Sunday , 20 May 2018

বিশ্বাস হয়! টিভি-কাঁপানো এই রেসলারদের কেউ ছিলেন কুলি কেউ ড্রাইভার কেউ চোর!

একসময়ে রেসলিংয়ের রিং কাঁপিয়েছেন স্টোন কোল্ড, অভিনয় করেছেন সিনেমাতেও। টিভির পর্দায় রক, বাতিস্তা, ট্রিপলএইচ, জন সেনা প্রমুখের রেসলিং দেখে মুগ্ধ-শিহরিত দুনিয়াজোড়া মানুষ। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে প্রিয় রেসলারদের দুঃসাহসী কুস্তি-মারামারির প্যাঁচ দেখতে যায় অগণন মানুষ। তবে এইসব কুস্তিগিরদের ব্যক্তিজীবন থাকে পর্দার অন্তরালে। বলা যায়, ফিল্মস্টারদের মতোই অনেকটাই লোকচক্ষুর বাইরে রাখা হয় তাদের অতীত।







তবে মিডিয়ার চোখ ফাঁকি দিয়ে থাকা বেশিদিন সম্ভব হয় না কারো পক্ষেই। ডাব্লিউডাব্লিউই (ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্ট যার আগের নাম ছিল ডাব্লিউডাব্লিউএফ অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড রেসলিং ফেডারেশন)-এর রেসলারদের অনেকেরই মূল পেশা কিন্তু কুস্তিখেলা ছিল না। তাদের কেউ কেউ আছেন যারা আগে থেকে লক্ষ্যস্থির করে, প্রস্তুতি নিয়ে রেসলার হয়েছেন। অনেকেই ঘটনাচক্রে অন্য পেশা থেকে এসেছেন। এখানে কালের কণ্ঠ অনলাইন পাঠকদের জন্য তেমনি কিছু বিশ্বসেরা রেসলারের চমকানো অতীত তুলে ধরা হলো :







জন সেনা : ডাব্লিউডাব্লিউই-এর ১৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তিনি। হাল আমলের এই মল্লবীরকে দুনিয়াজোড়া মানুষ যতটা পছন্দ করে তার অতীত সম্পর্কে জানে তারচেয়ে অনেক কম।







ডাব্লিউডাব্লিউই-এর রিঙ মাতানোর আগে জন সেনা ছিলেন লিমোজিন চালক। তার ভক্তদের অনেকেরই এটা মানতে কষ্ট হবে যে ভাড়ায়চালিত লিমোজিনের ড্রাইভারি করে পেট চলত তার। বর্তমান মার্কিন বাজারে একজন লিমোজিন চালকের প্রতিঘণ্টার বেতন বা ভাতা হচ্ছে ১১ ডলার। পরে বিশ্বখ্যাত গোল্ড জিমের ব্যবস্থাপক হন তিনি।







স্টোন কোল্ড : ডাব্লিউডাব্লিউই-তে ঝড় তোলার আগে স্টোন কোল্ড ফিজিক্যাল এডুকেশনের ডিগ্রি হাসিলের খুব কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু কিছু ক্রেডিট কম থাকায় ডিগ্রির শিঁকে তার ভাগ্যে ছেঁড়েনি। এরপর দুমুঠো অন্নের জন্য তাকে জাহাজ ঘাটে কুলির কাজ নিতে হয়। একপর্যয়ে ১৯৮৯ সালে ডালাসে ক্রিস অ্যাডামের কুস্তি শেখার স্কুলে ভর্তি হন। তারপরের ঘটনা তো ইতিহাস। কুস্তির জগতে জয়জয়কার ছাড়াও সিনেমায় অভিনয় করেছেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।







এককালে জাহাজ ডকে মাল ওঠানো-নামানোর (লোডার) দিনমজুর স্টিভ অস্টিন ওরফে স্টোন কোল্ড আমেরিকান টিভিনির্ভর রেসলিং ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত চরিত্র। বিশেষ করে ভিন্স ম্যাকমোহনসহ অন্যান্য খ্যাতিমান কুস্তিগিরদের সঙ্গে তার ঝগড়া-বিবাদ কুস্তি জগতে এক ইতিহাস হয়ে আছে।







গোল্ডবার্গ : রেসলিংয়ে আসার আগে গোল্ডবার্গ ছিলেন আমেরিকান ফুটবলার (রাগবি প্লেয়ার)। এ জন্য তাকে অত গরিবি হালতের মোকাবিলা করতে হয়নি। কিন্তু একবার পেটের নিচের দিকে মারাত্মক আঘাত পান।







তারপর থেকে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়া যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। যোগ দেন রেসলিংয়ের আরেক বিশ্বখ্যাত সংগঠন ডাব্লিউসিডাব্লিউ (ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ রেসলিং)-এ। এরপর যুক্ত হন ডাব্লিউডাব্লিউই-তে।







ট্রিপল এইচ : তাকে ধরা হয় ডাব্লিউডাব্লিউই-এর একজন শীর্ষ সুপারস্টার হিসেবে। কুস্তির জগতে শোরগোল তোলার আগে তিনি ছিলেন মার্কিন ফাস্টফুড চেইন ওয়েন্ডিজের কর্মী।







বেশ কয়েকবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাবজয়ী ট্রিপল এইচ ব্যক্তিজীবনে ডাব্লিউডাব্লিউই-এর চিফ ব্রান্ড অফিসার স্টেফানি ম্যাকমোহনের স্বামী। একইসূত্রে তিনি ডাব্লিউডাব্লিউই চেয়ারম্যান ভিন্স ম্যাকমোহনের জামাতা।







বাতিস্তা : পেশাগত জীবনে ঘটন-অঘটের শেষ নেই তার। দুনিয়াজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের চোখে কুস্তির রিংয়ে ‘দ্য এনিম্যাল’ হিসেবে খ্যাত বাতিস্তার শৈশব কেটেছে নির্মম দারিদ্র্যর চাপে। অভাবের তাড়নায় চোখে কিছু দেখতে না পেয়ে ১৩ বছর বয়সে গাড়ি চোরের খাতায় নাম লেখান। কয়েক বছর পর চাকরি নেন নাইটক্লাব বাউন্সারের (দারোয়ান)। কিন্তু এক ঘটনায় নাইটক্লাবের দুজন পৃষ্ঠপোষককে পিটিয়ে তক্তা বানান। ফল হয়- বাতিস্তা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার।







এরপর চলতে থাকে জীবনের চড়াউ-উতরাই ভাঙার বিরামহীন খেলা। একপর্যায়ে চাকরি নেন লাইফগার্ডের। এখানে এসে বদলে যায় তার জীবনের খোল-নলচে। শুরু করেন বডি বিল্ডিংয়ের কসরত। সেখান থেকে নাম লেখান কুস্তিগিরের খাতায়। বাকিটা তো ইতিহাস।-উইকিপিডিয়া