এক সন্তান জন্ম দিয়ে পেলেন দুই সন্তান, অতঃপর…

0
178

এক সন্তান জন্ম দিয়ে- টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালে এক সন্তান জন্ম দেয়া মাকে দুই সন্তান বুঝিয়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক নার্স। এ ঘটনা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালের নার্স প্রিয়া গমেজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কুমুদিনী হাসপাতালের ডেলিভারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের ভাবখন্ড গ্রামের হারুন অর রশিদের স্ত্রী আকলিমা বেগম সন্তান প্রসবের জন্য রোববার কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন।

অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুরে একই ওয়ার্ডে টাঙ্গাইলের কাগমারা এলাকার বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হন। প্রসব ব্যথা উঠলে দুপুরে আকলিমা বেগম ও পারভীন বেগমকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

প্রথমে ডাক্তাররা আকলিমাকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে এক পুত্রসন্তান প্রসব করান এবং নবজাতককে ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স প্রিয়া গমেজের কাছে দেন। তিনি নবজাতককে নিয়ে পারভীনের আত্মীয়ের কোলে তুলে দেন।

অন্যদিকে কিছুক্ষণ পর ডাক্তাররা পারভীনকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে পুত্রসন্তান প্রসব করান। একইভাবে কর্তব্যরত অন্য এক নার্স নবজাতকে নিয়ে পারভীনের আত্মীয়দের কাছে নিয়ে বলেন, এই নেন আপনাদের নবজাতক। তখন পারভীনের আত্মীয়রা বলেন, আমাদের বাচ্চা তো আগেই পেয়েছি। এরপরই শুরু হয় হট্টগোল।

কোন নবজাতক কোন প্রসূতির এ নিয়ে আকলিমা ও পারভীনের আত্মীয়দের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। হট্টগোল শুনে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানে এগিয়ে আসেন।

পরে তারা কার ডেলিভারি আগে বা পরে হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হন। পারভীনের জ্ঞান ফিরলে তিনি জানান, তার ডেলিভারি আকলিমার পরে হয়েছে। ভুলবশত আকলিমার পুত্রসন্তান পারভীনের আত্মীয়দের কাছে দেয়া হয়েছে।

কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক প্রদীপ কুমার রায় বলেন, বিষয়টি অপারেশন থিয়েটারে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও উভয় প্রসূতির কাছ থেকে জানার পর যার যার সন্তান তার তার কাছে দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কারণে নার্স প্রিয়া গমেজকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্ত্রীর অধিকার পেতে অনশন

রাতভর মশায় কামড়েছে। শিশুটিরও শুরু হয়েছে পাতলা পায়খানা। এমন অমানবিক অবস্থায় সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে রেখেছে আমাকে। তারপর রাতে গলা টিপে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। টেনে হেঁচড়ে বাইরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টাও করেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে বিরতিহীন অনশনে থাকা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মেয়ে ও সাতক্ষীরার গৃহবধূ সালমা খাতুন এভাবেই তার অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন এতো নিষ্ঠুর, এতো নির্মম যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি একটা মেয়ে । আমার নিরাপত্তার বিষয়কেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

আমার এই দুঃসময়ে পুলিশ শুধু দেখে গেছে, কিন্তু নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা করেনি, স্বামীর ঘরে উঠতেও সাহায্য করেনি। এখন আমি অমানবিক অবস্থায় রয়েছি। আমার চারদিকে তালাবদ্ধ। সেখানে একটি বাথরুম নেই। সিঁড়ির নিচে কি করে থাকবো।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মহিষতাড়া গ্রামের শেখ জামাল হোসেনের মেয়ে সালমা খাতুন। তার সাথে বিয়ে হয়েছিল সাতক্ষীরার সুলতানপুরের দুলাল হাসানের ছেলে অমিত হাসান ফহাদের।

সালমা জানান, ২০১২ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে সে বছরের ১৪ জুলাই তাদের বিয়ে হয় ময়মনসিংহে। এর মধ্যে তাদের ঘরে আসে মেয়ে অবন্তী হাসান ফারিয়া।

কিন্তু ২০১৭ সালে স্বামী অমিত হাসান ফহাদ স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে ফেলে চলে যায়। এরপর থেকে আর কোন যোগাযোগ নেই, এমনকি কোন খোঁজখবরও নেয় না। এ কারণে স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন তিনি।

সালমা আরও বলেন, অনেক চেষ্টার পর অবশেষে তিনি তার কন্যা শিশুকে নিয়ে অমিত হাসানের সাতক্ষীরার বাড়িতে এসছেন। সোমবার দুপুর ২টা থেকে রাত পার হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।

তিনি বলেন, অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ের পর তিনি ও তার স্বামীর কিছুদিনের জন্য জেল হয়। এরপর তারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে ওঠায় নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে থাকেন। কিন্তু এতে বাধ সাধেন স্বামী অমিত হাসান ফহাদের মা আকলিমা খাতুন।

অবশেষে গত ১২ আগস্ট শ্বাশুড়ি আকলিমা সব মেনে নিয়েছেন বলে তাকে জানান এবং তাকে সুলতানপুরে চলে আসতে বলেন। এখন বুঝছি তিনি মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আমাকে ডেকে এনেছেন।

সালমা খাতুন জানান, তিনি গত ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় পৌঁছান। শ্বাশুড়ি আকলিমা তাকে একটি ভাড়া বাসায় রেখে দেন। এরপর কয়েকদিন আগে থেকে তাকে ভাড়া বাসা থেকে তাড়াতে শুরু করেন আকলিমা।

নিরুপায় হয়ে তিনি আকলিমাদের বাড়ির দরজায় এসে অনশন শুরু করেছেন। আমার মেয়ে ফারিয়ার ডিএনএ টেস্ট হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে সে ফহাদের সন্তান। তার কাছে বিয়ের কোন দালিলিক কাগজপত্র নেই। সব কিছু রয়েছে স্বামী অমিত হাসান ফহাদ ও ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে।

সালমার শ্বাশুড়ি আকলিমা খাতুন জানান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার ছেলের মামলায় হাজিরার দিন। এ মামলার বাদি সালমা নিজেই। আমি বলেছি ওইদিন তাকে জেল থেকে জামিনে আনতে পারলে ফহাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সালমা যে তার স্ত্রী এমন কোনো প্রমাণ সে দেখাতে পারেনি।

সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান, সালমাকে ওই বাড়িতে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখার অনুরোধ জানিয়েছি। তারপর ফহাদ বাড়ি এলে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। এর পর থেকে বাড়ির প্রাচীরের মধ্যে রাখা হয়েছে।