এক মাস আগেই অবকাঠামো নির্মাণে তোড়জোড়, এবার জমবে বাণিজ্য মেলা

0
236

নির্বাচনের কারণে পিছিয়ে দেয়া ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হতে বাকি প্রায় এক মাস। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর অস্থায়ী মেলা মাঠে মাসব্যাপী এ মেলার পর্দা উঠবে ৯ জানুয়ারি। এজন্য প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। নির্মাণ ও সাজসজ্জা শেষ করতে মেলায় অংশ নেয়া সব স্টল ও প্যাভিলিয়নে চলছে কাজের তোড়জোড়। আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় থাকছে শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া জানা গেছে, এবার মেলার প্রধান ফটক তৈরি হচ্ছে মেট্রোরেলের আদলে।

সোমবার সরেজমিন মেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাসখানেক আগে থেকেই পুরোদমে শুরু হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণকাজ। কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্টলের মালিক ও নির্মাণ শ্রমিকরা। গত বছর এ সময় মেলার নিরাপত্তার জন্য টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও এবার তা এখনও করা হয়নি। এছাড়া ইতিমধ্যে মাঠে ইট, বালু, পাথর, কাঠ, বাঁশসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদির ব্যাপক স্তূপ দেখা গেছে।

অসংখ্য শ্রমিক ভিন্ন ভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ইট, বালু, পাথর দিয়ে নির্মাণকাজ করছেন। কাঠমিস্ত্রিরা লোহা-হাতুড়ি নিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের স্টল নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। আবার কেউ বাঁশ দিয়ে প্রিমিয়ার স্টলের অবকাঠামো তৈরি করছেন। আর ইতিমধ্যে মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো স্টল ও প্যাভিলিয়ন তৈরিতে স্টিল দিয়ে দোতলা কাঠামো তৈরি করছে। কিন্তু এখনও মেলার ভেতরে ও বাহিরের রাস্তার কাজ শুরু হয়নি।

জানতে চাইলে মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্যাভিলিয়নসহ প্রায় সব কাজের রোডম্যাপ আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছে। সেই রোডম্যাপ অনুসারে কাজ চলছে। এবারের মেলা নিয়ে আমরা আশাবাদী। তাই আগেভাগেই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। যাতে উদ্বোধনের আগেই সব কাজ শেষ করে মেলা শুরু করা যায়। মেলামাঠে স্টল নির্মাণের কাজ করছে নাদিয়া ফার্নিচার। নির্মাণকাজ সম্পর্কে জানতে প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা মো. আবদুল মোতালেব যুগান্তরকে জানান, চলতি মাসের শুরু থেকেই অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর মেলামাঠে তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ ভালো। তাই মনে হচ্ছে, ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পারব। তবে মেলামাঠে বিদ্যুতের সমস্যা আছে।

এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন পাওয়া যায়নি। যার কারণে কাজে একটু ঢিলেমি হচ্ছে। মেলায় কেয়াম মেটালের স্টলের দায়িত্বে থাকা মো. কুদ্দুস শেখ যুগান্তরকে বলেন, এবারের মেলামাঠে প্রথম থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো দেখা যাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণে তেমন একটি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। তবে এখানে যারা কাজ করছেন তাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থা না করায় কাজে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। তবে মেলা শুরু হওয়ার আগেই স্টল নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, এবার মেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক ভালো। তবে এখন পর্যন্ত মেলা মাঠের চারদিকে বেষ্টনী দেয়া হয়নি। তারপরও গতবারের মতো এবার মাঠে মাদকাসক্তদের উৎপাত নেই। এদিকে মেলামাঠের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কাজ করছেন চুক্তিভিত্তিক। দৈনিক হাজিরা হিসেবেও কেউ কেউ কাজ করছেন। আবার কেউ মাসজুড়ে বেতনে কাজ করছেন।

মো. ইলিয়াস নামে এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। আবার যারা মাসভিত্তিক কাজ করছেন তারা ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার বা তারও বেশি টাকায় কাজ করছেন। মেলা সংশ্লিষ্টরা বলেন, মেলার ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য খোলামেলা রাখা হবে। যাতে পরিবার ও পরিজনদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারে। আর মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে ইকোপার্ক করা হবে। থাকবে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার (ডিজিটাল টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি)।

যার মাধ্যমে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন অতি সহজে খুঁজে বের করতে পারবেন। আর এবারের মেলায় মোট ৪৩টি দেশ তাদের পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শনের জন্য অংশ নিতে আবেদন করেছে। এছাড়া মেলায় দেশি-বিদেশি মিলে সাড়ে ৫শ’ প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকবে। নতুন ৪-৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। আর মেলায় একক দেশকে প্রাধান্য দেয়া হবে। ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, মেলায় থাকছে মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্ক ও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ।