Sunday , 20 May 2018

রাজিব গেল, কি হবে হৃদয়ের?

আমাদের অভাবের সংসারের হাল ধরতে ছেলেটি কাজ শুরু করেছিল। ভালোভাবেই কাজ করছিল সে। পরিবারটিও চলছিল ভালোভাবেই। কিন্তু হঠাৎ করে এক দুর্ঘটনা ছেলেটিকে পঙ্গু করে দিল।













আমার সংসারে আয় করার মত এখন আর কেউ নেই। এখন আমার ছেলেটির কি হবে? কিভাবে সে সামনের জীবন পার করবে। এভাবেই বিডি২৪লাইভের প্রতিনিধির কাছে আর্তনাদ করছিল গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাকের চাপায় পড়ে হাত হারানো হৃদয়ের বাবা রবিউল শেখ।

হৃদয় বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে হৃদয়। পাশেই বসে রয়েছেন বাবা রবিউল ইসলাম। হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সে বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমি কথা বলতে পারিনা কথা বললে আমার মাথা ঘুরায়।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ সদরের বেতগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন হৃদয়। ট্রাকের ধাক্কায় তার ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।













রক্তাক্ত হৃদয়কে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হৃদয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের পুলিশ লাইন এলাকায়। বাবা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস বাসের সুপারভাইজার। হৃদয়ও ওই বাসের সহকারী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালক জাকির হোসেনকে (২৮) গত মঙ্গলবার বাগেরহাটের কাটাখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

হৃদয়ের বন্ধু শাকিল মো. শিকদার বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া থেকে গোপালগঞ্জে যাওয়ার পথে হৃদয় বাসের একদম পিছনের আসনে জানালার পাশে হাতের কুনি বের করে বসে ছিলেন, তখন সেই বাসের সঙ্গে একদম ঘেসে একটি ট্রাক ওভারটেক করছিল। এ সময় জানালার কাচ সজোরে এসে হৃদয়ের হাতে লাগে, সঙ্গে সঙ্গে তার ডান হাত ছিঁড়ে পড়ে যায়।’

তিন ভাই বোনের মধ্যে হৃদয় সবার ছোট। পড়াশোনায় আগ্রহ থাকায় উন্মুক্ত স্কুল থেকে এসএসি পরীক্ষা দেয়ার কথা হৃদয়ের। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে আরও আগে। ছোট বোনের বিয়ের কথা চলছে।













ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. শামসুজ্জামান শাহীন বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘হৃদয়ের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। তার ডান হাত বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তবে মাথায় বড় ধরনের আঘাত না থাকায় ঝুঁকিমুক্ত। তবে কয়েকদিন না গেলে নিশ্চিত করে কিছু বরা যাবে না।’







তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে তার হাতে একটি অপারেশন করা হয়েছে। পরবর্তিতে তার হাতে স্কিন ড্রাফ্ট বা প্লাস্টিক সার্জারি করা হবে। পাঁচদিন পর তার কৃত্তিম হাত লাগানো নিয়ে আলোচনা হবে। কৃত্তিম হাত আসল হাতের মতো না হলেও কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আমরা আশা করছি।’