সাব্বির টেনে হেঁচড়ে সুখীকে ছাদে নিয়ে যায়, এরপর…

0
202

সাব্বির টেনে হেঁচড়ে- ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় বখাটের উৎপাতে সুখী আক্তার (১৪) নামে এক মেধাবী স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্কুলছাত্রী সুখীর আত্মহত্যার পরে বখাটে সাব্বির আহম্মেদ গা-ঢাকা দিয়েছে।

এ ঘটনায় গত দু’দিন ধরে আমুয়া উচ্চ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আমুয়া পূর্বপাড় সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছাত্রীর বাবা আব্দুল হাই সরদার জানান, সুখী আমুয়া বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মেয়ে আমার খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল, ৫ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। আসন্ন জেএসসি পরীক্ষায়ও সুখী ভালো রেজাল্ট করত। কিন্তু, আমুয়া হাসপাতালের স্টাফ নার্স মোছা: খাদিজা বেগমের বখাটে ছেলে ও আমুয়া বন্দর আমির মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির আহম্মেদ আমার মেয়ে সুখীর স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রেম নিবেদনসহ প্রায়ই তার হাত ধরে টানাটানি করত সে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়টি আমি সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের চোখে পড়লে প্রথমে উত্যক্তকারী সাব্বিরের মা খাদিজাকে, পরে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হলেও সাব্বির থেমে থাকেনি। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর সুখী জেএসসি পরীক্ষার কোচিং করতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সাব্বির সুখীকে টেনে হেঁচড়ে হাসপাতাল কোয়ার্টারের ছাদে নিয়ে যায়।

এই খবর শোনা মাত্র সুখীর বড় ভাই রাকিব ও ভগ্নিপতি মো: নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সুখীকে বাসায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওইদিনই বখাটে সাব্বিরের মা খাদিজা ও তার বড় ভাই রাব্বি ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে উল্টো শাসিয়ে আসেন এবং বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি অন্য রকম করে উল্টো-পাল্টা ভাবে জানাজানি করেন।

এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর লোক লজ্জা ও ঘৃণায় সুখী নামের ওই স্কুলছাত্রী তার ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ বিষয়ে কাঠালিয়া থানা ওসি এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম জানান, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা নথি ভুক্ত করা হয়েছে।

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে শান্তির পথও খোলা: পাকিস্তান আর্মি

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেছেন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে পাকিস্তানের জনগণ শান্তি চায়।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনেও আমরা বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে এ কথা বলেন আসিফ গফুর।

শনিবার ভারতের জয়পুরে পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নাকচ করে দেয়া প্রসঙ্গে ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় এখন না। এখন তাদের বর্বরতার জবাব দেয়ার সময়।

এ সময় সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না মন্তব্য করে বিপিন বলেন, আমাদের সরকারের নীতি এ ব্যাপারে স্পষ্ট। পাকিস্তানের উচিত এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।

উল্লেখ্য,পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু কয়েকদিন আগে পাক-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্যের মাথাবিহীন লাশ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র দুদেশের মাঝে আবার কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনার পরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার প্রস্তাব বাতিল করে দেয় ভারত।

ভারত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাতিল করায় পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এক টুইটবার্তায় বলেন, ভারত আলোচনার প্রস্তাব বাতিল করে দেয়ায় আমি হতাশ।

ইমরান খানের এ বক্তব্যের পাল্টা জবাবে ভারতের সেনা প্রধান বলেন, পাকিস্তানের জঙ্গি ও সেনার বর্বরতার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে। তবে তা হতে পারে ভিন্ন উপায়ে, বর্বরতায় নয়।

ভারতের সেনা প্রধানের এমন হুশিয়ারির জবাবও আসে পাক সেনার পক্ষ থেকে।

মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এক টিভি চ্যানেলে জানিয়েছেন, পাকিস্তান শান্তি চায়। শান্তি কী জিনিস তা পাকিস্তান ভালো করেই জানে। পাকিস্তানকে দুর্বল ভাবলে ভুল হবে। যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে আমারও তৈরি রয়েছি। ভুলে গেলে চলবে না আমারও পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ একটি দেশ।

তিনি আরও যোগ করেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দীর্ঘদিন যুদ্ধ করার রেকর্ড রয়েছে।

মাথাহীন বিএসএফ সদস্যের মৃত্যু প্রসঙ্গে আসিফ গফুর বলেন, অতীতে সেনার দেহ বিকৃত করার অভিযোগ ভারত বারবারই করেছে। পাক সেনা একটি পেশাদার বাহিনী। এ রকম ন্যাক্কারজনক কাজ তারা করে না। সূত্র: ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইকোনমিক টাইমস।