার অপর চাচা-শ্বশুর সাহাদুলের বাড়ির টিউবয়লে গাঁ ধুতে গেলে বাড়িতে টিভি দেখতে আসা ধর্ষীতা শিশুর মা সহ সাহাদুলের স্ত্রীর সন্দেহ হয় এবং এক পর্যায়ে শিশু সুরাইয়া আক্তার রনিকে পরিত্যাক্ত ঘর থেকে বের হতে দেখে সন্দেহের বশে শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি ধর্ষণের ঘটনা তার মা ও চাচিকে বলে দেয়।







এ নিয়ে সে সময় মেয়ের মা কান্নাকাটি শুরু করলে ও একই পরিবারের মধ্যে পাশাপাশি বাড়ির ঘটনা হওয়ায় পারিবারিকভাবে বসে গোপনে মেটানোর উদ্যোগ নেয় শিশু ধর্ষক মুনির হোসেনের চাচা শ্বশুর সাহাদুল হোসেন।







ধর্ষিতা শিশুর পিতা রফিকুল ইসলাম নওহাটামোড় থেকে বাজার নিয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে না পেয়ে সাহাদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখেন তার স্ত্রী কান্নাকাটি করছে। রফিকুলকে দেখে কান্না থামিয়ে রফিকুলের সাথে নিজ ঘড়ে গিয়ে স্বামীর হাতের বাজার ঘড়ে রেখে ফের সাহাদুলের বাড়িতে গেলে রফিকুলের মনেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। রফিকুল কিছুক্ষণ পর সাহাদুলের বাড়িতে গিয়ে আবার তার স্ত্রীকে কান্নাকাটি করতে দেখেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে মেয়ে ধর্ষিতার ঘটনাটি জেনে উত্তেজিত হলে ঘটনাটি গ্রামের লোকজনের মাঝে ছড়িয়ে পরে।







অপরদিকে ধর্ষক মুনির হোসেনের চাচা শ্বশুর সাহাদুল ও আজাদুল ঘটনাটি পারিবারিকভাবে মিমাংসা করার জন্য রফিকুলকে প্রস্তাব দিয়ে শান্ত হওয়ার পরামর্শ দিলেও ধর্ষক মুনির হোসেন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।







এ ব্যাপারে ধর্ষিত শিশুর পিতা রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন আমি বাজার নিয়ে বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে না পেয়ে পাশ্ববর্তী আমার চাচাত ভাই সাহাদুলের বাড়িতে টিভি দেখতে গেছে মনে করে সাহাদুলের বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পেয়ে কি হয়েছে জানতে চাইলে আমার স্ত্রী কান্না থামিয়ে আমার সাথে আমার ঘড়ে এসে আমার হাতের বাজার ঘরে রেখে ফের সাহাদুলের বাড়িতে গেলে সন্দেহে বসে আমিও তার পেছনে গিয়ে আবারও আমার স্ত্রীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমার স্ত্রী ও চাচাত ভাইয়ের বউদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তারা আমাকে ঘটনাটি জানায়।







এ সময় আমি আমার মেয়ে ও স্ত্রীকে সাথে নিয়ে থানায় যেতে চাইলে আমাকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে এবং পারিবারিক ঘটনা পারিবারিকভাবে মিটিয়ে দেয়া হবে জানিয়ে কৌশলে আমার স্ত্রী ও ধর্ষিত শিশুকে সাহাদুল তার বাড়িতেই রাখেন এবং তাদের জামাই ধর্ষক মুনিরকে পালিয়ে দেন।







রফিকুল আরো জানান, আমি নিরুপায় হয়ে প্রথমে ঘটনাটি স্থানিয় গ্রাম পুলিশ ও মেম্বারকে জানাই এবং স্থানিয় গ্রাম পুলিশ ও মেম্বার ঘটনাটি মহাদেবপুর থানায় জানানোর পরই নওহাটা ফাঁড়ি পুলিশ বুধবার বিকালে সাহাদুলের হেফাজতে থাকা আমার স্ত্রী সহ ধর্ষিতা শিশুটিকে উদ্ধার করেছেন।







ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই রইচ জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌছে ধর্ষিত শিশুটি ও তার মাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর থানায় পাঠানো হয়েছে।







তিনি আরো জানান, লম্পট মুনির হোসেন সোমবার দিনগত রাতে সহ তার পূর্বে ও একদিন শিশুটির সাথে পাশবিক যৌন হেনস্থা করেছেন বলেই শিশুটি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।







উল্লেখ্য যে, শিশু ধর্ষনকারী মুনির হোসেন (৪৫) দীর্ঘ ২০/২৫ বছর পূর্বে মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটামোড় বাজারে এসে যাত্রীবাহী বাসে হকারী করে বই বিক্রি করাকালে সে সময় পাশ্ববর্তী খোর্দ্দনারায়নপুর (নামাপাড়া) গ্রামের হামিদুল রহমানের মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। শ্বশুরের বাড়ির পার্শ্বেই বাশের বেড়া ও মাটি দিয়ে ঘড় নির্মাণ করে সেখানেই বসবাস করেন। ধর্ষক মুনির হোসেন এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক বলে জানিয়েছেন গ্রামের লোকজন।