কতক্ষণ দাঁত ব্রাশ করা উচিত

0
31

দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করার কথা জানা থাকলেও কতক্ষণ ব্রাশ করা উচিত সেটা অনেকেই জানেন না। মুখগহ্বর ও দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা চাই।







আর ব্রাশ করা ছাড়াও দাঁতের সুরক্ষায় আরও অনেককিছু রয়েছে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে দাঁতের যত্ন নেওয়ার বেশ কয়েকটি পন্থা এখানে দেওয়া হল।

প্রয়োজনীয়তা: অল্প সময়ে ব্র্রাশ করা সেরে ফেললে দাঁত পুরোপুরি পরিষ্কার নাও হতে পারে। জরিপ বলে, বেশিরভাগ মানুষ ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ডেই দাঁত ব্রাশের পাট চুকিয়ে ফেলেন। ফলে ‘পেরিওডনটাইটিস’ ও ‘জিনজিভাইটিস’ নামক জটিলতা দেখা দিতে পারে। আবার মুখে পুরু ‘প্লাক’য়ের আস্তর থেকে ধমনীতেও ‘প্লাক’ জমতে পারে। এজন্যই বলা হয় মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক তথ্য দিতে পারে।







ব্রাশ করার সময়: দন্ত্যচিকিৎসকদের মতে, দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করা আদর্শ। আবার কিছু চিকিৎসকের মতে, দুই মিনিট যথেষ্ট নয়, তিন মিনিট সময় ব্যয় করা উচিত। তবে তিন মিনিট ধরে ব্রাশ করা ছোটদের ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্যও বটে।







গবেষকদের মতে, দুই মিনিটের তুলনায় যারা মাত্র ৪৫ সেকেন্ড ব্রাশ করেন তারা মুখগহ্বর থেকে মাত্র ২৬ শতাংশ ‘প্লাক’ পরিষ্কার করতে পারেন।







কৌশল: কতক্ষণ দাঁত ব্র্রাশ করছেন তার থেকেও জরুরি বিষয় হল কোন কৌশলে দাঁত ব্রাশ করছেন। হালকা চাপে, সবগুলো দাঁতের গোড়া ও মাঢ়ির প্রতিটি অংশে ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরি। দাঁত আর মাঢ়ির পাশাপাশি জিহ্বা ও গালের ভেতরের অংশেও ব্রাশ চালানো গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লস: ব্রাশ করার মতোই জরুরি ফ্লসের ব্যবহার। এতে ‘প্লাক’ জমা হওয়া রোধ হয় এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন জটিলতা এড়ানো যায়।







টুথব্রাশ: ভালোমানের ব্রাশ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। কারণ এতে দাঁত আরও ভালোভাবে পরিষ্কার হবে, যা ভুল ধারণা। সবসময় নরম ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। কারণ শক্ত ব্রাশের কারণে দাঁতের এনামেলের আস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।







সাধারণ ব্রাশের বদলে বৈদ্যুতিক ব্রাশ ব্যবহার করার উল্লেখযোগ্য কোনো বাড়তি উপকার নেই। তবে বৈদ্যুতিক ব্রাশে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। ফলে ওই সময় পর ব্রাশটি সয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।







বেশিক্ষণ ব্রাশ করলে: দীর্ঘক্ষণ ব্রাশ করার কোনো ক্ষতি নেই। তবে, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের ক্ষতি হয়। এতে দাঁতের এনামেলের আস্তর এবং মাঢ়ির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলাফল হতে পারে দাঁতের সংবেদনশীলতা। তাই হালকা চাপে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।