রাতে হঠাৎ ক্ষুধা পেলে ভুলেও খাবেন না এই ৪টি খাবার!

0
98

রাতে হঠাৎ ক্ষুধা পেলে-প্রচণ্ড ক্ষুধা পেলে ঘরে যা থাকে তাই খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করি। কেননা ক্ষুধা পেলে খাবার না খাওয়া পর্যন্ত কিছুই ভালো থাকে না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাবার খেয়ে ক্ষুধা মেটানো হয়।

কিন্তু এ সময় সব ধরনের খাবার খাওয়া উচিত নয়, কারণ কিছু খাবার আছে যেগুলো খিদের সময়ে খেলে যেমন পেটের ক্ষিদে মিটবে না তেমনি শরীরের অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে।

তাহলে জেনে নিন, ক্ষুধার সময় যে ৪ ধরণের খাবার খাওয়া উচিত নয়-

১) ফল : খালি পেটে ফল খেতে নেই- এই কথাটা আমরা আমাদের ছেলেবেলা থেকেই জানি। একটি আপেল বা একটি কলা খেয়ে কখনই পেটের ক্ষুধা মিটে না। বরং আপনার খিদে খিদে ভাব আরও বেড়ে যাবে।

যদি ফল খেয়েই থাকেন তাহলে এর সঙ্গে আপনার খাওয়া উচিত কোনও প্রোটিন ধরণের খাবার। ফলের সঙ্গে খেতে পারেন সামান্য পরিমাণ বাদাম, পিনাট বাটার বা পনির।

২) ঝাল খাবার : কোন কাজের জন্য দুপুরের খাবার সারতে দেরি হয়েছে। এ সময় প্রচণ্ড ক্ষিদে পেয়েছে, তাই হাতের কাছে পাওয়া ঝাল ঝাল কোনও মুখরোচক খাবার খেয়ে বসলেন। এতে আপনার হজমের সমস্যা তৈরি হবে।

খালি পেটে ঝাল খাবার খেলে এই মশলা আপনার পাকস্থলীর আবরণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। তাই ঝাল ঝাল খাবার খাওয়ার আগে দুধ বা দই খেতে পারেন। এতে সরাসরি ঝালের প্রভাব পাকস্থলীর ওপর পড়বে না।

৩) কমলালেবু বা কফি : এই সব খাবার খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি তৈরি করে। এতে পেট খারাপ হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য খালি পেটে কফি পান করাটা অত্যন্ত ক্ষতিকর।

সবজি পেটের জন্য এতোটা ক্ষতিকর না। তাই সবজির সালাদ খেতে পারেন। সেদ্ধ ডাল বা মুরগীর মাংসও (কম মশলাদার হলে চলবে) এ সময়ে খাওয়া যেতে পারে।

৪) বিস্কুট বা চিপস : এমনটা হতে পারে যে আপনি আর দুই ঘন্টা পর দুপুরের খাবার খাবেন। তাই এখন ভারী কিছু খেতে চাচ্ছেন না। কিন্তু তা বলে বিস্কুট বা চিপস একেবারেই নয়! ছোট এক প্যাকেট বিস্কুট বা চিপস বেশিক্ষণ পেটে থাকবে না।

এগুলিতে থাকা কার্বোহাইড্রেট কিছুক্ষণের মধ্যেই হজম হয়ে যাবে। ফলে আপনার খিদে খিদে ভাব দ্রুত ফিরে আসবে। সে ক্ষেত্রে খেতে পারেন ২৫০-৩০০ ক্যালোরির কোনও খাবার। যেমন, একটা স্যান্ডউইচ বা একটা কেক।

দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে? জেনে নিন খুব সহজ ৫ সমাধান

পৃথিবীতে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে সে দাঁতের সমস্যায় পড়েনি। দাঁত ব্যথা দাঁত ক্ষয় হওয়া এটা অনেক অসহ্যকর। এ থেকে মুক্তি পেতে অনেক ডাক্তার অনেক ঔষধ খেয়েছেন কিন্তু কোন কিছুতেই লাভ হয়নি।

এই অসহ্যকর দাঁতের ব্যথা নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। আবার অনেকের দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। আবার অনেকের মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায় তখন শক্ত খাবার খাওয়ার সময়ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে।

এমনটা হলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেয়া উচিত। কিছু ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই আপনি আপনার হাতের কাছে থাকা জিনিস দিয়ে দাঁতের সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সমস্যায় কম বেশি অনেকেই ভুগে থাকেন। বিশেষ করে দাঁত ব্রাশ করার সময় এবং শক্ত ধরণের কোনো ফল বা অন্য কিছু খাওয়ার সময় অনেকেই মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন।

অনেকে ভাবেন মাড়ি থেকে একটু আধটু রক্ত পড়লে সমস্যার কিছু নেই বা চিন্তার কোনো বিষয় নয়। এই ধারণাটি একেবারেই ভুল। দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কারণটা হলো মাড়ির প্রদাহ। দাঁতে প্লাক বা দন্তমল জমা হওয়ার কারণে মাড়িতে প্রদাহ হয়। এটাকে বলা হয় জিনজিভাইটিস। অন্য যেসব কারণে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে, সেগুলো হলো !

১. খুব শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা,

২. কৃত্রিম দাঁত ঠিকমতো ফিট না করা,

৩. অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন,

৪. রক্তের নানা রকম রোগ (যেমন লিউকেমিয়া)

৫. ডেঙ্গুজ্বরের মতো সংক্রমণ, যকৃতের সমস্যা ইত্যাদি, ভিটামিন ‘কে’-এর অভাব, স্কার্ভি এ সমস্যায় পরবর্তী সময়ে দাঁত ও চোয়ালের হাড়ও আক্রান্ত হয়। সেই সমস্যাকে বলে পেরিওডন্টাইটিজ। কিছু কাজে আপনি ঘরে বসেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

চলুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে।

১) মধু ব্যবহার করুন: মধুর অ্যান্টিসেপ্টিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া সমস্যার সমাধান করতে পারে। দাঁত ব্রাশ করার পর আঙুলের ডগায় একটু মধু নিয়ে তা দিয়ে দাঁতের মাড়ি অল্প ম্যাসেজ করে নিন।

তবে লক্ষ্য রাখবেন, দাঁতের মাড়িতেই মধু ম্যাসেজ করুন। দাঁতে মধু লাগাবেন না। এতে দাঁতে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২) দাঁত ব্রাশের সমস্যা বেকিং সোডার ব্যবহার: সামান্য গরম পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিন। এরবার এই পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজুন। বেকিং সোডা মুখের ভেতরের অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করে দেয় ফলে দাঁত ক্ষয় হওয়ার সমস্যা দূর হয় এবং সেই সাথে মাড়ির সমস্যাও।

৩) টী ব্যাগের ব্যবহার: প্রথমে একটি টী ব্যাগ গরম পানিতে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এরপর তা তুলে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে দিন।

টী ব্যাগ ঠাণ্ডা হলে তা মাড়ির যে অংশ হতে রক্ত পড়ছে সে অংশে ৫ মিনিট ধরে রাখুন। টী ব্যাগের ট্যানিক অ্যাসিড মাড়ির রক্ত পড়ার সমস্যা সমাধান করে।

৪) লেবু লবণের ব্যবহার: লেবুর রস ও লবণ মিশিয়ে নিন। এরপর তা আঙুলের মাথায় লাগিয়ে তা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করুন এবং রেখে দিন ৫ মিনিট। এরপর কুসুম গরম পানিতে কুলি করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সমস্যা নিমেষেই সমাধান।

৫) লবণ গরম পানি: ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ নিয়ে তা দিয়ে কুলকুচা করে মুখ পরিষ্কার করুন। দিনে ৩/৪ বার বিশেষ করে খাওয়ার পর এই কাজটি করলে দাঁত এবং দাঁতের মাড়ি সংক্রান্ত নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এছাড়াও:

১. রক্তক্ষরণ বেশি হলে এক টুকরো তুলা বা গজ বরফ ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে মাড়ির ওই ক্ষত জায়গাটায় চেপে ধরুন। একটু পর রক্ত পড়া বন্ধ হবে:

২. বেশি রক্ত পড়লে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন আপাতত বন্ধ রাখুন:

৩. নরম শলাকার টুথব্রাশ ব্যবহার করুন। লবণ-পানি দিয়ে মুখ কুলি করুন। দাঁত পরিষ্কার করার তন্তু বা সুতা (ফ্লস) ব্যবহার করতে পারেন!

৪. ছয় মাস পরপর দন্তমল পরিষ্কার করার জন্য দন্ত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করুন,

৫. তামাক ও জর্দা পরিহার করুন,

৬. পেয়ারা, আমলকী, জাম্বুরা, কলা, কমলা, কামরাঙা ইত্যাদি ফল, পালংশাক, পুঁইশাকসহ লাল-সবুজ-হলুদ শাকসবজি এবং সালাদ নিয়মিত খেলে ভিটামিনের অভাব হবে না,

৭. মাড়ি থেকে অতিরিক্ত ও বারবার রক্তক্ষরণ এবং সঙ্গে অন্যান্য গুরুতর উপসর্গ (যেমন জ্বর, ওজন হ্রাস ও শরীরে অন্যান্য জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ) হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। একটু যত্ন নিলেই দাঁত দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা আর থাকবে না।