জেনে নিন, ঘুমের মধ্যে শরীরে ঝাঁকুনি! কীসের লক্ষণ?

0
229

ঘুমের মধ্যে শরীরে ঝাঁকুনি- শরীরে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব নেমে এলে মাস্‌ল এবং পেশীগুলো আস্তে আস্তে অবশ হতে থাকে। কিন্তু, মস্তিস্ক শরীরে পেশীর এই অবস্থান ঠাহর করতে পারে না। সবে চোখটা বুজে এসেছে। আচমকাই একটা ঝটকা। শরীরটা প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল, যেন মনে হচ্ছে কোথাও পড়ে যাচ্ছিলেন।

এটা শুধু আপনার সমস্যা নয়, শরীরের ঝাঁকুনির এমন অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন বিশ্বের অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ। ঘুমের মধ্যে এমন ঝাঁকুনিকে ‘হিপনিক জার্কস’বলা হয়। কেন এমনটা হয়? জেগে থাকা অবস্থা থেকে সবে ঘুমোতে যাওয়ার অবস্থার মধ্যে এই ‘হিপনিক জার্কস’ ঘটে থাকে।

এই সময় মানুষ পুরোপুরি ঘুমের মধ্যে থাকে না। বরং বলা যায়, সে তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। এই অবস্থাতেই স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে জাগরণ ও স্বপ্নের সীমানাকে অনেক সময়েই মস্তিষ্ক ঠাহর করতে পারে না। ফলে তার ধাক্কা এসে লাগে শরীরে। এ থেকেই তৈরি হয় ‘হিপনিক জার্কস’।

ঠিক কেন মস্তিষ্ক ঠাহর করতে পারে না শরীরে অবস্থা? আসলে শরীরে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব নেমে এলে মাস্‌ল এবং পেশীগুলো আস্তে আস্তে অবশ হতে থাকে। কিন্তু, মস্তিস্ক শরীরে পেশীর এই অবস্থান ঠাহর করতে না পেরে সেই প্রক্রিয়া আটকানোর চেষ্টা করে, ফলে শারীরে ঝাঁকুনি হয়।

যদিও, কিছু মানুষ একে শারীরিক অসুবিধা ভেবে ভয় পান। কিন্তু, চিকিৎসকদের মতে এতে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই। তবে, অনেক সময়ে নাক ডাকা থেকেও ‘হিপনিক জার্কস’ ঘটে থাকে। স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজনাপ্রবাহ ঠিকমতো ঠাহর করতে না পারায় এক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে শরীরে ঝাঁকুনি হয়।

ঘুমানোর আগে পানি কেন পান করবেন?

আমাদের শরীরের জন্যে অসম্ভব প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হচ্ছে পানি। শরীরে পানির ঘাটতি হলে শরীরবৃত্তীয় সকল কর্মকান্ডই বাধাপ্রাপ্ত হয়।

দুর্বল বোধ করা, মাথা ঘোরানো, অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া, পেশিতে ব্যথা বা খিঁচ ধরা ইত্যাদি সবই পানির ঘাটতির লক্ষণ। পানিশুন্যতাকে অবহেলা করার কিছু নেই, কেননা সামান্য অবহেলা ডেকে আনতে পারে মৃত্যু পর্যন্ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগে পানি পান করা কি জরুরী? যদি জরুরী হয়, তাহলে কতটা পানি পান করা নিরাপদ?

রাতের বেলা কেন পানি পান করবেন?

ঘুমাতে যাওয়ার আগে খানিকটা পানি পান করে নেয়াই ভালো। কেননা রাতঘুমের সময়ে প্রায় ৭/৮ ঘণ্টা কিংবা আরও বেশী সময়ের জন্য শরীর কোন পানি পাবে না।

এছাড়াও বেশী গরমে রাতের বেলা ঘাম হলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়, অন্যদিকে এসির মাঝে ঘুমালেও শরীরে পানিশুন্যতা দেখা দেয়।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে খানিকটা পানি পান এই পানিশুন্যতা রোধ করতে পারবে, পিপাসার কারণে ঘুমে ব্যাঘাত হবে না। সকালে ঘুম ভাঙার পর আপনি সতেজ ও প্রাণবন্ত অনুভব করবেন, পানিশুন্যতার কারণে মাংসপেশিতে ব্যথার সমস্যা হবে না।

কতটা ও কখন?

ঘুমের আগে পানি পান করতে হবে মানেই কিন্তু জগ আর পানির গ্লাস নিয়ে বসে পড়বেন, বিষয়টি তেমন নয় মোটেও। অতিরিক্ত ভালো জিনিসও খারাপ রূপেই ফিরে আসে। পানি পান করতে হবে, কিন্তু পরিমিত।

অতিরিক্ত পানি পান করলে রাতে ঘুমের সমস্যা হবে, শোবার পর অস্বস্তি বোধ করবেন। এছাড়াও বারবার টয়লেটে যাবার প্রয়োজন পড়তে পারে, যা আপনার ঘুমের সর্বনাশ করে দেবে।

ঘুমের অন্তত আধা ঘণ্টা আগেই পানি পান করে নিন। আধা গ্লাস থেকে এক গ্লাস খাওয়াও যথেষ্ট। হিমশীতল পানি পান না করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন।

ও হ্যাঁ, ঘুমের আগে চা-কফি-জুস-কোমল পানীয় সহ অন্যান্য সকল পানীয় পান হতে বিরত থাকুন। চা, কফি বা কোমল পানীয় শরীরকে আরও বেশী পানিশুন্য করে দেয়।

আপনার ফুড পয়জনিং হয়েছে কিনা, কী করে বুঝবেন?

পেট খারাপ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো ফুড পয়জনিং। খাবার যদি ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না করা না হয়, তাহলে এতে থাকা কিছু জীবাণু ফুড পয়জনিং তৈরি করে।

এতে মানুষ মারাও যেতে পারে। তবে খাবার কতটা সময় ভালো থাকে এবং কী করলে খাবার নিরাপদ থাকবে এ ব্যাপারে আমাদের কিছু ভুল ধারণা রয়েছে।

১) কিছুক্ষণ আগে কী খেয়েছেন

আপনার হয়তো রাতের খাবার খাওয়ার পর পেট ব্যথা শুরু করেছে। আপনি ধরেই নিলেন রাতের খাবারেই খারাপ কিছু ছিলো। আসলে কিন্তু তা নয়। অনেক সময়ে খারাপ খাবার খাওয়ার কয়েকদিন এমনকি কয়েক সপ্তাহ পরেও পেট খারাপের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

২) নিরামিষভোজীদের ফুড পয়জনিং হয় না

অনেক ভেজিটেরিয়ান বা ভেগান মনে করেন তাদের ফুড পয়জনিং হবে না। কাঁচা ফল ও সবজি থেকেও কিন্তু ফুড পয়জনিং হতে পারে।

৩) ফ্রিজে রাখা খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হয় না

খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজার। এ কারণে লম্বা সময় ফ্রিজে রাখা খাবার খেলেও ফুড পয়জনিং হতে পারে। ফ্রিজ থেকে বের করে খুব ভালো করে গরম করে খাবার খেতে হবে।

৪) জমাট বাঁধা মাংস এমনিই গলানো যায়

অনেকেই ফ্রিজারে রাখা মাংস রান্নাঘরে রেখে দেন যাতে বরফ গলে যায়। এভাবে নয়। ফ্রিজার থেকে বের করে সাধারণ ফ্রিজে রাখুন। নয়তো হাঁড়িতে পানি নিয়ে এর ভেতরে মাংসটা রাখুন।

৩০ মিনিট পরপর পানি পাল্টে দিন। মাইক্রোওয়েভেও বরফ গলিয়ে নিতে পারেন। খোলা বাতাসে রেখে দিলে এতে জীবাণু সংক্রমণ হয় খুব দ্রুত। এই মাংস ভালোভাবে রান্না না হলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।

৫) মাংস ধোয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন

মাংস ধোয়ার সময়ে এই পানি যেন চারিদিকে ছিটিয়ে না পড়ে সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। এই পানির মাধ্যমে আপনার রান্নাঘরে জীবাণু ছড়াতে পারে এবং যে কোনো খাবার থেকেই জীবাণু ছড়াতে পারে।

৬) বাসি খাবার গন্ধ না হলে খাওয়া যাবে

গন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত অনেকে বাসি খাবার খেতে দ্বিধা করেন না। কিন্তু খাবার খাওয়ার পর বেঁচে গেলে তা দুই ঘণ্টার মাঝেই ফ্রিজে তুলে দিন। আর ফ্রিজে ৩-৪ দিনের বেশি কোনো রান্না করা খাবার রাখবেন না। এসব খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।

ফুড পয়জনিং থেকে দূরে থাকবেন কী করে

ফুড পয়জনিংয়ের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো পেটে ব্যথা, পেট কামড়ানো, ডায়ারিয়া, জ্বর এবং বমি। অনেক সময়ে শরীরের অন্যান্য অংশে পেশীতে ব্যথা ও ক্র্যাম্প হতে পারে, শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে এমনকি মলের সাথে রক্ত যেতে পারে।

১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, তিন দিনের বেশি ডায়ারিয়া, মলের সাথে রক্ত এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ থাকলে ডাক্তার দেখাতে হবে।

ফুড পয়জনিং থেকে সুস্থ থাকার জন্য মাংস ও মাছ খুব ভালো করে রান্না করতে হবে। রান্নার আগে ও পরে হাত ধুতে হবে। এছাড়া বাথরুম ব্যবহারের পর, বাচ্চার ডায়াপার পাল্টানোর পর, এমনকি পোষা প্রাণীকে ধরার পর হাত ধুতে হবে। কাঁচা মাছ মাংস কাটার জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা উচিত।

শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং অসুস্থ মানুষের ফুড পয়জনিং হবার সম্ভাবনা বেশি। তাই তাদের এসব বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকা উচিত।