‘কফিনগুলো খুলবেন না, তাদের ভালো স্মৃতিগুলো মনে রাখুন’

এই হতভাগারা হলেন-শিল্প ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজরুল ইসলাম, বরিশালের পিয়াস রায় এবং ঠিকাদার আলিফুজ্জামান।

নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় ১১ দিন পর তাদের মরদেহ বৃহস্পতিবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।







কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি (টিইউ) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিজেন শ্রেষ্ঠ জানান, মরদেহগুলো পুরোপুরি আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। হাড়গুলো কালো হয়ে গেছে। তাদের দেহের সফট টিস্যুগুলো সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। তাই তাদের শনাক্তে বেগ পেতে হয়েছে।







বুধবার রাতে মরদেহগুলো যখন শনাক্ত করে কফিনে ঢুকানো হয়, তখন নেপালে অবস্থানরত আশিক কাঞ্চন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি তার ফেসবুকে লিখেন, ‘কফিনগুলো খুলবেন না, তাদের ভালো স্মৃতিগুলো মনে রাখুন।’







এদিকে খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতীর মনিকা বেগম ছেলে আলিফুজ্জামান আলিফকে শেষবারের মত দেখার জন্য অস্থির ছিলেন। তিনি বার বার বিলাপ করে বলছিলেন, তোমরা আমার ছেলেকে জ্যান্ত এনে দাও। যদি না পারো, তবে মরদেহ এনে দাও।







তা না পারলে পোড়া ছাই দাও। আমি বাবার পোড়া ছাই বুকে নিয়ে ঘুমাব। পাগলপ্রায় এই মা তার বুকের ধনের মরদেহ পেলেন। তবে প্রিয় মুখটিকে আর দেখতে পারলেন না।


বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর হ্যাংগার গেটে ডেথ সার্টিফিকেটসহ মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।