Tuesday , 22 May 2018

ব্রেকিংঃ টঙ্গীতে রেল দুর্ঘটনা, নিহত ৩…বিস্তারিত জানুন…

টঙ্গীতে রেল দুর্ঘটনা – গাজীপুরে টঙ্গীর নতুন বাজার এলাকায় আজ রোববার দুপুরে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে তিনজন নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।







ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন







দুর্ঘটনার পর থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গাজীপুরের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা জানিয়েছেন টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হক। জামালপুর থেকে কমিউটার ট্রেনটি ঢাকায় যাচ্ছিল বলে তিনি জানান। ওই এলাকায় ট্রেনটির চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অন্য লাইনে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।

উত্তরের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধের বিষয়টিও জানিয়েছেন রাকিবুল।

রেল কেন দুর্ঘটনায় পড়ে

নিয়মিত রেললাইন পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় বার বার দুর্ঘটনা হচ্ছে রেলে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকে অফিসে বসেই পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দিয়ে বিল তুলে নিচ্ছেন। তাছাড়া দক্ষ চালকের অভাব, লোকবলের তীব্র সংকট, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়াও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।







ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন







দেশের কোনো না কোনো স্থানে এখন প্রায় প্রতিদিনই রেল দুর্ঘটনা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার বার। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পথে প্রায়ই যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকছে রেল যোগাযোগ। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কুমিল্লার অদূরে রসুলপুর ও রাজাপুর রেলস্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় গত ১৭ মে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। সেদিন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের রেল যোগাযোগ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। চলতি মাসের শুরুতে যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে দিনাজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর একতা এঙ্প্রেস ট্রেনটি। খোদ রাজধানীতে কয়েকদিন আগে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

নিরাপদ যাত্রার জন্য সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ ট্রেনকে বেছে নেন। কিন্তু অস্বাভাবিক হারে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত যাত্রা করা অনেক যাত্রীই আতঙ্কিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলবে কীভাবে? তার জন্য যে নিয়মিত পরিচর্যা দরকার, সেটিই ঠিকমতো হচ্ছে না। লাইনের সঙ্গে ট্রেনের চাকার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কিন্তু এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবার আগে দরকার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ।’ তিনি বলেন, ‘একদিকে লোকবল সংকট, অন্যদিকে যাদের যে কাজ করার কথা তারা সেই কাজ সঠিকভাবে করছেন না। রেলওয়ের যেসব সরঞ্জাম রয়েছে, সেগুলোও যথাযথ ব্যবহার করা হচ্ছে না।’













সূত্র জানায়, রেলপথ ঠিক আছে কিনা, কোথায়ও কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলো কিনা- এসব বিষয় নিয়মিত পরিদর্শন করতে হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে রেলপথ পরিদর্শন করার কথা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও তার অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কিন্তু প্রকৌশলীরা এখন আর নিয়মিত মাঠে যান না। রেল লাইন পরিদর্শন করেন না। তবে প্রতিদিন পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে টিএ বিল ঠিকই উঠিয়ে নিচ্ছেন। অধিকাংশ প্রকৌশলীই অফিসে কিংবা বাসায় বসেই পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন। আর প্রকৌশলীরা লাইনে না যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে যেসব কর্মচারী রয়েছেন তারাও ফাঁকি দিচ্ছেন। এসব কারণে এখন ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, রেলওয়েতে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। এই সংকটের মধ্যে মাস্টাররোলে দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয় লাইন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। কিন্তু মাস্টাররোলের কর্মচারীদের একটা অংশ লাইনে কাজ না করে কর্মকর্তাদের বাসা ও অফিসে ফরমায়েশের কাজে ব্যস্ত থাকছেন। এ কারণে রেলপথ থাকে অরক্ষিত। বিভিন্ন স্থান থেকে যন্ত্রাংশ, স্লিপার, পাথর চুরির ঘটনাও ঘটছে।







জানা গেছে, পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখন ব্যস্ত বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হওয়ার জন্য। অনেকে আবার পিডি হয়ে সেই প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত। ফলে লাইনে মনোযোগ দেওয়ার সময় তাদের নেই। এ ছাড়া আছে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চালকের অভাব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকজন চালক অবসরে গেলে নতুনরা ট্রেন চালানোর কাজ করছেন। তাদের অনভিজ্ঞতার কারণেও দুর্ঘটনা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. তাফাজ্জল হোসেনও স্বীকার করেছেন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঘন ঘন দুর্ঘটনা হচ্ছে।







তবে আগের চেয়ে দুর্ঘটনা অনেক কমেছে দাবি করে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘তারপরও যে দুর্ঘটনা ঘটছে, এর প্রধান কারণ লোকবল সংকট। যেখানে প্রতি ছয় কিলোমিটারে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণে ২০ জন লোক থাকার কথা, সেখানে আছেন মাত্র দুই-একজন।’