লিভারের চর্বি গলানোর ঘরোয়া চিকিৎসা

0
23

আজকাল অনেকেই লিভারে চর্বি (ফ্যাটি লিভারে) রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। লিভারের এই রোগটি প্রাণ সংশয়ের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।শরীরে চর্বি বিপাকপ্রক্রিয়ার অসামঞ্জস্য এবং ইনসুলিন অকার্যকারিতার জন্য লিভারের কোষগুলোতে অস্বাভাবিক চর্বি, বিশেষ করে ট্রাইগ্লিসারাইড জমে। এতে লিভারের ওজন হিসেবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব রয়েছে এ সমস্যার মূলে। অ্যালকোহল সেবনকারী এবং স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭৫ শতাংশ। নারী-পুরুষ উভয়ই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। শিশু-কিশোররাও এ থেকে মুক্ত নয়।

লিভারে চর্বি বা চর্বিজনিত রোগ মোটা দাগে দুই রকম: অ্যালকোহলজনিত এবং অন্যান্য কারণ জনিত: উভয় ক্ষেত্রেই, সাধারণ চর্বি জমা থেকে শুরু করে রোগটি নানা জটিল ধাপে অগ্রসর হতে পারে, যেমন- লিভারে প্রদাহ, প্রদাহজনিত ক্ষত বা সিরোসিস, লিভারে অকার্যকারিতা ইত্যাদি। অ্যালকোহলজনিত কারণে এ থেকে যে সিরোসিস হয়, তাতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি, প্রায় ১০ শতাংশ। যখন এই চর্বিযুক্ত সেলগুলো লিভার টিসুদের বাধা দেয়, তখনই লিভার ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এমন কী এই ধরনের পরিস্থিত তৈরি হলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে লিভার ফুলতেও শুরু করে।

লিভারে মেদ জমা যদি ঠিক সময়ে আটকানো না যায় তাহলে তা থেকে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি ও কারণগুলোকে কেবল প্রতিরোধের মাধ্যমেই এ রোগের প্রতিকার সম্ভব। কেননা রোগটির কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে আশাহত হবেন না। ঠিক সময়ে যদি চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে লিভারের রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠা যায়। তবে এমন কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা আছে যা অনুসরণ করলে লিভারের চর্বি গলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে

লেবুপান: প্রতিদিন লেবু জল পানের অভ্যাস করুন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন- সি থাকে, যা লিভারকে দূষণমুক্ত করতে সাহায্য করে।
গ্রিন-টি : প্রতিদিন সকালে ও বিকালে এক কাপ করে গ্রিন-টি পান করুন। এটি লিভার ফাংশন ঠিক করতে সাহায়তা করে।
অ্যাপেল সিডার ভিনিগার : এক কাপ গরম জলেতে কেয়েক ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিদিন খাবার আগে পান করুন। কয়েক মাস এটা খেলেই দেখবেন লিভারে জমে থাকা চর্বি সব গায়েব হয়ে গেছে।
আদাজল: এক চা চামচ আদা গুঁড়া গরম জলেতে মিশিয়ে দিনে দুবার পান করুন। এই পানীয় টানা ১৫ দিন খেলেই দেখবেন অনেক সুস্থ বোধ করছেন। কারণ এটি লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াটি প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে লিভার আস্তে আস্তে ঠিক হতে শুরু করে।
আমলার রস : আমলায় ভিটামিন-সি থাকায় এটি লিভারকে দূষণমুক্ত করে। তাই লিভারের অসুখে আক্রান্ত রোগী যদি টানা ২৫ দিন এই রস, এক চামচ করে প্রতিদিন সকালে খান, তাহলে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
পানি কম পান করলে ব্লাড সুগার বাড়ে: খাবার না খেয়েও যে কোন মানুষ অনেকদিন বাঁচতে পারে কিন্তু পানি পান না করলে একদিনও টিকে থাকা অসম্ভব। তবে শুধু পানি পান করলেই হবে না। শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি করা জরুরি। আমাদের শরীরের দুই-তৃতীয়াংশ কাজই হয় পানির উপর ভিত্তি করে। কাজেই এর অভাবে শরীরের নানা অংশ মারাত্মক ক্ষতি হবে এটাই স্বাভাবিক। পানি পান করলে ব্লাড সুগার বা রক্তে চিনি কমতে পারে এমন কেউ বললে হয়তবা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারবেন না। কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ এক গবেষণা রিপোর্টে এমনই দাবী করেছেন। শুধু তাই নয়, গবেষকগণ বলছেন, যারা প্রতিদিন ১৬ আউন্স বা তার চেয়ে কম পানি পান করে (দুই কাপ) তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি যারা স্বাভাবিক পানি পান করে তাদের চেয়ে শতকরা ৩০ ভাগ বেশি।

আর কেনইবা পানি পানের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সংশ্রব খুঁজে পেয়েছেন তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকগণ। এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়, ভ্যাসোপ্রেসিন নামক এক ধরণের হরমোন শরীরের হাইড্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে। যদি প্রতিদিন কম পানি পান করা হয় বা কোন ব্যক্তির যদি পানি শূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হয় তাহলে রক্তে ভ্যাসেপ্রেসিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় যা লিভারকে অধিক সুগার তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতি দিন মহিলাদের অন্তত ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা উচিত। আর পুরুষদের এর চেয়ে খানিকটা বেশী পানি পান করা ভালো। তবে পানির পাশাপাশি তাজা ফলের রস পানেও কোন ক্ষতি নেই। তবে যাদের প্রচুর পানি খাওয়ার অভ্যাস নেই তারা প্রতিবার আহারের পূর্বে অন্তত এক গ্লাস পানি পান করতে পারেন। এমনটি পরামর্শ দিয়েছেন দ্য একাডেমী অব নিউট্রিশন এন্ড ডায়েটিকস-এর মুখপাত্র কনস্ট্যান্স ব্রাউন বিগস।