প্রাণ খুলে হাসবেন যে কারণে!

হাসিই কিন্তু আমাদের নানা রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। যত দিন যাচ্ছে, তত যেন আমরা গোমড়া মুখো হয়ে যাচ্ছি। তাই তো আমাদের জীবন থেকে হাসি যাচ্ছে হারিয়ে। কারণ শুধু শরীরকে নয়, এত চাপের মাঝে মনকে চাঙ্গা রাখতে হাসির বিকল্প হয় না বললেই চলে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক হাসির নানা উপকারিতা সম্পর্কে-

১) রক্ত চাপ কমায়ঃ
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে হাসার সময় আমাদের সারা শরীরে রক্তের প্রভাব একদিকে যেমন বেড়ে যায়, তেমনি রক্তনালীগুলি প্রসারিত হতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শিরা-ধমনীর উপর চাপ কম পরে। ফলে ব্লাড প্রেসার কমতেও সময় লাগে না। তাই প্রেসারের রোগীরা সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করবেন।

২) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটেঃ
হাসার সময় আমাদের শরীরে “ফিল গুড” হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলি নানাভাবে শ্বেত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী হয়ে যায় যে কোনও রোগই শরীরকে ছুঁতে পারে না। সেই সঙ্গে নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৩) মন ভাল হয়ে যায়ঃ
আমরা যখনই প্রাণ খুলে হাসি, তখনই আমাদের শরীরে সেরাটোনিন এবং এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে আমাদের মন ভাল হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণাও কমে যায়। এই দুটি হরমোনকে চিকিৎসকেরা “ফিল গুড” হরমোন বলেও ডেকে থাকেন।

৪) হার্টের ভালো রাখেঃ
বেশি হাসলে ব্লাড প্রসার কমে। শুধু তাই নয়, হার্টের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। আসলে হাসার সময় আমাদের রক্তনালীগুলি প্রসারিত হয়। ফলে সারা দেহে রক্ত প্রবাহ বেড়ে গিয়ে শরীর একেবারে চাঙ্গা হয়ে ওটে। সেই সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও কমে। তাই তো চিকিৎসকেরা মজা করে বলে থাকেন, “যত হাসবেন, তত হার্ট ভাল থাকবে”।

৫) মানসিক চাপ কমায়ঃ
হাসির সময় শরীরের এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা স্ট্রেস হরমোন নামে পরিচিত কর্টিজল হরমোনের কার্যক্ষমতাকে কমিয়ে ফেলে। ফলে মানসিক চাপ যে কখন দূরে পালায়, তা বোঝাই যায় না। তাই একটু বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করুন। যত প্রিয়জনেদের সঙ্গে মিশবেন, তত মন ভাল হবে। সেই সঙ্গে দূর হবে মানসিক চাপও।

Comments

comments