যেসব কারণে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হচ্ছে প্রবাসীর জীবনসঙ্গী

0
569

আগের দিনের রাজা বাদশাহর যুগ থেকে কল্প কাহিনীর মুখরোচক গল্প কিংবা বর্তমান যুগে পরকীয়া প্রেম শব্দটির সাথে কম বেশী সকলেই পরিচিত ।ঐতিহাসিক রাজতন্ত্রের আমলে রাজা কিংবা রানী পরকীয়া প্রেমের শিকার হয়েছেন ।এই ক্ষেত্রে রানীরা ছিলেন এগিয়ে। হাল আমলেও ঘরের স্ত্রীদের সংখ্যাই বেশী বলে প্রতিয়মান।

পুরুষগণ যে খুব একটা পিছিয়ে তা কিন্তু নয় ।নারীদের পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে যাবার বিভিন্ন কারন থাকলেও পুরষদের বেলায় হিন্দি বা উর্দু ভাষার একটি প্রবাদ অনুপ্রেনার মূল বিষয়। প্রবাদ টি এ রকম “ঘরকা মুরগি ডাল বরাবর”।

এ বিষয়ের উপর হিন্দিতে বেশ কয়েকটি ছবি হয়েছে এখন শুধু মাস্তি ছবিটির নাম মনে পড়ছে ।পুরুষদের বেলায় আমাদের দেশীয় একটি প্রচলিত কথা রয়েছে যেমন অন্যের বউ বেশি সুন্দরী। স্ত্রী দের বেলায় কোন প্রবাদ কিংবা কোন প্রচলিত কথা এখন মনে পড়ছে না ।তবে দীর্ঘ প্রবাস জীবন চাকুরীর সুবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার সুযোগে এবং বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে মেশার সুযোগে জানা গেছে নানা সত্য ঘটনা । এ ছাড়া পত্রিকা পড়ার বয়স থেকে নানা রকম খুন রাহাজানির নেপথ্যে ছিলো পরকিয়া প্রেম।

পরকিয়া প্রেম কি এবং কেন?

বিবাহিত স্ত্রী বা পুরুষ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি প্রেম বন্ধনে আবদ্ধ হলে আমদের দেশে আভিধানিক ভাষায় পরকীয়া বলা হয়।

পাঠকের কাছে নানা কারন থাকতে পারে ,আমার মতের সাথে একটি কারণের যদি মিল খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে আজকের লেখার সার্থকতা।দীর্ঘ সময় স্বামী থেকে দূরে থাকার কারনে স্ত্রীরা পরকীয়া জড়াতে পারেন।

স্বামী থেকে দুরে থাকার কারনে চিঠির যুগে চিঠি আর ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোনের অপেক্ষায় সঙ্গিনী সতী স্ত্রীরা ভুগেন একাকীত্বে ।সংসারের টানা পড়েন জ্বালা যন্ত্রণার কথা কাউকে জানাতে পারেন না ।সে সুযোগে যদি কোন বন্ধু আবির্ভুত হয় তার জীবনে সম্পর্কে রক্তের ভাই বোন্ ছাড়া যে কেউ হয়ে উঠেন কাছের মানুষ ।সে থেকে সূত্র পাত হয় পরকীয়ার ।

এই ক্ষেত্র উঠতি বয়েসের যুবকরা হন সেরা প্রেমিক।যুবক ছেলে লাইসেন্স সহ মেশিন পেয়ে কাম বাসনা মেটাতে অন্যের স্ত্রীকে দেখান স্বপ্ন ।স্ত্রীরা ভুলে যান স্বামী ।অধিকতর স্মার্ট যুবকরা ফায়দা লুটতে পারে ইচ্ছে মত, অর্থ এবং যৌন ক্ষুদা দুটি।দু একটি এমন হয় সঙ্গী বা সঙ্গিনীর স্বামী বা স্ত্রী থাকার পর ও জড়িয়ে যান পরকীয়ার প্রেম যমুনায় ।

কোলের শিশু থেকে যে কোন বয়সের সন্তানের কথা বেমালুম ভুলে যান। সখী ভালবাসা করে কয় ।প্রেম মানে না জাত ,মানে না ধর্ম ,বর্ণ,বয়স .এ কেমন টান?

অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী র সাথে পরিচয় করিয়ে দেন তার বন্ধুদের ।প্রবাসীরা নিজের ভাই বন্ধু আত্বীয় স্বজনদের কাউকে বলেন একটু খেয়াল রাখিস ।ব্যাস হয়ে গেল প্রয়োজনের চাইতে একটু বেশী খেয়াল রাখতে গিয়ে শুরু হয়ে যায় পরকীয়া ।

যৌন সুখ থেকে বঞ্চিত নারীরা উত্তাল যৌবনের সুধা পানে অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে কোন এক দুর্বল মুহুর্তে কাছের কোন বন্ধু শুভাকাঙ্খীর অস্ফুট আহ্বানে সাড়া দেন বা দিতে বাধ্য হন।ছাত্রীর সাথে শিক্ষক বা গৃহ শিক্ষকের সাথে গৃহ বধুর কাছা কাছি আসা ,আমাদের গ্রাম দেশে ফ্রি মাইন্ডে চলার প্রবনতা বিদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন ।স্যাটেলাইট নাটক সিরিয়াল কে এ যুগে কিছুটা দোষ চাপানো হয়।রতি ক্রিয়াকে ,স্বামী স্ত্রীর মেলা মেশার কৌশলকে কিন্তু আদিম যুগের লীলা খেলা বলা হয়।এই কাজটি পাগল ও বোঝে।

রসিকতা করে অনেকে মুন্সী টাইপের লোকদের বেশী ছেলে মেয়ে থাকার উদাহরন দিয়ে থাকেন। সব কিছুর মূলে যে যৌন আকাংখা কাজ করে এর সাথে দ্বিমত পোষন করার কোন কারন আছে বলে মনে হয় না ,এর পাশা পাশি অন্য যুক্তি দেখানো যেতে পারে।

অনেক নারী বিয়ের পূর্বে একাধিক পুরুষের সাথে কিংবা অনেক পুরুষ একাধিক মেয়ের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখেন ,একজনের সাথে ও থাকতে পারে ,বিয়ের পর পূর্বের সে সুখ আর খুঁজে পান না জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়।

দীর্ঘ দিন স্ত্রীকে প্রেম ভালবাসা যৌন সুখ থেকে বঞ্চিত করা ,প্রবাস জীবন,পুরুষের যৌন দুর্বলতা ,আর্থিক অসচ্ছলতা ,স্ত্রীকে পরিবারে প্রাধান্য না দেয়া ,অধিক শাসনে রাখা , ব্যবসায়িক বা চাকুরীর ব্যস্ততায় স্ত্রীকে সময় না দেয়া ,মল ত্যাগের মত কোন রকম নিজের কাম রস নির্গত করা সঙ্গিনীর চাহিদানুযায়ী রতি মিলন না করা ,নুন্যতম সন্মান ,ভালবাসা থেকে দুরে স্বামী নিজের যৌন রস দিলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন ,জানতে চান না সঙ্গিনীর চাহিদা পূর্ণ হয়েছে কিনা?

যৌন লীলার অভিজ্ঞতার অভাব স্ত্রীকে বাধ্য করে নতুন সঙ্গিনী খুঁজতে।স্বামী নিজে বন্ধু বেশে নিজের ঘরে কাল সাপ ডেকে আনা মানে এমন কাউকে স্ত্রীর নিকটবর্তী হতে দেয়া ই এক জন স্ত্রীকে পরকীয়া প্রেমে জড়াতে বাধ্য করে ।তেমনি একজন নারী তার স্বামীকে যুগ উপযোগী যৌন সুখ দিতে না পারা,স্বামীর আর্থিক উপার্জনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা,স্বামীর ইচ্ছা মত চলতে না পারা।

পরিবারের সবাইকে আপন করে নিতে না পারা ,অপব্যায়ী হওয়া ভিন্ন পুরুষের আসক্তি।গীবত ,জেদ , নিজের বান্ধবীকে,ছোট বা বড় বোন স্বামীর সাথে বেশী মিশতে দেয়া সহ নানা কারনে স্বামী ভিন্ন স্বাদের জন্য পরকীয়ায় পড়তে পারেন।

প্রেম যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতে শুরু হতে পারে।আমদের দেশের কিছু পরকীয়া বড়ই অসামঞ্জস্য পূর্ণ যেমন ভাসুরের সাথে ছোট ভাইয়ের বৌয়ের ,মামীর সাথে ভাগ্নের ,খালা সাথে বোনের ছেলের।শশুরের সাথে ছেলের বৌয়ের কিছু কিছু সম্পর্কে মানুষ নাক সিটকান না যেমন,শিক্ষকের সাথে ছাত্রীর,ভাবির সাথে দেবরের ,সাবেক প্রেমিক প্রেমিকারে সাথে ,বন্ধুর স্ত্রীর সাথে।প্রবাসী স্ত্রীরা স্বামীর ব্যস্ততার জন্য সময় না দেয়ার কারনে স্বামীর বন্ধু,এলাকার কেউ কিংবা কোন দোকানদার ,পথে দেখা অপরিচিত জনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে যান।মোবাইল ব্যাধি তে আক্রান্ত অনেকে,হায় হ্যালো করতে করতে মোবাইল সেক্স পর্যন্ত গড়াচ্ছে।স্বামী কিংবা স্ত্রীকে ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন যৌন খুদা।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন আর আমদের সাবেক প্রেসিডেন্ট এর পরকীয়ার রসালো গল্প ধুম মাতিয়েছিলো সারা বিশ্বে .আজ কাল বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যাচ্ছে প্রবাসীদের গৃহ বধুরা।

যৌন সুখের লালোসায় প্রবাসীর স্ত্রী তুলেন দেন তার কাছে গচ্ছিত রাখা অর্থ ,ইজ্জত দুটোই .প্রবাসীদের স্ত্রীদের পরকীয়ার জন্য স্বামীর দীর্ঘ দিন দুরে থাকাকে অনেকে দায়ী করেন।কাছে থাকলে সুখ –দুঃখ, কষ্ট ভাগ করে সুন্দর সুখের নীড় গড়ে তোলা অস্বাভাবিক কিছু নয়।রতি লীলায় যদি স্বামী কিংবা স্ত্রী অপারদর্শী হন তাহলে নতুন সঙ্গী খুঁজে নেয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়।এ ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর খোলা মেলা আলোচনা ,একে অপরের সাথে ভালো বোঝা পড়া , সঙ্গী -সঙ্গিনীর সমস্যা গুলি দূর করা ,যৌন সঙ্গমে সাংসারিক সমস্যা তুলে না ধরা সহায়ক হতে পারে বলে অনেক ডাক্তার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।অন্য দিকে স্কুল,কলেজ,বিশ্ব বিদ্যালয় ,অফিস,আদালত,সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান,প্রবাস সবখানেই চলছে পরকীয়ার রঙ্গ লীলা।যার কারন একটাই যৌন ক্ষুদা . অফিসের বস,কলিগ,নিম্ন পদস্থ ,উচ্চ পদস্থ ,রাজনীতিবিধ ,সমাজ সেবী,মিডিয়ার লোকজন সহ সবাই প্রেম ভালবাসার জালে যেমন আঁটকাচ্ছেন তেমনি পড়ছেন পরকীয়া প্রেমে .ভাঙ্গছে সাজানো গোছানো সুখের সংসার।হচ্ছে খুন ,রাহজানি .বিশ্বাসের অভাব যেমন কাজ করছে ,অর্থ,লোভ-লালোসা হিংসা-প্রতি হিংসা ,প্রতিশোধ পরিবেশ-পরিস্থিতি সব কিছুই যেন দায়ী পরকীয়া প্রেমের জন্য .একমাত্র বিশ্বাস ,বিশ্বাসের মর্যাদা,ধর্মীয় মূল্যবোধ লোভ লালসাহীন জীবন ব্যবস্থাই এই রোগ মুক্তির এক মাত্র পন্থা বলে আমার বিশ্বাস।