জেনে নিন, শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষণ এবং প্রতীকার

0
466

শ্বেতী রোগ, কারণ ও লক্ষণ- শ্বেতি শব্দটি সাদা থেকে এসেছে। কমবেশি সবাই জানেন
এই রোগে শরীরের বিশেষ বিশেষ অংশ সাদা হয়ে যায়।

ত্বকের বর্ণ তৈরী করে এমন কোষগুলো যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন ত্বক আর বর্নিল থাকতে
পারেনা, বর্নহীন ত্বকের এমন একটি রোগেরই নাম শ্বেতীরোগ বা ভিটিলিগো।
জাতি-গোত্র-বর্ণ নির্বিশেষে শতকরা ১ ভাগ মানুষের এমন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

শ্বেতী রোগে ত্বক মেলানিন (যা মানুষের ত্বক, চোখ ও চুলের রঙ নির্ধারণ করে) হারায়। যখন
ত্বকের কোষগুলো ক্ষয় হয় বা মারা যায় তখন শ্বেতী রোগ হয়। কারণ ত্বকের কোসগুলোই
মেলানিন তৈরি করে। শ্বেতীর ফলে ত্বকের উপর সাদা দাগের আকার দেখা যায়। শ্বেতী
রোগ তিনভাবে হতে পারে:

শরীরের অল্প কিছু অংশে
যে কোন একদিকে (বাম অথবা ডান দিকে)
শরীরের অধিকাংশ জায়গায়
শ্বেতী রোগের কারণ
যে কয়টি রোগের কারণে ত্বক সাদা হয়ে যায় শ্বেতী তার মধ্যে অন্যতম। মানুষের চামড়ায়
মেলানোসাইট নামক যে কোষগুলো থাকে সেগুলো ধ্বংস হয়ে গেলেই এ রোগ দেখা
দেয়। কেন এ কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায় সে ব্যাপারটি এখনো নিশ্চিত করে জানা যায় নি।
অনেকে মনে করেন, এন্টিজেন এন্টিবডির বিক্রিয়ার মাধ্যমে মেলানোসাইট নামক
কোষটি ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।

কোন বয়সে হয়

বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যে কোনও বয়সেই এ রোগ হতে পারে৷ তবে ১০ থেকে ৩০ বছর
বয়সের মধ্যেই এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়। এটা সাদা, কালো এবং বাদামী সব বর্ণের
লোকদের মধ্যেই হতে দেখা যায় এবং বংশগতভাবেও এ রোগ হতে পারে।

শ্বেতী রোগের লক্ষণ
শরীরের যে কোনও স্থানে, বিশেষ করে সুর্যের আলোর সংস্পর্শে প্রায়ই আসে, যেমন- মুখ,
হাত, পা ইত্যাদি অংশে সাদা দুধের মতো দেখা যায়। তবে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে, কাটা
স্থানে, নিয়মিত শরীরের যে সব স্থানে চাপ পড়ে সেই স্থানে শ্বেতী হওয়ার প্রবণতা বেশি
লক্ষ করা যায়।

সাধারণত প্রথম দিকে হালকা সাদা রঙ নিয়ে শুরু হয় তারপর আস্তে আস্তে এর বিস্তার
ঘটতে থাকে এবং এক সময় ধবধবে সাদা রঙ ধারণ করে। কালো চামড়ায় এটা যতটা
প্রকটভাবে দেখা যায় সাদা চামড়ায় ততটা দেখা যায় না।

রোদে ও আলোতে গেলে শ্বেতী হওয়া স্থান কোনও কোনও ক্ষেত্রে লাল হয়ে যেতে পারে।
এগুলো আকারে এক মিলিমিটার থেকে শুরু করে শরীরের বিশাল অংশ জুড়েও হতে পারে।

সংখ্যায় একটি থেকে শুরু করে অসংখ্য হতে পারে।

কোনও কোনও ক্ষেত্রে সামান্য চুলকানি থাকতে পারে।

শ্বেতীতে আক্রান্ত স্থানের চুলগুলো সাদা রঙয়ের অর্থাৎ চুল পেকে যেতে পারে।
মুখের ভেতরে এবং চোখেও শ্বেতী হতে পারে।

চিকিৎসাঃ
শ্বেতী রোগের চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ, পুরোপুরি না-ও সারতে পারে। দেহের লোমশ
অংশের চিকিৎসা অনেকটাই সফল হয়। কিন্তু যেসব জায়গায় লোম থাকে না, যেমন আঙুল,
ঠোঁট ইত্যাদির চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে
যেতে পারে। সাধারণত কোনো ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া শুধু রোগের লক্ষণ দেখেই এই
রোগ নির্ণয় করা হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম, থেরাপি ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনে ত্বক প্রতিস্থাপন
করা যায়। তবে সব রোগীর জন্য সব চিকিৎসা পদ্ধতি একরকম ফল দেয় না। রোগীর বয়স,
রোগের স্থান এবং ব্যাপ্তিভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি বাছাই করা হয়।

শ্বেতী রোগের চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ, পুরোপুরি না-ও সারতে পারে। দেহের লোমশ
অংশের চিকিৎসা অনেকটাই সফল হয়। কিন্তু যেসব জায়গায় লোম থাকে না, যেমন আঙুল,
ঠোঁট ইত্যাদির চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে।