রক্তের গ্রুপের ভিন্নতা অনুযায়ী কোন ধরণের খাবার কম-বেশি খাওয়া উচিত

0
255

একমাত্র ডায়েটই শুধু শরীর সুস্থ্যভাবে পরিচালিত হতে পারে এবং ডায়েটই শরীরের
জন্য সর্বোত্তম ড্রাগ। ঠিক একই রকম ভাবে হিপোক্রেট্স যাকে পশ্চিমা বিশ্বে ঔষধের
পিতা হিসাবে গন্য করে,তার সারা জীবনের গবেষনা লব্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি
বলেছেন ঐ একই কথা- ”খাদ্যই ঔষধ এবং খাদ্যই বিষ।” তাই আপনাকে জানতে হবে
কোন খাদ্যগুলি শরীরের জন্য হিতকর এবং কোনগুলি নয় !

কেমন আছেন আপনারা? আজ আপনাদের জন্য থাকছে বিভিন্ন রক্তের গ্রুপের মানুষের
জীবনধারণ ও স্বভাবের স্বভাবগত বিশ্লেষণ। প্রতিটি মানুষের রক্তের গ্রুপ আলাদা ও
তাদের স্বভাব চরিত্রও। রক্তের গ্রুপ ভেদেও অনেক রকম পরিবর্তন থাকে মানুষের
মাঝে। এমনকি ভিন্নতাও থাকে। এর কারণেই বাচ্চাদের মধ্যে বাবা-মা দুজনের একজনের
রক্তের গ্রুপ থাকে বিধায় তাদের স্বভাবগত মিল পাওয়া যায়।

পূর্বে অর্থাৎ আগে মানুষ জানত না যে সবার রক্তের গ্রুপ আলাদা আলাদা। কিন্তু এখন
মানুষ ধীরে ধীরে চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতির আথে সাথে এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন
হচ্ছে। ১৯ শতকে অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী মানব দেহের রক্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রকার রক্তের গ্রুপ
আবিষ্কার করেন। এই রক্তের গ্রুপ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় তিনি মানব দেহের মধ্যেই
একেক মানুষের মধ্যে একেক ধরনের রক্তের গ্রুপ খুজে পান।

রক্তের গ্রুপ চার প্রকার । যেমন- এ, বি, ও এবং এবি তে আছে ভিন্ন ভিন্ন এন্টিবডি ও
এন্টিজেন আছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমাদের ইমিউন সিস্টেম রক্তের ধরনভেদ
ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া করে। প্রতিটি গ্রুপের আবার নেগেটিভ ও পজেটিভ আছে। এই
রক্তের গ্রুপের দ্বারা যে মানুষের স্বভাব বুঝে নেয়া যায় তা জানেন?

চলুন জেনে নিই রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী মানুষের জীবনধারণ এবং
শারীরিক বৈশিষ্ট্য কেমন হয়।

🌿ডায়েট :
রক্তের গ্রুপের ভিন্নতা অনুযায়ী খাবার-দাবারও কিন্তু ভিন্ন হওয়া চাই। কারণ
সবার জন্য সব পুষ্টি নয়। খাবার খেতে হবে নিজের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিল রেখে।
আমরা যেটাই খাই না কেন, তা এই রক্তের গ্রুপের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ
নেয়। আর রক্তের গ্রুপের সঙ্গে খাদ্য উপাদান না মিললে, তা শরীরে কাজে লাগে
না।একেক ব্লাড গ্রুপের মানুষ একেক ধরনের খাবার খেয়ে থাকে।রক্তের গ্রুপ
অনুযায়ী খাবার তালিকার উদ্ভাবন করেছেন চিকিৎসক পিটার জে ডি’অ্যাডামো এবং অ্যালান রিচার্ড।

গবেষকদের মতে, রক্তের গ্রুপের (এ,বি,এবি এবং ও)ওপর নির্ভর করে যে খাদ্য
তালিকা আবিষ্কার করা হয়েছে সেটা অনুসরণ করলে ওজন কমবে এবং সুস্থ থাকা
যাবে। রক্তের ধরন অনুসরণ করে খাবার গ্রহণ করলে শরীর আরো বেশি দক্ষতার সঙ্গে
হজম করবে। ফলে ওজন কমবে, দেহের শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

💕যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ’:
এই রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিরা সাধারনত নিরামিষ জাতীয় খাবারে বেশি সতেজ থাকে।
এরা খুব বেশি সংবেদনশীল।তাই এদের খাবারের তালিকায় খাঁটি, তাজা, এবং
প্রাকৃতিক ও অর্গানিক খাবার রাখতে হবে। এই ধরনের খাবারের মাধ্যমে প্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়ে। যাদের রক্তের গ্রুপ এ তাদের জন্য খাদ্যশস্য, ফল ও সবজি, বিভিন্ন ধরনের
শিম ও ডালবীজ জাতীয় খাবার হচ্ছে উত্তম। তবে দুগ্ধ জাতীয় খাবার তালিকায় রাখতে ভুলবেন না।

যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ’ তাদের জন্য নিম্নে উল্লেখিত খাবারগুলো উপকারি।
এগুলো হলো- কাঠ বাদামের দুধ, আপেল, মুলো শাক, অ্যাস্পারাগাস, বিট, কালো শিম
বীজ, ব্লুবেরি, ব্রকলি, সেলারি, চেরি, খেজুর, চাইনিজ বাধাকপি, ব্রাউন ব্রেড,
মৌরি, রসুন, দই, পেয়ারা, পাতাকপি, লেটুস, মাশরুম, সয়া মিল্ক, অটস,
রাসবেরি, থানকুনি শাক, রাই, তরমুজ ইত্যাদি।

💕যাদের রক্তের গ্রুপ ‘বি’:
এদের জন্য গবেষণায় সবুজ শাক সবজি, ডিম, মাংস এবং লো-ফ্যাট দুধ খেতে
পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যদিও মুরগির মাংস চর্বিবিহীন। তবে ‘বি’ গ্রুপের জন্য এটি
বর্জন করাই শ্রেয়। মুরগির পরিবর্তে যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদির মাংস খেতে
পারেন। সে কারনে সবুজ শাকসবজি, ডিম, মাংস এবং কম চর্বিযুক্ত দুধ খেতে হবে।

যাদের রক্তের গ্রুপ ‘বি’ তাদের জন্য নিম্নে উল্লেখিত খাবারগুলো উপকারি।
এগুলো হলো- অ্যাপ্রিকট; গরু, খাসি, ভেড়ার মাংস; মাছ; টার্কি; ডিম; লাল চাল;
ওটস; মাখন; বাধাকপি; সেলারি; লেটুস; পনির; নারিকেলের দুধ; ক্র্যানবেরি; বেগুন;
লাল আলু; মাশরুম; মরিচ; মৌরি; আঙ্গুর; আম; তরমুজ; আনারস; স্ট্রবেরি ইত্যাদি।

💕যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এবি’:
সাধারণত ‘এবি’ গ্রুপের রক্তে ‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপের মিশ্র জিনের বৈশিষ্ট্য
দেখা যায়। দুই ধরনের রক্তের গ্রুপের বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান থাকে। বিশেষ করে ‘এ’
গ্রুপে মাংস না খেতে পারা এবং ‘বি’ গ্রুপের রক্তে শর্করা কমে যাবার প্রবণতা
বিদ্যামান। তবে AB গ্রুপের ব্যক্তিদের খাবারের ব্যাপারে নিজস্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা
করার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের খাবারে তালিকায় সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধ জাতীয় খাবার
এবং সবুজ শাকসবজি থাকতে হবে। তবে এদের পাকস্থলীতে কিছু প্রয়োজনীয় এসিড
কম থাকে। আবার ‘বি’ গ্রুপের মানুষের মত খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতাও থাকে। এই
গ্রুপের মানুষদের পাকস্থলীতে কিছু প্রয়োজনীয় এসিড কম থাকায় মাংস বিপাকে
এদের সংরক্ষণ করে রাখার প্রবণতা বেশি থাকে। কারন এদের ‘এ’ ও ‘বি’ উভয় গ্রুপের অ্যান্টিজেন বিদ্যমান থাকে।

যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এবি’ তাদের জন্য নিম্নে উল্লেখিত খাবারগুলো উপকারি।
এগুলো হলো- আপেল, ব্লুবেরি, গাজর, ক্র্যানবেরি, শশা, ডিম, ডুমুর, আদা, গ্লুটেন
ফ্রি ব্রেড, পেঁয়াজ, ঢেঁড়স, জলপাই, পেঁপে, পিচফল, টমেটো, তরমুজ, ধুন্দল ইত্যাদি।

💕যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’:
এদের খাবারের তালিকায় উচ্চ প্রোটিনযুক্ত যেমন লাল মাংস, মাছ এবং পোল্ট্রি রয়েছে।
প্রোটিনের পাশাপাশি প্রচুর তাজা শাকসবজি এবং ফল রাখতে হবে। তবে বর্জনীয় খাবার
গুলো হচ্ছে শস্য, রুটি, ও ডাল জাতীয় খাবার।

যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ তাদের জন্য নিম্নে উল্লেখিত খাবারগুলো উপকারি।
এগুলো হলো- কাঠবাদাম, দুধ, আপেল, অ্যাস্পারাগাস, কলা, গরুর মাংস, মুরগি,
হাঁসের মাংস, মাছ, কলিজা, গলদা চিংড়ী, টার্কি, হরিণের মাংস, স্যামন, তেলাপিয়া,
টুনা মাছ, কাঁকড়া, কালো, শিমবীজ, চেরি, খেজুর, পনির, ডুমুর, কুমড়া, টমেটো,
পেয়াজ, রসুন, আদা, লেবু, মূলা, তরমুজ, বড়ই, লেটুস, মালবেরি ফল, সয়াদুধ,
কিশমিশ, মিষ্টি আলু ইত্যাদি। তাহলে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা থাকলে কোন খাবারটা
আপনার শরীরের জন্য ভালো হবে তা জানতে কোনো অসুবিধাই থাকবে না।

🌿নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে হবে :
সবারই যে একই ধরনের শরীর খারাপ হয়, এমন নয় কিন্তু। একেক ব্লাড গ্রুপের
মানুষদের একেক ধরনের সমস্যা হয়। তাই আজই নিজের ব্লাড টাইপ জেনে একটু রিসার্চ
করে নিন না, কোন ধরনের রোগে আপনার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সব থেকে বেশি সে সম্পর্কে।

রক্তের গ্রুপ “ও” এর চিকিৎসা ঝুঁকিঃ

আলসার, এলার্জি, রক্তজমাট ব্যাধি, প্রদাহজনক রোগ, বাত, কম থাইরয়েড উৎপাদন।

রক্তের গ্রুপ “এ” এর চিকিৎসা ঝুঁকিঃ

হৃদরোগ, ক্যান্সার, রক্তশূন্যতা, ডায়াবেটিস, লিভার এন্ড গলব্লাডার গোলযোগ।

রক্তের গ্রুপ “বি” এর চিকিৎসা ঝুঁকিঃ

ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ লক্ষন, স্নায়ু রোগ, তীব্র প্রদাহ, মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড
সম্পর্কিত রোগ।

রক্তের গ্রুপ “এবি” এর চিকিৎসা ঝুঁকিঃ

হৃদরোগ, ক্যান্সার, রক্তশূন্যতা।

🌿প্রতিক্রিয়া :
কিছু ব্লাড গ্রুপের মানুষরা খুব তাড়াতাড়ি চাপে পড়ে যান। যেমন, ও গ্রুপের
অধিকারীদের স্ট্রেসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই আজই নিজের রক্ত
সম্পর্কে জানুন, আর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।

🌿ওজন বৃদ্ধি :

সবাই কিন্তু এক রকম মোটা হন না। কারণ জানেন? গবেষণায় দেখা গেছে ও ব্লাড
গ্রুপের অধিকারীরা বাকিদের তুলনায় বেশি তাড়াতাড়ি মোটা হন।

🌿বাচ্চা :

আপনার বাবা-মা, আপনার এবং আপনার বাচ্চার রক্তের বিভাগ পরীক্ষা করার মাধ্যমে
একথা জেনে নেয়া সম্ভব যে আপনারা কী ধরনের রোগে বেশি আক্রান্ত হবেন।

🌿শরীরচর্চা :
সবারই সব ধরনের শরীরচর্চা করা উচিত, এমন নয় কিন্তু। একেক ধরনের ব্লাড
গ্রুপের জন্য একেক রকমের এক্সারসাইজ খুব ভালো কাজে দেয়। যেমন বি গ্রুপের
অধিকারীরা মার্শাল আর্ট, টেনিস বা ওই ধরনের কোনো খেলাধূলা করতে পারেন
যাতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে এ ব্লাড গ্রুপের যারা, তারা যোগাসন করলেই
ভালো। এদের জন্য বেশি শারীরিক পরিশ্রম হবে, এমন শরীরচর্চা করা উচিত নয়।

🌿ইমার্জেন্সি :

ব্লাড গ্রুপ জানা থাকলে হঠাৎ কোনো অসুস্থতার সময় তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু
করা অনেকাংশেই সম্ভব হয়। তাই আজই নিজের রক্ত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করুন।
না হয় কিন্তু বিপদ!