পেশায় চা বিক্রেতা অথচ কতোবার মধূচদ্রিমা সেরেছেন জানলে অবাকই হবেন!

সুইজারল্যান্ড, ইজিপ্ট, দক্ষিন আফ্রিকা থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্ত্রীকে নিয়ে ঘোরাটাই একমাত্র নেশা কোচির ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধের। শুনলে অবাক হবেন পেশায় তিনি একজন চা বিক্রেতা। চা বানিয়েই তাঁর দিন গুজরান হয়। তবে এর থেকেই সঞ্চয় করেন বিজয়ন ও তাঁর স্ত্রী মোহনা।

কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখতে চান এই দম্পতি। ইতিমধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আঠারোটি শহর ঘুরে ফেলেছেন তাঁরা। তবে থেমে থাকতে চান না । আরও অনেক দেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছে রয়েছে এই তাঁদের।

ছোটবেলা থেকেই বেড়াতে ভালবাসেন বিজয়ন। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে কেরালার বিভিন্ন মন্দিরে ঘুরতে যেতেন তিনি। তখন থেকেই ঘুরতে যাওয়াটা রীতিমতো নেশা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর সংসারের সব দায়িত্ব তাঁর কাঁধে চলে আসার পর সেই নেশা বন্ধ হয়ে যায় বিজয়নের। এরপর রাঁধুনির চাকরি নিয়ে এক পরিবারের সঙ্গে হিমালয়ে তীর্থযাত্রায় চলে যান তিনি। ফিরে এসে বিয়ে করেন। ঘটনাচক্রে তাঁর স্ত্রীও ঘুরতে ভালবাসেন । তখনই দুজনে মিলে বিশ্ব ভ্রমণের দেখার পরিকল্পনা করে ফেলেন।

চল্লিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁরা বিশ্বের একাধিক শহর, রাজ্য, দেশ কার্যত চষে ফেলেছেন। স্ত্রী হিসাবে শুধু নয় ঘোরাঘুরির সঙ্গী হিসাবেও বিজয়নের একমাত্র পছন্দ মোহনাকে। এমনকী স্ত্রীকে ছাড়া বাইরে যাওয়ার কথা ভাবতেও পারেন না তিনি। তবে তাঁদের একটাই সমস্যা ছিল, সেটা অর্থের। তাই লোন নিয়েই ঘুরতে যান তাঁরা। তারপর ফিরে সারাবছর ধরে সেই ধার মেটান।

প্রতিদিন আয় থেকে ৩০০ টাকা সঞ্চয় করেন এই দম্পতি। তাঁরা প্রমাণ করেছেন ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। অন্তত বিজয়ন ও মোহনার পাসপোর্টে বিভিন্ন দেশের ভিসা সেই গল্পই বলছে।

Comments

comments