আমাদের ছেলেমেয়ে নেই, তার একা থাকাটা কষ্টকর’ : রোজিনা

আশি ও নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম রোজিনা। টানা চোখের অপরূপ সুন্দরী এই নায়িকার পর্দায় উপস্থিতি মানেই মিষ্টি হাসিতে দর্শকের মন ভুলানো অভিনয়। চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিয়ে বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী এই জনপ্রিয় নায়িকা।







তবে ঢাকায় কম সময় দিয়ে প্রবাসে বেশি সময় দেয়ার কারণে তিনি বললেন, ’ঢাকায় এসে মানুষের যে ভালোবাসা পাই, তা ভোলা সম্ভব নয়। ইচ্ছে করে দেশে থেকে যেতে, কিন্তু উপায় নেই। আমার স্বামী লন্ডনে একা। যেহেতু আমাদের ছেলেমেয়ে নেই, তার জন্য একা থাকাটা কষ্টকর। তাই যেতেই হয়।’







তিনি বলেন, ’একসময় তো শুটিং করেই সময় কাটত। এত বছর পরও যখন মানুষ এসে আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চায়, কথা বলে, মনে হয় আগের দিনে ফিরে গেছি। নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নিজের বয়সটা ভুলে যাই।’
আশি ও নব্বইয়ের দশকের পার্থক্য নিয়ে চিরযৌবনা নায়িকা বললেন, ’আমরা তখন কাজকে প্রার্থনা মনে করতাম। এফডিসিতে প্রতিদিন প্রার্থনা করতে যেতাম। কাজ না থাকলেও আড্ডা দিতে যেতাম। আমাদের সময় শুধু রেস্ট নেয়ার জন্য বাসায় আসতাম। এফডিসিতে অনেক বেশি সময় কাটাতাম। একটা ভালো কাজ শেষ করে যখন মানুষের কাছ থেকে উৎসাহ পেতাম, তখন মনে হতো প্রার্থনা কাজে লেগেছে। সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়েছেন। আর আউটডোর শুটিংটা আমাদের কাছে ছিল পিকনিকের মতো।’







রোজিনা আরও বলেন, টাকার প্রয়োজন আমাদেরও ছিল, কিন্তু শুধু টাকার জন্য আমরা কখনো কাজ করিনি। সমাজের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরার জন্যই আমরা ছবি করতাম। কোন একটা গল্প নিয়ে আমরা সবাই কথা বলতাম। আমরা বসে সিলেক্ট করতাম কারা অভিনয় করবে। কিভাবে কি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ’জীবন ধারা’ সিনেমার জন্যও তিনি জাতীয় পুরস্কার পান। ১৯৮৬ সালে ’হাম সে হায় জামানা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি পাকিস্তান থেকে নিগার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।







ওই সিনেমায় রোজিনার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় নায়ক নাদিম। এ ছাড়া রোজিনা নেপাল, শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও কো-প্রোডাকশনের সিনেমাতে অভিনয় করেছেন।
১৯৮৪ সালে রোজিনা যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ’অবিচার’-এ অভিনয় করেন মুম্বাইর সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে। সর্বশেষ ২০০৫ সালে ’রাক্ষসী’ সিনেমাতে চিত্রনায়ক ফেরদৌসের বিপরীতে তিনি অভিনয় করেন। মোট ৩শ’র বেশি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন।