মানুষ কেন ভালবাসে?

ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা। তবুও ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। আবেগধর্মী ভালোবাসা সাধারণত গভীর হয়, বিশেষ কারো সাথে নিজের সকল মানবীয় অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া, এমনকি শরীরের ব্যাপারটাও এই ধরনের ভালোবাসা থেকে পৃথক করা যায় না।

ভালোবাসা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন: নিষ্কাম ভালোবাসা, ধর্মীয় ভালোবাসা, আত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে, যে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে… এমন কি কোনো কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও। আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালোবাসা।

প্রেম-ভালবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয় মৃত্যুর প্রয়োজনে বড়। জন্মের পরে একটি শিশুর প্রথম ভালবাসা তার মা পর্যায়ক্রমে তার বাবা এভাবে সে যখন বুঝতে শিখে তখন সে দেখে আসলে প্রেম-ভালবাসা জিনিসটা স্বর্গ থেকে আসে। যার শুরু সৃষ্টিকর্তা কে ভালবাসার মাধ্যমে এভাবে সৃষ্টিকর্তার সমস্ত সৃষ্টি তে ভালবাসা প্রকাশ করতে শিখে।

সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাদের সব চেয়ে বেশি ভালবাসেন এজন্য তিনি তার বান্দাদের জন্য এত কিছু দিয়েছেন। সেগুলোর হেফাজত করা, ভালবাসা আমাদের দায়িত্ব । মানুষে প্রেম ভালবাসাটাও এমন। মানুষ তার জীবনের সম্পর্ক অনুযায়ী সবাইকে ভালবাসে। বিশেষ কাউকে ভালবাসে তার জীবনের প্রয়োজনে। এটাই নিয়ম এবং মানুষ বিশেষ কিছু নিয়মের পরিপন্থী খুব কমই হয়।

মানুষ কে এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে নারী পুরুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ থাকবে যা তাদের ভালবাসা কে সমৃদ্ধ করবে। ভালবাসা না থাকলে মানব সভ্যতা এগুতে পারত না। আজকের সমাজ টিকে আছে এই ভালবাসা তথা পারস্পরিক বন্ধন,নির্ভরযোগ্যতা, বিশ্বস্ততা আছে বলেই।

কাজেই মানুষ যেমন খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য খাবার খায়, তেমনি মানসিক ও শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য বিশেষ কারো প্রেমে পড়ে অথবা ভালবাসে। আর সৃষ্টিকর্তা- বাবা-মার প্রতি ভালবাসা যেমন অনিবার্য ভাবে আসে তেমনি বিশেষ কারো প্রতি ভালবাসাটাও জীবনের তাগিদে চলে আসে। এক কথায় বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনের প্রয়োজনেই মানুষ প্রেম ভালবাসায় আসক্ত হয়। একান্তই আমার উপলব্ধি।

বিজ্ঞানের ভাষায়, প্রেম বা ভালবাসা হলো আমাদের মস্তিষ্কের থ্যালামাসের একধরনের রাসায়নিক অবস্থা। যার জন্য একাধারে দায়ী আমাদের জিন। প্রেমের প্রথমদিকে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, গাল – কান লাল হয়ে যাওয়া, হাতের তালু ঘেমে যাওয়ার উপসর্গ গুলো দেখা যায়; বিজ্ঞানীদের মতে সেসবের পেছনে দায়ী হলো ডোপামিন, নরেপিনেফ্রিন হরমোন।

মাঝে মাঝে দেখা যায় কারো কারো প্রেমের আবেগ কমে যায়। তার কারণ মস্তিষ্ক থেকে ওই হরমোনগুলো নিঃসৃত হয় না। আবার এও দেখা গেছে যে কোনো মানুষের শরীরে কৃত্রিমভাবে এই হরমোন রসায়ন প্রয়োগ করা হলে তাদের মাঝে সেই প্রেমের অনুভূতি হয়।

Comments

comments